বিজ্ঞাপন

‘তোরা জয় বাংলাকে মানুষের কাছে তুলে ধর’

March 26, 2020 | 9:13 am

কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবাষির্কীতে তাকে মনে করছেন তার স্নেহধন্যরা। তেমনই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ। এখনও তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল বঙ্গবন্ধুর সমস্ত স্মৃতি। সেই সব দিন যেন তিনি এখনও অনুভব করে মনে। এখনও শুনতে পান বঙ্গবন্ধুর ভরাট কণ্ঠস্বর।

গৌরীপুরের মনাটি ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম হমিদউদ্দিন আহমেদের ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্যে নাজিম উদ্দিন দ্বিতীয়। ১৯৫০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ শহরেই জন্ম তার। গৌরীপুরের মনাটি থেকে প্রাইমারি, শ্যামগঞ্জ থেকে মেট্রিকুলেশন, গৌরীপুর সরকারি কলেজ ও ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

এরপর ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সময় প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। নাজিম উদ্দিন বলেন, “সরাসরি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রথম দেখা হয় ১৯৬৯ সালে। ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হতেই (তিনি কি আমায় চিনতেন কি না আমি জানি না) একদম সুপরিচিতের মতো তিনি বললেন ‘তুই কি সভা দেখতে আসছিলি, যা ময়মনসিংহ চলে যা’। গায়ে থাকা হাফ শার্টের পকেট থেকে ৫০ টাকা বের করে বলেন, ‘সংগঠনকে শক্তিশালী ও আন্দোলন বেগবান কর’।”

এরপর বঙ্গবন্ধু ময়মনসিংহে এসেছিলেন শুভেচ্ছা সফরে। পরে ১৯৭০ সালের নির্বাচনি জনসভায় যাওয়ার আগে সৈয়দ নজরুল ইসলামের বাসায় দেখা হলে আমি তাঁকে জানাই, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান অনেকেই মনে করেন এটা হিন্দুদের স্লোগান। তাই অনেকেই আওয়ামী লীগ করে, কিন্তু এ স্লোগান নিয়ে দ্বন্দ্ব করছে। বঙ্গবন্ধু তখন ক্ষুব্দ কণ্ঠে বললেন, ‘রাজনীতিতে আমার একটা আদর্শ আছে। তোরা জয় বাংলাকে মানুষের কাছে তুলে ধর, জনপ্রিয় করে তোল। একে সার্থক করলেই আমার রাজনীতি সফল।’

স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে পরাধীনতার গ্লানি থেকে দেশ মুক্ত করার পর ১৯৭২ সালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হতেই তিনি আমাকে বললেন, ‘এ্যাই তুই কি রাইফেল চালাতে পারছস? এতো ওজনের রাইফেল তুই চালিয়েছিস কিভাবে?’ এরপর তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘তোর যে স্বাস্থ্য, এই শরীরে বন্দুক তোলা কঠিন।’

১৯৭৩ কি ৭৪ সালের দিকে ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে নাজিম উদ্দিন মঞ্চে সঞ্চালনা করছিলেন। জনসভায় মঞ্চে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রফিক উদ্দিন আহাম্মদসহ অন্য নেতারা। বক্তব্য দেয়ার আগে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আমি বক্তব্য দেওয়ার পর আর কারও বক্তব্য কেউ শুনবে না। তাহলে কি করবেন আপনারা’। তখন বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের আগেই জেলা সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

এরপর বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ভুইয়াকে মন্ত্রী করার জন্য সুপারিশ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলে বঙ্গবন্ধু হেসে নাজিম উদ্দিনকে বললেন, ‘মার থেকে মাসীর দরদ বেশী। ওর জন্য চিন্তা তোদের করতে হবে না। আমিই ওকে নিয়ে ভাবছি। রফিক তো আমার’।

নাজিম উদ্দিন বর্তমানে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ময়মনসিংহ শহরেই থারেকন তিনি।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন