বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের তথ্য নিচ্ছে পুলিশ, জানে না স্বাস্থ্য অধিদফতর

March 27, 2020 | 9:59 pm

রাজনীন ফারজানা

ঢাকা: থানা থেকে ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ফোন দিয়ে চিকিৎসকদের তথ্য ও মোবাইল নম্বর জানতে চাইছে পুলিশ। তথ্য দেওয়া দেওয়া হচ্ছে ইমেইল আইডিও।  এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের এ সময়ে চিকিৎসকরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন কি না তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের এ পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া এ সব তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেগুলো নিয়ে কী করবে সে বিষয়েও সদুত্তর মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধানমন্ডি এলাকার এক হাসপাতালে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ফোন আসে স্থানীয় থানা থেকে। জানতে চাওয়া হয় চিকিৎসকদের তালিকা ও মোবাইল নম্বর। থানা থেকে একটি ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়া হয় এ সব তথ্য দিতে।

বিজ্ঞাপন

যে তিনটি বিষয় জানতে চেয়েছে তা হলো হাসপাতালে কতজন ডাক্তার আছে, এখন কতজন চেম্বার করেন ও তাদের মোবাইল নম্বর।

তবে ইমেইল অ্যাড্রেসে সে সব তথ্য দিতে বলা হয়েছিল তা সংশ্লিষ্ট ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দেয়নি।

বিষয়টি জানার জন্য নিউমার্কেট থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখানে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই সিরাজ বলেন, সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে করোনার এই সময়ে তারা নিউ মার্কেট থানাধীন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।

কী সব বিষয় জানতে চাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সিরাজ বলেন, কোন হাসপাতালে কতজন চিকিৎসক কর্মরত আছেন সেটি জানাই উদ্দেশ্য।

তবে এ তথ্য দিয়ে কী হবে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এটি নিয়িমিত রুটিন চেকের অংশ।’

হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসকরা সময়মত ডিউটিতে আসছেন কিনা সেটি জানতে চান তারা। এমনকি সারাবছরই স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন খোঁজ নেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিয়মিত আসেন কি না সেই খোঁজ নেওয়া হয়। তেমনই এখন করোনার এই সময়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা যার যার ডিউটি সময় অনুযায়ী আসছেন কিনা সেটি নিশ্চিত করার জন্য খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, বলেন ওসি জিল্লুর রহমান।

একইসঙ্গে কতজন রোগী জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে আসছে। কোন রোগী ফিরে যাচ্ছেন সেটিও জানতে চাইছেন তারা। এরইমধ্যে কয়েকটি হাসপাতাল থেকে তাদের কাছে মেইল করা হয়েছে বলেও জানান নিউমার্কেট থাকার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান।

এটি কবে থেকে শুরু হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অন্য কোথায় কবে থেকে শুরু হয়েছে তা জানি না। নিউমার্কেট থানায় শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে।’

এমনকি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরাও বিশেষ এ পরিস্থিতিতে ঠিকমতো কর্মস্থলে আসছেন কি না সেটিও ওপর মহল থেকে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

হাসপাতালগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের তথ্য দেবেন কি না এ ব্যপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানায়, এ ব্যপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর কিছু জানে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের কর্মস্থলেও একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য গিয়েছিলেন। ওয়াকিটকি হাতে ঢুকতে দেখে কৌতূহলি হয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সবাই ঠিকমত কাজ করছে কি না তা মনিটরিং করতে এসেছেন।’

মুগদা থানার অন্তর্ভুক্ত মুগদা জেনারেল হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠান থেকেও চিকিৎসকদের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তারা ধারণা করছেন, সরকারিভাবে মেডিকেল টিম গঠনের জন্য এ তথ্য চাওয়া হতে পারে।’

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, ‘সব ডাক্তারদের ঠিকানা, টেলিফোন, এনআইডি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু স্বাস্থ্য অধিদফতরের এবং মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটারে রক্ষিত আছে। সরকার চাইলে কয়েক মিনিটে তা বের করতে পারে। তাই হঠাৎ করে এভাবে নম্বর চাওয়ার ঘটনায় তারা বিস্মিত।’

এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিএমপি মিডিয়া অফিসারও কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সারাবাংলা/আরএফ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন