বিজ্ঞাপন

বাজেটে করপোরেট কর কমানের দাবি ঢাকা চেম্বারের

মার্চ ২৫, ২০২০ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আগামী তিন অর্থবছরের বাজেটে পর্যায়ক্রমে করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ। একইসঙ্গে তিনি করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।

বিজ্ঞাপন

শামস মাহমুদ আগামী ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রোগ্রেসিভ হারে সব স্তর থেকে করপোরেট কর হার পর্যায়ক্রমে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ হারে কমানোর দাবি জানান। প্রস্তাবে তিনি বলেন, করপোরেট ট্যাক্স কমায় পুনঃবিনিয়োগ করা হলে নতুন র্কমসংস্থান তৈরি হবে, যা কর আহরণের নতুন উৎসও তৈরি করবে।

বুধবার (২৫ র্মাচ) ২০২-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য ডিসিসিআই‘র ১১ দফার একটি প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেনের কাছে পেশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ। এ সময় ডিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি এন কে এ মবিন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের  কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ তার প্রস্তাবে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা এবং ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর সর্বনিম্ন হার ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হোক। কারণ বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হার ও বর্ধনশীল জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনায় রেখে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি কর প্রক্রিয়া সহজ করা ও করের আওতা বাড়ানোর জন্য সম্পূর্ণ অটোমেটেড অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এর ফলে দেশের কর প্রদান ব্যবস্থা সহজ হবে এবং ব্যবসার পরিবেশ সূচক উন্নয়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ডিসিসিআই সভাপতি ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে কর রেয়াত সুযোগের পরিবর্তে ৫ শতাংশ, ৭.৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ অথবা যেকোনো হারে ভ্যাট দিলে কর রেয়াতের সুযোগ দেওয়ারও প্রস্তাব করেন।

এছাড়াও ডিসিসিআই‘র প্রস্তাবে শিল্পায়নের ধারাকে বেগবান করার জন্য রফতানিমুখী শিল্পপণ্য উৎপাদন বাড়াতে ও রফতানি বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে শিল্পপণ্য উৎপাদনে সব ধরনের কাঁচামাল ও মেশিনারিজের ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের ডিজাইন ও ডামি সেন্টার, স্যাম্পল, ইটিপি, জ্বালানি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ারও প্রস্তাব করা হয়।

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক টার্নওভারের লিমিট তিন কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে চার কোটি টাকা নির্ধারণ করা এবং পণ্যের ভ্যালু অ্যাডিশন বা মুনাফা অনুপাতে ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন। বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণের আওতা এবং মান বাড়াতে সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান এবং বিদ্যুৎ খাতের আমদানি বিকল্প ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পগুলোকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতকে সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য অ্যাকসেসরিজ উৎপাদনে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন