বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও স্বীকৃতি পায়নি ফুটবলযোদ্ধারা

মার্চ ২৬, ২০২০ | ৬:২৫ অপরাহ্ণ

জাহিদ-ই-হাসান, স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে স্বাধীনতাকামী মানুষরা তখন যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের বর্বরতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার স্বপ্নবাজরা রণাঙ্গনে। নয় মাসব্যাপী এ যুদ্ধে অনন্য অবদান রেখেছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। মাঠে দেশের লাল-সবুজ পতাকা নিয়ে প্রতিবাদসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ যোগান দেওয়ার জন্য নেমে পড়েছিলেন ফুটবল যোদ্ধারা। একমাত্র ক্রীড়া দল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জায়গা পাওয়া সেই ফুটবলযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার এত বছরেও একটা আক্ষেপ নিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও জাতীয় স্বীকৃতি মেলেনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের। যারা মু্ক্তিযুদ্ধের সমর্থনে, বৈশ্বিক স্বীকৃতি আদায়সহ, মাঠেই ফুটবলকে হাতিয়ার বানিয়ে লড়াই করে গিয়েছিলেন তারা এখনও কোনো স্বীকৃতি পায়নি দেশ থেকে।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলই এমন একটা দল যারা বিশ্বের কোনো দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ ছিলো। সেই ইতিহাস গড়া দলটা স্বাধীনতার এত বছরেও এখনও স্বীকৃতিহীন!

বিজ্ঞাপন

এই আক্ষেপটা এখনও পোড়ায় জাতীয় দলের প্রধান সংগঠক ও প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমান প্যাটেলের, 'মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এত বছরেও স্বাধীন বাংলা দল স্বীকৃতি পায়নি সেটা বড় আক্ষেপের বিষয়। আমরা যদিও পুরস্কারের জন্য ফুটবল নিয়ে মাঠে নামিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার আছে বলেই আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি স্বীকৃতি পাবো।'

১৯৭১ সালে ১৩ জন ফুটবল দল গড়ার অনুমোদন পেয়ে শত বাধার মধ্যেও দল গঠন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বল নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়েছিলেন ৩৫ ফুটবল সদস্য। সেসময় প্রায় ১৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের ফান্ডে অবদান রেখেছিল কাজী সালাউদ্দিন-আশরাফ-পিন্টুরা। মু্ক্তির পরে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে স্বীকৃতি দেওয়ার চিন্তা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের এমনটাই জানালেন প্যাটেল, 'বঙ্গবন্ধুর জৈষ্ঠ্য পুত্র শেখ কামাল নিজে একদিন মাঠে বলেছিলেন -তোমাদের জন্য শুভ সংবাদ আসতেছে।'

তারপরপরই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন বঙ্গবন্ধু পরিবার। তখন থেকেই ঝুলে থাকে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি। সবশেষ ২০১৩ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে একবার নামও পাঠানো হয়েছিল। সেবারও স্বীকৃতি পাওয়া হয়নি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের। এখনও সেই আক্ষেপের রেখা অবিরাম ছুটছে।

অবশ্য বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে স্বাধীন ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুকে (সেসময় ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে ছিলেন) স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। ব্যক্তি পিন্টু পেলেও ফুটবল দল স্বীকৃতিহীন থেকে যায়। যদিও এর কোনো কূলকিনারা খুঁজে পান না দলের ম্যানেজার তানভীর মাঝহার তান্না, 'আমি এখনও বুঝে উঠতে পারি না কেন এখনও আমরা স্বীকৃতি পাচ্ছি না। কে কি করলো তাদের পুরো দলের অবদানের উপরে প্রশ্ন আসাটা বিব্রতকর। আমরা স্বীকৃতি পাওয়ার যথেষ্ট যোগ্যতরা রাখি।'

অবশ্য অধিনায়ক পিন্টু এটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অবশ্যই স্বাধীনতা পদক পাওয়া উচিত, 'স্বাধীনতার এত বছর হতে চলল। অথচ এখনও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল স্বাধীনতা পদক বা জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পায়নি। আমি তাই বলতে চাই, জাতীয়ভাবে আমাদের স্বীকৃতি মেলেনি। অথচ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল স্বাধীনতা পদক পাওয়ার যোগ্য দাবিদার।’

এর মাঝে অবশ্য দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীন ফুটবল দলের কয়েকজন ফুটবলারকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। দলের বিশ্বাস বর্তমান সরকার শিগগিরই স্বীকৃতি দিবে। প্যাটেলের কথায়, 'বঙ্গবন্ধুর কন্যা তারই মতো ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। তার সঙ্গে আমাদের গত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে কিছু বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবো।'

সারাবাংলা/জেএইচ/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন