বিজ্ঞাপন

করোনা নিয়ে গুজব ছড়ালেই ব্যবস্থা, অভিযানে পুলিশ

April 1, 2020 | 10:15 am

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যখন একের পর মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, দেশে দেশে চলছে লকডাউন, দিশেহারা মানুষ- ঠিক এই সময়েও কিছু লোক গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত। তবে আশার ব্যাপার হলো, পুলিশ এক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে না। হুঁশিয়ারির পর এবার অ্যাকশন শুরু করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি বন্ধসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এছাড়া তাদের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী উপ-মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) মো. সোহেল রানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা সম্পর্কে গুজব ছড়িয়ে কিছু লোক দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এরই মধ্যে চাঁদপুর, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ঢাকার ডিএমপি ও কিশোরগঞ্জ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তবে ঠিক কোথায় কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিটিআরসির মাধ্যমে রাজধানীসহ সারাদেশের অন্তত ৫০টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব আইডির মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অ্যাকশন শুরু হয়েছে। গুজব ছড়ানো হচ্ছে এমন আরও ৮০ টির মতো আইডি, পেজ ও সাইটের বিরুদ্ধে কাজ করছে পুলিশ।’

বিজ্ঞাপন

এআইজি মিডিয়া আরও বলেন, ‘আইজিপি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে এসব অপপ্রচার না করতে সকলকে বলেছিলেন। এরপরও গুজব বন্ধ হয়নি। যারা গুজব ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।’

পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব রটানো ও ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, গেঞ্জি গায়ে ও লুঙ্গি পরিহিত এক যুবক মাটিতে বসে পড়েছেন। এক পুলিশ সদস্য তাকে হাত ধরে উঠানোর চেষ্টা করছেন। আরেকজন নারী পুলিশ সদস্য ওই যুবককে আঘাত করার জন্য লাঠি উঁচু করে রেখেছেন। যুবক ভয়ে হাত উঁচু করে আছেন। ছবিটি ‘লকডাউনের মধ্যে বাইরে বের হওয়ায় পুলিশ ওই যুবককে মারধর করছে’ বলে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। মহিলা পুলিশ সদস্যের মুখে মাস্ক পড়িয়ে এডিট করে এই ছবিটি দিয়েও এক শ্রেণির লোক গুজব রটিয়েছে। ছবিটি সারাদেশে পেট্রল বোমা হামলার সময় বিএনপির পার্টি অফিসের সামনের এক ঘটনার, বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিটে।

এ ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দুটি ছবি পেয়েছি, দুটোই ভুয়া। এগুলো এখনকার কোনো ঘটনার ছবি নয়। এই দুটি ছবির সঙ্গে জড়িত এবং গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য ছড়ানোর দায়ে ৩০টি ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাতজনকে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে ডেকে সতর্ক করে তাদের পোস্ট সংশোধন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অভিযানে সারাদেশ থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

এর আগে গত সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়াতে পুলিশ সদর দফতর থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা প্রতিরোধে গুজবকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। জাতির এই দুর্ভোগের সময় যেন কেউ গুজব রটিয়ে ফায়দা হাসিল করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তেমনই এক গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব কিছুই করোনার সংক্রমণ এড়াতে কাজ করছে, সেখানে গুটিকয়েক লোক গুজব ছড়িয়ে জল ঘোলা করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এসব দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন