বিজ্ঞাপন

‘নিউ ইয়র্ক সায়েন্স জার্নালে’ গণস্বাস্থ্যের কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতি

March 28, 2020 | 11:29 pm

কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবনের পর বিভিন্ন মহল থেকে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশ্বের প্রভাবশালী একটি গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত ওই পদ্ধতি কোভিড-১৯ শনাক্তে কোনো কাজে আসবে না। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী একজন বাঙালি গবেষকের বরাত দিয়ে কিছু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দ্রুত টেস্ট পদ্ধতি কোভিড-১৯ খুব একটা কাজে আসবে না।

বিজ্ঞাপন

কেউ কেউ আবার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দ্রুত টেস্টিং পদ্ধতির উদ্ভাবকদের দিকে। তারা বলতে চেয়েছিলেন, যেকোনো নতুন গবেষণার প্রায়োগিকভিত্তি নির্ভর করে বিশ্বের স্বীকৃত জার্নালগুলোতে আর্টিকেল প্রকাশ ও বিশ্লেষণের ওপর। অনেকেই আবার জানতে চেয়েছিলেন, এই পদ্ধতিতে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণে আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে অনুমতি নিতে হবে কী না?

এতসব প্রশ্ন এবং বিতর্কের মধ্যেই গত ১৮ মার্চ বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পদ্ধতির জন্য ইংল্যান্ড থেকে রিএজেন্ট আনার অনুমতি দেয়। বৈশ্বিক যোগাযোগ বিশেষ করে আকাশ যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় এখনো রিএজেন্টগুলো গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের হাতে এসে পৌঁছেনি। কিন্তু কাজ থেমে নেই। কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পদ্ধতিকে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে দিতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ খবর হচ্ছে, বিশ্বের প্রভাবশালী জার্নালে এই গবেষণা নিয়ে আর্টিকেল প্রকাশের যে তাগিদ আসছিল সব মহল থেকে, সে কাজটিও সম্পন্ন করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সারাবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আমেরিকার মার্সল্যান্ড প্রেস (MARSLAND PRESS) থেকে প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক সায়েন্স জার্নাল (NEW YORK SCIENCE JOURNAL)-এ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কোভিড-১৯-এর টেস্টিং পদ্ধতির ওপর আর্টিকের ছেপেছে এবং তারা এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের আরও সাত/আটটি প্রভাবশালী জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশের সম্ভবনা রয়েছে। মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সারাবাংলার স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট আসাদ জামান। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

সারাবাংলা: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ কৌতুহল। সেইসঙ্গে কিছু প্রশ্নেরও উদ্ভব হয়েছে। বিশ্বের বড় কোনো জার্নাল আর্টিকেল প্রকাশ করেছে কী?

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: এটা নিয়ে শুধু বাংলাদেশের মানুষের না, পৃথিবীর অনেক দেশ এবং প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে। এরই মধ্যে সাত/আটটি দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা আমাদের এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চায়। কারণটা খুব পরিষ্কার। আমরা তো মাত্র দুই/তিন ডলার খরচে টেস্টিং সিস্টেম প্রোভাইড করতে চাচ্ছি। কিন্তু বৈশ্বিক যোগাযোগ স্থবির হয়ে পড়ায় রিএজেন্টগুলোই তো হাতে এসে পৌঁছালো না। আগামী সোমবার হাতে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দেখি কী হয়।

সারাবাংলা: আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: এই পদ্ধতির পেটেন্ট আগেই করা আছে। সুতরাং জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ খুব একটা ম্যান্ডেটরি না। তারপরও আমেরিকার আমেরিকার মার্সল্যান্ড প্রেস (MARSLAND PRESS) থেকে প্রকাশিত নিউ ইয়র্ক সায়েন্স জার্নাল (NEW YORK SCIENCE JOURNAL)-এ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ এর টেস্টিং পদ্ধতির ওপর আর্টিকের ছেপেছে এবং তারা এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বের আরও সাত/আটটি প্রভাবশালী জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশের সম্ভবনা রয়েছে।

সারাবাংলা: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই টেস্টিং পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে কী?

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: দেখ, আমরা তো মুখে খাওয়ার বা শরীরে পুশ করার ওষুধ আবিষ্কার করিনি। রোগ নির্ণয়ের জন্য আমরা একটা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি। এটির জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। আমাদের সরকার এর প্রায়োগিক শুদ্ধতা যাচাই করে অনুমোদন দেবে। সেজন্য আমরা তাদের কাছে স্যাম্পল পাঠাবো। আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ল্যাবরেটরিতে আমাদের বিজ্ঞানীরা দিন রাত কাজ করছেন। কারখানাও প্রস্তুত। রিএজেন্ট হাতে পেলেই কাজ শুরু করব।

সারাবাংলা: প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান কী হয়েছে?

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: এখন পর্যন্ত কোনো অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান বা সরকার টাকা-পয়সা নিয়ে এগিয়ে আসেনি। আমাদের যেটুকু আছে, তাই নিয়ে কাজ করছি। নগদ অর্থ আমাদের তেমন নেই। যেটা আছে, সেটা হলো স্থাবর সম্পত্তি। আমাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। কোনো ব্যাংক যদি ঋণ দেয়, তাহলে আমরা আমাদের সম্পত্তি বন্দক রাখতে পারি।

সারাবাংলা: এ ছাড়া অর্থ সংগ্রহের আর কোনো উপায় নিয়ে কী ভেবেছেন?

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: আমরা মনে করি, সাধারণ মানুষ আমাদের টাকা দেবে। আমরা তো এটা নিয়ে ব্যবসা করব না। মানুষের কল্যাণে আমাদের এই গবেষণালব্ধ পদ্ধতি কাজে লাগাব। সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষই আমাদের সহযোগিতা করবে। এখন যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো দোয়া। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

সারাবাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী: সারাবাংলাকেও ধন্যবাদ

আরও পড়ুন-

স্যাম্পলসহ পুরো টিম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে চাই: ড. বিজন

করোনা শনাক্তে ‘গণস্বাস্থ্যে’র রিএজেন্ট আসছে বৃহস্পতিবার

করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থ্যের পদ্ধতিকে সরকারের অনুমোদন

কিট নয়, কোভিড-১৯ শনাক্তের পদ্ধতি উদ্ভাবন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের

‘গণস্বাস্থ্যের পদ্ধতিতে’ আগামী এক মাসে ১ লাখ লোকের করোনা টেস্ট!

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন