বিজ্ঞাপন

কোয়ারেনটাইনে প্রথম দিন কেমন গেলো খালেদার? দেখে এলেন চিকিৎসকরা

মার্চ ২৭, ২০২০ | ১:২৯ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কারামুক্তির পর হোম কোয়ারেনটাইনে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম দিন কেমন গেলো— তা দেখে এলেন চিকিৎসকরা। সব নিয়ম-কানুন মেনেই খালেদা জিয়ার বাসা ‘ফিরোজা’য় যান তারা এবং কোয়ারেনটাইনের নিয়ম মেনেই চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণ করেছেন— এমনটিই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরের পর খালেদা জিয়ার বাসায় যাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ডা. এফ এফ রহমান, প্রফেসর ডা. রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. আব্দুল কুদ্দুস, প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমেক বলেন, ‘খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকদের পরামর্শে সেলফ কোয়ারেনটাইনে রয়েছেন। তার অবস্থা আগের মতোই। তবে নিজের পরিবেশে থাকার কারণে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তি বোধ করছেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমরা কোয়ারেনটাইন-আইসোলেশনের নিয়ম মেনে তাকে পর্যবেক্ষণ করব। আজ আমরা কিছু ওষুধের ডোজ কমিয়ে-বাড়িয়ে দিয়েছি। কোয়ারেনটাইন শেষে ওনার অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। আমরা চেষ্টা করব উনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ করে তোলার।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। হাঁটতে পারছেন না। ঠিকমত বসতেও পারছে না। সেই সঙ্গে তার শ্বাসকষ্টও রয়েছে। তবে বাসায় আসার পর মানসিকভাবে অনেকটাই ভালো আছেন তিনি। নাতিদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে একটু উৎফুল্ল অনুভব করছেন, কথা বলছেন। হাসপাতালে খুব বেশি কথা বলতেন না তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আপাতত বাসায়ই ডাক্তার দেখানো হচ্ছে। অন্য হাসপাতালে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। আগামী ১০ দিন তাকে কোনো জায়গায় মুভ করানো সম্ভব নয়। পরে তিনি যদি মনে করেন তাহলে দেখা যাবে। তিনি সাধারণত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।’

এর আগে দীর্ঘ ২৫ মাস ১৭ দিন কারাভোগের পর বুধবার বিকেলে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। এর মধ্যে তার জামিনের সব প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনের আবেদন করেও সাড়া পায়নি তার পরিবার।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইনমন্ত্রী জানান, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সময় তাকে নিজ বাসায় থাকতে হবে এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না— এই দুইটি শর্ত আরোপ করা হয়।

বুধবার খালেদা জিয়ার বাসা ফিরোজায় তার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শরীর খুবই খারাপ। তার ওপর চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে তার চিকিৎসকরা খুবই চিন্তিত। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে ম্যাডামের চিকিৎসকরা তাকে হোম কোয়ারেনটাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন থেকে তিনি হোম কোয়ারেনটাইনে থাকবেন।’

আরও পড়ুন- মুক্তি পেলেন খালেদা

করোনাভাইরাসের সবশেষ তথ্য দেখুন- করোনা: লাইভ আপডেট

সারাবাংলা/এজেড/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন