বিজ্ঞাপন

সিলেটে মঙ্গলবার থেকে কোভিড-১৯ টেস্ট শুরু

April 7, 2020 | 1:04 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিওমেক) মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) টেস্ট। হাসপাতালটিতে সম্প্রতি বসানো পলিমেরেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিনের মাধ্যমে মানুষের শরীরে করোনার উপস্থিতি টেস্ট করা হবে। এজন্য সিলেটে এসে পৌঁছেছে এক হাজার কিট।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৬ এপ্রিল) ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে সিলেটে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষা হলেও প্রথমদিকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল সিলেট থেকে দেওয়া হবে না। পরীক্ষার ফলাফল পাঠানো হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর)। সেখান থেকেই নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা হবে প্রতিদিন।

বিজ্ঞাপন

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘হাসপাতালের মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়লোজি ও ভাইরোলজি বিভাগের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। আর এখানে রোগীর আসা লাগবে না। বিভাগের জেলা উপজেলা থেকে নমুনা এখানে পাঠানো হবে। এরই মধ্যে চারটি জেলা থেকে কিছু রোগীর নমুনা এসে পৌঁছেছে। এছাড়া শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন দুই রোগীর করোনা টেস্ট এখানেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষার ফলাফল আমরা স্থানীয়ভাবে জানাব না। আমরা আইইডিসিআরকে এই পরীক্ষার ফলাফল জানাব। এতদিন কেন্দ্রীয়ভাবে আইইডিসিআর যেভাবে তথ্য জানিয়েছে সেভাবেই এই ল্যাবের রিপোর্টের তথ্য সেখানে যাবে। পরবর্তী সময়ে যদি আমাদের বলা হয় স্থানীয়ভাবে ফলাফল প্রকাশের জন্য, তখন আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়লোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল ইসলাম ও ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক প্রেমানন্দের তত্ত্বাবধানে কারোনা টেস্টের কাজ চলবে বলেও জানান ডা. হিমাংশু লাল রায়।

গত ৩০ মার্চ করোনা ভাইরাস টেস্টের পিসিআর মেশিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিওমেক) এসে পৌঁছায়। মেশিনটি পৌঁছার পরপরই সেখানকার একটি ল্যাবে স্থাপনের কাজ শুরু হয় মেশিনটি স্থাপনে টানা এক সপ্তাহ সময় লাগে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানকার পিসিআর মেশিনের একটি সিঙ্গেল সাইকেলে প্রতিদিন ৯৪টি নমুনা শনাক্ত করা যাবে। এই পরীক্ষা করতে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ও সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার জন্য ল্যাবে মেডিকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও ১০ জন টেকনিশিয়ান প্রতিদিন কাজ করবেন। এই পরীক্ষা করাতে কোনো ফি দেওয়া লাগবে না। তবে এই পরীক্ষা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। চিকিৎসকরা যাদের পরীক্ষার প্রয়োজন মনে করবেন এবং সিলেট বিভাগের চারটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে যে নমুনাগুলো আসবে সেগুলো এখানে পরীক্ষা করা হবে।

উল্লেখ্য, রোববারই সিলেটে প্রথম কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারের রাজনগরে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন