বিজ্ঞাপন

চীন ছাড়া সব দেশের সঙ্গে বিমান বন্ধ বাংলাদেশের

March 28, 2020 | 5:52 pm

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শুধু চীনের সঙ্গেই আকাশ পথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বাংলাদেশের আকাশ যোগাযোগ।

বিজ্ঞাপন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা যায়, ২১ তারিখ রাত থেকে চারটি রুট ছাড়া সকল দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাংলাদেশ। আর সেই চারটি রুট ছিল, হংকং, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও চীন। কিন্তু যাত্রী না থাকায় হংকং থেকে আসা ক্যাথে প্যাসেফিক (ড্রাগন এয়ার) ২৬ তারিখ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করেছে। আর থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজ ২৫ তারিখ থেকে একই কারণে বাংলাদেশে আসছে না। ফলে দুটি রুটে দুই এয়ারলাইন্স নিজেরাই যাত্রী স্বল্পতায় বাংলাদেশে আসা বন্ধ করেছে।

অপরদিকে ২৭ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে রুটে বাংলাদেশ বিমান তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ফলে লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে বাংলাদেশ বিমানের সর্বশেষ ফ্লাইট যাচ্ছে ২৯ মার্চ, ৩০ মার্চ ফ্লাইটটি ফিরে আসার পরে পরবর্তী ৭দিন ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। ফলে বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশ বিমানের আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ সকল ফ্লাইট।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় চীনের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করেছে বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলা। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, আগামী ২৯ মার্চ থেকে ঢাকা গুয়াংজু রুটে সপ্তাহে রোববার একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যেখানে এয়ারলাইন্সটি করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও গুয়াংজুতে সপ্তাহে তিনটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। সংস্থাটিও যাত্রী স্বল্পতার কথা জানিয়েছে।

অপরদিকে চীনের চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সও তাদের ফ্লাইট সীমিত করেছে বাংলাদেশে। ফলে বাংলাদেশের এখন শুধু আন্তর্জাতিকভাবে চীনের সঙ্গেই আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু আছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান সারাবাংলাকে বলেন, চারটি রুটে আমাদের বিমান চলাচল ছিল যারা বাংলাদেশে ফ্লাই করত। কিন্তু যাত্রী স্বল্পতার কারণে দুটি এয়ারলাইন্স হংকং এবং থাইল্যান্ড নিজেরাই তাদের অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে। আবার বাংলাদেশ বিমানও লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে তাদের ফ্লাই বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের এখন শুধু চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।

এদিকে করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং রাজস্ব শূন্যের কোটায় চলে আসার কারণে গত ২২ মার্চ আগামী ৩ মাস সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স সংস্থা রিজেন্ট এয়ারলাইন্স। তবে পরিস্থিতি এর মধ্যে ভালো হলে ফ্লাইট অপারেশনে যাবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটির সিইও ইমরান আসিফ।

এর আগে ২৬ মার্চ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক রুটের সকল ফ্লাইট আরও বেশি দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ বিমান। সেই সিদ্ধান্তে জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, দাম্মাম, কুয়েত, দোহা, মাস্কাট এবং ব্যাংকক রুটের ফ্লাইট ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। দুবাই ১ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল, আবুধাবি ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল, কাঠমান্ডু ১ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল, কলকাতা দিল্লি ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল, মালয়েশিয়া ১ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল এবং সিঙ্গাপুরে সকল ফ্লাইট ১ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আগে ৩১ মার্চ পর‌্যন্ত বন্ধ রাখা ছিলো ফ্লাইটগুলো। অপরদিকে অভ্যন্তরীণ রুটে ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ বিমান।

২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স সংস্থা ইউএস-বাংলা। সংস্থাটিও তাদের ফ্লাইট বেশিদিন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২৯ মার্চ থেকে শুধুমাত্র প্রতি রোববার ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বর্তমানে সপ্তাহে ৩দিন করে ফ্লাইট গুয়াংজু পরিচালনা করে আসছিল। অপরদিকে দোহা রুটে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত থাকলেও সেটা বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল, কলকাতা ও চেন্নাই রুটে ফ্লাইট ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও সেটা বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল, সিঙ্গাপুর রুটে ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও সেটা আরও বাড়িয়ে ৭ এপ্রিল, মাস্কট রুটে ২৯ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করা হলেও সেটা বাড়িয়ে ৪ এপ্রিল আর ব্যাংকক রুটে ১৮ মে পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে।

একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ রুটে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সংস্থাটির সকল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে বলে ইউএস-বাংলা জানিয়েছে।

সারাবাংলা/এসজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন