বিজ্ঞাপন

ওরশ বন্ধ করতে বলায় পুলিশের ওপর হামলা

মার্চ ২৬, ২০২০ | ১২:২৭ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: বগুড়ায় একটি মাজারের ওরশ মাহফিল বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন ওই মাজারের অনুসারীরা। এ ঘটনায় পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শহরের গোয়ালগাড়ী এলাকায় শাহ্ ছেরাজুল হক চিশতীর মাজরে এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ২৫ মার্চ ওই মাজারের ওরশ আয়োজনের খবর জেনে তারা কয়েকদিন ধরেই মাজার কমিটিকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বুধবার দুপুরেও পুলিশ সদস্যরা মাজারে গিয়ে ওরশ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু গণজমায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় আড়াইশ মানুষ ওই ওরশে সমবেত হন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, রাত নয়টার দিকে মাজারে গিয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু খান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদুর রহমান আবারও ওরশ বন্ধের অনুরোধ জানালে মাজার অনুসারীরা তাদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে তারা লাঠি দিয়ে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধরক পেটান।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, রাত ১০টার দিকে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মাজার থেকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় মাজারের বিভিন্ন কক্ষ থেকে ২০ অনুসারীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের সাবেক দুই কমিশনার নুরুল আমীন ও শফিকুল ইসলাম নয়নও রয়েছেন। মাজার অনুসারীদের মারপিটে দুই পুলিশ সদস্য হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

ওসি আরও জানান, শাহ্ ছেরাজুল হক চিশতী ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের বাবা। ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাজীউল হক এই মাজারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তার ছেলে রাহুল গাজী এই মাজারের দেখভাল করতে শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সারাবাংলা/আরএফ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন