বিজ্ঞাপন

ত্রাণের জন্য রাস্তার পাশে অপেক্ষা, লম্বা লাইন টিসিবি’র ট্রাকেও

April 6, 2020 | 11:58 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। লকডাউন হচ্ছে এলাকার পর এলাকা। বন্ধ হয়ে আসছে সব ধরনের কাজের সুযোগ। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষেরা। কাজ না থাকায় বন্ধ হয়েছে উপার্জন, কিনতে পারছেন না খাবার। ঘরে খাবার না থাকায় ত্রাণের জন্য রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে তাদের অনেককেই।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর বেশ কয়েকটি জায়গা ঘুরে এমন শ্রমজীবীদের দেখা পাওয়া গেল। কাজ না থাকলেও তারা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন, কেউ যদি কোনো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়— শুধু সেই আশায়। শুধু ত্রাণের জন্য অপেক্ষাই নয়, মানুষের ভিড় দেখা গেছে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির ট্রাকেও। তুলনামূলকভাবে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় ডাল, চিনি, তেল পেঁয়াজ কিনতে অনেকেই ভিড় করেছেন এসব ট্রাকের সামনে।

বিজ্ঞাপন

রামপুরা, বাড্ডা, মহাখালী, মগবাজার এলাকার প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েক জায়গাতেই ৮ থেকে ১০ জন করে ত্রাণের অপেক্ষায় বসে আছেন। রামপুরা এলাকায় ছিলেন এমন কয়েকজন। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে আঞ্জুবালা (৪৬) নামে একজন বলেন, ‘ঘরে খাওন নাই। হুনছি অনেকে রাস্তায় সাহায্য দেয়। গতকালও অনেকে পাইছে। এই কারণেই আইজকা আমি আইছি। যদি কিছু সাহায্য পাওয়া যায়, ঘরে নিয়া খাইতাম।’

পাশে ছোট সন্তান কোলে নিয়ে বসা রিজিয়া আক্তার বলেন, আগে হোটেলে প্লেট ধুয়ে দিতাম। এখন তো হোটেল বন্ধ, কাজও বন্ধ। ঘরে খাওন নাই। সকাল থেকে রাস্তায় বসা, যদি কেউ সাহায্য দেয়। এখন দুপুর হয়ে গেছে, কোনো সাহায্য পাইনি।

মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাওয়া লোক। আমাদের তো আর জমানো টাকা নাই। এখন আয় বন্ধ হয়ে গেছে, সাহায্য না পাইলে খাওন বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকার নেতারা নামের তালিকা করে নিছে। কিন্তু সাহায্য পাই নাই। বাধ্য হয়েই রাস্তায় বের হইছি।

এদিকে কম দামে পণ্য বিক্রি করা টিসিবির ট্রাকের সামনেও দেখা গেছে লম্বা লাইন। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাাঁড়িয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ কিনছেন সাধারণ মানুষ।

উত্তর বাড্ডা বাজারের সামনে টিসিবির ট্রাকের সামনের লাইনে ছিলেন কয়েকশ মানুষ। অবশ্য তাদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় সামাজিক ‍দূরত্ব, অর্থাৎ তিন ফিট দূরত্ব রেখে। ট্রাক থেকে ৫০ টাকা কেজিতে চিনি, ৫০ টাকা কেজি দরে মশুরের ডাল, ৮০ টাকা লিটার সয়াবিল তেল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল।

লাইনে থাকা মানসুরা বেগম বলেন, কাজ কতদিন বন্ধ থাকবে, কে জানে। টাকা পয়সাও তেমন নাই। এ কারণে এখান থেকে কম দামে কিছু জিনিস কিনে রাখি। রোদের মধ্যে এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ায় থেকে তারপর কিনতে পারছি। তাও ভালো জিনিস কিনতে পারছি।

সারাবাংলা/এজেডকে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন