বিজ্ঞাপন

শাহজালাল বিমানবন্দরে পিনপতন নিরবতা

মার্চ ২৭, ২০২০ | ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সকাল থেকে রাত। টানা ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ততা। দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হাঁকডাক। যেন দম ফুরানোর ফুসরত নেই। একের পর এক নামছে ফ্লাইট। এক বেল্ট থেকে অন্য বেল্টে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নজরদারি। কিন্তু এর কিছুই নেই এখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরজুড়ে এখন পিনপতন নিরবতা।

বিজ্ঞাপন

কারণটাও কারও অজানা নয়। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারি আকার ধারণ। এই ভাইরাসের কারণেই সারাবিশ্ব আকাশ পথের যোগাযোগ করেছে বিছিন্ন। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটই কেবল নয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইটও বন্ধ করেছে।

বুধবার বিকেলে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা গেল, পুরো বিমানবন্দরজুড়ে পিনপতন নিরবতা। শুধু বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তারাই ফাঁকা বিমানবন্দরে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে গড়ে প্রতিদিন ২০ হাজার যাত্রীর আনাগোনা যেই শাহজালালে, সেটি এখন পরিণত যেন ভুতুড়ে অঞ্চলে।

বিজ্ঞাপন

বিমানবন্দরের সামনে টার্মিনাল ১ ও ২ দিনরাত মুখরিত থাকত গাড়িচালক আর বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের পরিবার-পরিজনদের পদচারণায়। সেই চত্বর এখন পুরোটাই শূন্য। আর শাহজালালালে কাজ না থাকায় ভেতরে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পার করছেন অলস সময়। তবে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে তাদের রয়েছে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সারাদিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের বিজি০৮ ফ্লাইটটি ম্যানচেস্টার থেকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণ করেছে। মধ্যরাতে হংকং থেকে একটি আর চীনের গুয়াং থেকে আরেকটি ফ্লাইটও আসার কথা রয়েছে। তবে সেই দুই ফ্লাইটেও যাত্রী সংখ্যা সামান্য। এছাড়া মালয়েশিয়ার কয়েকজন কূটনৈতিকদের নিয়ে বুধবার একটি বিশেষ ফ্লাইট শাহজালাল থেকে ছেড়ে গেছে। সারাদিনে শাহজালালের কর্মব্যস্ততা বলতে এটুকুই।

শাহজালালের বাইরে দায়িত্ব পালন করছিলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। পুরো বিমানবন্দরে তাদের প্রায় ১১শ সদস্য দায়িত্বরত। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন এখানে।

নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত নিরাপত্তায় আমাদের ১১শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। তারা সেটাই করে যাচ্ছেন।

শাহজালালের সার্বিক বিষয়ে নিয়ে বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল-আহসান সারাবাংলাকে বলেন, বুধবার সারাদিন বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শাহজালালে অবতরণ করেছে। যে ফ্লাইটটিতে যাত্রী সংখ্যা ছিল ৩০ থেকে ৩৫জন। আন্তর্জাতিক চারটি রুট ছাড়া এখন সব রুটে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী স্বাভাবিক না হলে বিমান চলাচল খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হবে, সে সম্ভাবনাও দেখছি না।

এর আগে, চীন, যুক্তরাজ্য, হংকং ও থাইল্যান্ড— এই চারটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের ফ্লাইট গত ২২ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিক (ড্রাগন এয়ার) ২৮ মার্চ থেকে আর আসবে না। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের যে ফ্লাইটটি আসছিল, সেটিও বুধবার থেকে আসছে না। অর্থাৎ এখন আন্তর্জাতিক রুটের কেবল যুক্তরাজ্য ও চীনের ফ্লাইটই কার্যত সচল রয়েছে।

এদিকে, দেশের মোট আটটি বিমানবন্দরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পাঁচ বিমানবন্দরের (কক্সবাজার, যশোর, বরিশাল, সৈয়দপুর ও রাজশাহী) কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে বন্ধ। এর বাইরে ‍মূলত চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শাহজালাল ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন