বিজ্ঞাপন

গণস্বাস্থ্যে কোভিড ১৯ টেস্ট: প্রথম দফার রিএজেন্টে ১ লাখ স্যাম্পল

April 3, 2020 | 11:17 pm

আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার (৬ এপ্রিল) কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির কাঁচামাল (রিএজেন্ট) হাতে পাবেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। ইংল্যান্ড থেকে প্রথম দফায় আসা দশ আইটেমের ১০০ কেজি রিএজেন্ট দিয়ে এক লাখ স্যাম্পল বানাতে পারবেন তারা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চাহিদা প্রায় ২০ লাখ স্যাম্পল— এমনটিই মনে করছেন গণস্বাস্থ্যের বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত ১৮ মার্চ বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর দশ আইটেমের ১০০ কেজি রিএজেন্টে আমদানির এলসি খোলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা তখনই ধারণা করেছিলেন, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এই বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে প্রথম দফায় কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতির জন্য ২০ লাখ স্যাম্পল প্রয়োজন হবে। আর এ জন্য দরকার দুই হাজার কেজি রিএজেন্ট।

কিন্তু নগদ অর্থ না থাকায় প্রথম দফায় মাত্র ১০০ কেজি রিএজেন্ট আমদানির এলসি খোলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। বৈশ্বিক বিমান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় ইংল্যান্ডের দ্য ন্যাটিভ এন্টিজেন কোম্পানি (THE NATIVE ANTIGEN COMPANY) এখন পর্যন্ত সেই ১০০ কেজি রিএজেন্ট বাংলাদেশে পাঠাতে পারেনি। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন করে সর্বশেষ তারা জানিয়েছে আগামী ৬ এপ্রিল বিশ্বভিত্তিক ডাক পরিষেবা ‘ফিডেক্স এক্সপ্রেস’ (FedEx Express)- এর প্রাইভেট কার্গো বিমানে করে রিএজেন্টগুলো ঢাকায় পাঠাবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পদ্ধতির স্যাম্পল তৈরির জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাতে ওই পরিমাণ অর্থ নেই। অধিকন্তু এরইমধ্যে গবেষণা, রিএজেন্ট আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে বিরাট অংকের টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই মুহুর্তে অন্তত ২০ কোটি টাকা প্রয়োজন তাদের। এই টাকার জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে ধর্ণা দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাংক এগিয়ে আসেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কেউ টাকা দেয়নি। সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ হারে সুদে আমরা ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত জনগণের মঙ্গলের কথা বিবেচনা করে আমাদের ঋণ দেওয়া। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নগদ টাকা নেই। কিন্তু সম্পত্তি আছে। ২০ কোটি টাকা ঋণের জন্য ২০০ কোটি টাকার সম্পদ বন্ধক রাখতে রাজি আছি আমরা।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে রিএজেন্টগুলো হাতে পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি সহযোগিতা প্রয়োজন হবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিএজেন্টগুলো হাতে আসার পর প্রথমেই যেটা প্রয়োজন হবে, সেটি হলো কোভিড-১৯ আক্রান্ত পাঁচজন রোগীর পাঁচ টিউব রক্ত। আর এটি সরবরাহ করতে পারবে সরকারি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর (রোগতত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউট)। ইতোমধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত বিদেশি রোগীর রক্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পদ্ধতিতে টেস্ট করে দেখা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশি কোনো রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো বিদেশি রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছি, সেখানে আমাদের এই পদ্ধতির যথার্থতার প্রমাণ হয়েছে। বাংলাদেশে কোনো রোগীর ওপর এখন পর্যন্ত পরীক্ষা চালানো হয়নি। এ জন্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর রক্ত প্রয়োজন হবে আমাদের। আশা করি এ ব্যাপারে সরকার আমাদের সহযোগিতা করবে।’

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট ‘কেভিড-১৯’ নামক মরণঘাতী রোগ নিয়ে গোটাবিশ্ব যখন দিশেহারা, ঠিক তখন একটি ‘ভালো খবর’ দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে টেস্ট পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। যেটির মাধ্যমে সহজে ও সুলভ মুল্যে কোভিড-১৯ টেস্ট করা সম্ভব হবে। আর পদ্ধতি ব্যাবহার করে প্রতি মাসে অন্তত এক লাখ লোকের কোভিড-১৯ টেস্ট করা যাবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কিট নয়, কোভিড-১৯ শনাক্তের পদ্ধতি উদ্ভাবন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের
‘নিউ ইয়র্ক সায়েন্স জার্নালে’ গণস্বাস্থ্যের কোভিড-১৯ টেস্ট পদ্ধতি
‘গণস্বাস্থ্যের পদ্ধতিতে’ আগামী এক মাসে ১ লাখ লোকের করোনা টেস্ট!

 

সারাবাংলা/এজেড/একেএম/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন