বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে প্রান্তিক নারীদের করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি

March 30, 2020 | 4:58 pm

রোকেয়া সরণি ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের স্বল্প আয়ের নারীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকি অন্যান্য পেশাজীবীদের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে যে নারীরা নার্স কিংবা ফার্মেসিতে কাজ করেন বা অন্যান্য সমাজ সেবামূলক কাজে নিয়োজিত আছেন, তাদের এই ভাইরাসে আক্রান্তের আশঙ্কা প্রবল।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন উঠতে পারে— শুধু নারীরা কেন? দেশটির নিম্ন আয়ের পুরুষদের কি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই? যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিবিদদের একটি প্রতিষ্ঠান ‘অটোনমি’র সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, পুরুষদের ঝুঁকি থাকলেও নারীদের ঝুঁকি তার চেয়ে অনেক বেশি।

গবেষণা বলছে, যুক্তরাজ্যের ৩২ লাখ ব্যক্তি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত। এই পেশায় নিযুক্ত প্রত্যেকেই করোনা আক্রান্তের প্রবল ঝুঁকিতে আছেন। কারণ মাঠে-ঘাটে নেমে তাদেরই কাজ করতে হয়। বিশেষত অসুস্থ ও এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন— এমন ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকেন নার্স ও সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োজিত শ্রমজীবীরা।

বিজ্ঞাপন

এবার আসল কথায় আসা যাক। কেন যুক্তরাজ্যের নারীদের করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি— এ প্রসঙ্গে গবেষণার জরিপে উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত থাকা অংশের মধ্যে সিংহভাগই নারী। অর্থাৎ এই খাতে নিয়োজিত ৩২ লাখ নাগরিকের মধ্যে নারীই ২৫ লাখ। যেহেতু দেশটির জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত সেবামূলক পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর, সে কারণে ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি আছেন নারীরাই— এমন তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়।

সম্প্রতি গবেষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত অনেকেই কোয়ারেনটাইন ও আইসোলেশনে চলে গেছেন। এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৮৪ ভাগই নারী। ফলে এই খাতে লোকবল কমে গেছে। পরিস্থিতি সামলে নিতে এগিয়ে এসেছেন চাকরি থেকে অবসর নেওয়া অন্তত এক হাজার নার্স। তারা দেশটির সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন, অন্তত করোনা পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য হলেও তারা যেন কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান। তবে এই ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।

অটোনমির পরিচালক উইল স্ট্রং বলেন, ‘করোনা এখন বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত হয়েছে। এই মহামারি আমাদের অনেককিছু শেখাচ্ছে, সাদামাটাভাবে নয় বরং চোখে আঙুল দিয়ে-ই শেখাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র কেমন। শ্রমজীবী ও প্রান্তিক নারীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, অথচ দিনশেষে কাজের ন্যায্য মূল্যটুকু থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

উইল স্ট্রং আরো বলেন, ‘এই গবেষণাটি শ্রমজীবী নারীদের বেতন বৈষম্যেকে বিরাট পরিসরে দেখাতে চেয়েছে।’ নারীরা কাজের তুলনায় বেতন পাচ্ছেন না— এই বিষয়টি গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উইল স্ট্রং এর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন উইমেনস বাজেট গ্রুপের পরিচালক ড. ম্যারি আন স্টিফেনসন। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই এদেশের শ্রমজীবী নারীরা বেতন কম পান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদেরই বেশি। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, নারীদের বেতন বৈষম্য অধিকাংশক্ষেত্রে আলোচনায় তেমন আসে না।’

সারাবাংলা/টিসি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন