বিজ্ঞাপন

লকডাউন যুগের প্রাসঙ্গিক ভাবনা: সরকারের কাছে জরুরি কী চাই?

April 13, 2020 | 8:17 pm

রফিকউল্লাহ রোমেল

বিলি ওশানের একটা গান আছে— ‘হোয়েন দ্য গোয়িং গেটস টাফ, দ্য টাফ গেটস গোয়িং’। অর্থাৎ কঠিনতর পরিবেশে শুধু কঠিনতর যারা, তারাই টিকে থাকে। এই লকডাউন এখন ঠিক সেরকম একটা সময়। কঠিন সময়ে নিজেকে কঠিনতর প্রমাণের সময়।

বিজ্ঞাপন

লকডাউন আমাদের জীবনের অনিবার্য বাস্তবতা। আমরা চাই বা না চাই, পছন্দ করি বা না করি— এই লকডাউন জীবনেই আমাদের অভ্যস্ত হতে হবে, থাকতে হবে অন্তত আরও প্রায় এক মাসের কাছাকাছি

এই জন্য সঠিক ও প্রয়োজনীয় মানসিক ও প্রায়োগিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। ছেলে থেকে বুড়ো, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, মাইক্রো থেকে ম্যাক্রো— সবখানেই এই লকডাউনকালীন প্রস্তুতি প্রয়োজন। আজ এই লকডাউন সময়ে সরকারের অতি অনিবার্য দু’টি করণীয় নিয়ে কথা বলব।  তার আগে একবার বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

বিজ্ঞাপন

এই মুহূর্তে (সোমবার বিকেল) সারা পৃথিবীতে মোট কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পেরিয়ে গেছে সাড়ে ১৮ লাখ। ১ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এই রোগে। পুরো সেরে উঠেছেন— এমন লোকের সংখ্যাও বাড়ছে। সেটাও ৪ লাখ ৩০ হাজার অতিক্রম করেছে। (বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত, মৃত ও সুস্থ হয়ে ওঠার আপডেট পরিসংখ্যান দেখুন এখানে)

বাংলাদেশেও আমরা ঠিক যেরকম ভেবেছিলাম, ব্যাপারটা সেদিকেই যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরং কিছুটা বেশিই খারাপ হয়েছে। এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ ১৮২ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৫৭০টি। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে আক্রান্তের হার ১১ শতাংশেরও বেশি। এর আগে কখনো আনুপাতিক হারে এত বেশি পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ সব তথ্য-আলামত ও ডেটা বিশ্লেষণ করলে এটা পরিষ্কারভাবেই বলে দেওয়া যায়, টেস্টের সংখ্যা আরও বেশি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা গুণোত্তর প্রগমনে বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু মনে রাখতে হবে, এসব সংখ্যা অনুমিত। অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটছে না। তা বলে একদম সব ভেঙেচুড়ে পড়ে গিয়েছে, সেটা মনে করার যেমন কারণ নেই, আবার নিশ্চিন্ত হয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো বা খুশি মনে ঘুরে বেড়ানোরও কোনো কারণ একেবারেই নেই।

কোভিড -১৯ ওরফে করোনাভাইরাস একটি গাণিতিক রোগ বা সমস্যা। গণিতের অঙ্ক ঠিক মিললে যেমন ফুল মার্কস, আর হালকা ভুল করলেই শূন্য— করোনা প্রতিরোধের বিষয়টিও ঠিক তেমন।

বিজ্ঞাপন

এখন কতদিন লকডাউন হতে পারে, সে বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য অনুসন্ধান ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্য কোনো দেশ তিন দফায় করেছে বা একনাগাড়েই ৪০-৪৫ দিন করেছে বলে আমাদেরও তাই করতে হবে— এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। এখানে আসলে কত দিন লকডাউন করতে হবে, সেটা রোগ সংক্রমণের গতি, তাকে আটকানোর রাস্তা, আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতাসহ অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করছে। আমাদের মতো দেশে খুব দীর্ঘ সময় লকডাউন চললে অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, বলা ভালো পড়বেই। সেগুলো একবছরেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নাও হতে পারে। সেজন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত খুব ভেবে চিন্তে বাস্তবতার নিরিখেই নিতে হবে। তবে, এখন আমরা যেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, তাতে করে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের আগে এই ‘সাধারণ ছুটি’ নামের লকডাউন উঠে যাওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা একেবারেই দেখছি না। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পর সেই সময়কার অবস্থা পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই ডেটলাইন মাথায় নিয়েই সবার লকডাউনের জন্য প্রস্ততি নেওয়া উচিত। আজ সেই প্রস্ততির রোড ম্যাপে সরকারের করণীয় বা ভূমিকা নিয়ে কিছু কথা বলব।

বিজ্ঞাপন

সরকারের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে একটি আর্টিকেল নয়, একটি আস্ত গবেষণাপত্র লিখে ফেলা সম্ভব। এই পুরো যুদ্ধের সত্যিকার ফ্রন্টলাইন আসলে সরকার বা সরকারি ব্যবস্থাপনা। সরকারের পরিকল্পনা, সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি সবার মাঝে কেন্দ্রীয় সমন্বয়— সবকিছুই আসলে সরকারকেই করতে হবে।

সংক্রমণ ঠেকানো ও সংক্রমিত লোকের চিকিৎসা দেওয়া— এই দুই ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে সরকার। বেশকিছু বিলম্ব আর ‘অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে মারা’ ধরনের পদক্ষেপের পর সরকার আস্তে আস্তে সংক্রমণ ঠেকানো ফ্রন্টে নিজের পরিখা স্থাপনে সমর্থ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কনট্যাক্ট ট্রেসিং, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ও কোয়ারেইনটাইন এবং লকডাউন কার্যকর করার ব্যাপারে সরকারকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত এবং স্থিতিশীল মনে হচ্ছে, যদিও পুরোপুরি নয়। প্রধানমন্ত্রী ও তার কার্যালয় এখানে অনেক বেশি সরাসরি যুক্ত আছেন বলেও প্রতীয়মান।

এই ফ্রন্ট, অর্থাৎ সংক্রমণ নিরোধে সরকারের এখন একমাত্র ফোকাস কাজ টেস্ট, টেস্ট এবং আরও অনেক বেশি টেস্ট। এখন শুধু সাসপেক্ট বা সরাসরি কনট্যাক্ট নয়, পারলে কাল থেকেই র‌্যান্ডম টেস্টও শুরু করা উচিত। কিন্তু এসব করতে গিয়ে র‌্যাপিড টেস্টিং বা WHO অনুমোদিত নয়— এমন টেস্ট কিটের আশ্রয় নেওয়াটা হবে চরম আত্মঘাতী। নিউইয়র্কে এ ধরনের র‌্যাপিড টেস্টে অনেকেই নেগেটিভ, এমনকি নিজেকে ইমিউন জেনে পরে জীবন্ত টাইম বোমার মতো অসংখ্য মানুষকে সংক্রমিত করেছেন। এর ফলও আমরা সবাই জানি। বিশ্বের এক নম্বর দেশ হয়েও যুক্তরাষ্ট্র এখন করোনার ভুক্তভোগী দেশের তালিকার শীর্ষে। শুধু তাই নয়, এককভাবে নিউইয়র্ক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় পেরিয়ে গেছে অন্য সব দেশকেই। কোনোভাবেই এ ধরনের কোনো ভুল আমাদের এখানে হতে দেওয়া যাবে না। বরং আরটি-পিসিআর ল্যাব ফ্যাসিলিটি যেন বেসরকারি হাসপাতালেও ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া উচিত।

এ মাসের শেষে সব মিলিয়ে ২৯টি পূর্ণাঙ্গ পিসিআর টেস্ট সেন্টার পুরোপুরি কাজে লেগে যাওয়ার কথা। বেসরকারি হাসপাতালেও এ ধরনের ল্যাব স্থাপনের সুযোগ দিয়ে আগামী তিন সপ্তাহে এই সংখ্যাকে অন্তত ৬০-এ উন্নীত করা উচিত। সেখানে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলও নিয়োগ দিতে হবে। সরকারি হাসপাতালের এক ফেসবুক সেলিব্রেটি ভাইরোলজিস্ট ডাক্তারদের অধিকার রক্ষায় খুব সচেতন। দু’দিন আগেও ফেসবুকে ‘আমরা প্রস্তুত’ বলে আকুতি জানিয়েছিলেন, তার সরকারি হাসপাতালে যেন পিসিআর ল্যাব সেটআপ দেওয়া হয়। সেটা গত পরশু দেওয়া হয়েছে। কাল জানা গেল, তার হাসপাতালে যথেষ্ট ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই! এরকম পরিস্থিতি যেন আবার না হয়।

সরকারের লড়াইয়ের দ্বিতীয় ফ্রন্ট হলো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। এই জায়গায় বাস্তব অবস্থা এতই নাজুক আর লেজেগোবরে যে এখানে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা দাঁড় করানো প্রায় অসম্ভব। করোনা আক্রান্তদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতাল, সেখানে বিছানা, ডাক্তার, আইসিইউ, ভেন্টিলেশনসহ সব সুবিধার যে বিশাল যজ্ঞ, সেটা এই মহামারিতে শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী হতে পারি না। বেসরকারি হাসপাতলগুলোর বড় অংশ এখনো নিষ্ক্রয়। আইসিইউ গ্রেড পিপিই দূরের কথা, অনেক জায়গায় এন৯৫ মাস্ক পৌঁছেনি। কিছু কিছু জায়গায় যথাযথ মানের সার্জিক্যাল মাস্ক পর্যন্ত নেই বলেও খবর মিলছে।

অন্যদিকে, সাধারণ হাসপাতালগুলোতে রোগীরা হয় যেতেই চাচ্ছেন না, কিংবা গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ডাক্তার পাচ্ছে না। অথবা তথ্য গোপন করে গিয়ে হাসপাতালের প্রায় সবাইকে ভয়াবহ বিপদের মধ্যে ফেলছেন। এমনিতেই শুরুর দিকে ডাক্তারদের বড় অভিযোগ ছিল, সরকার তাদের সঠিক সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই যুদ্ধে নামিয়ে দিয়েছে। পিপিই ছিল বড় সমস্যা। এখনো সেই সমস্যা পুরোপুরি কেটেছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ আইসিইউ গ্রেড পিপিই বলতে খুবই সুনির্দিষ্ট এক সেট সরঞ্জামকে বোঝায়, যেখানে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে সম্পূর্ণ জীবাণুরোধী গাউনও থাকতে হয়। থাকতে হয় গ্লাভস ও গোগলস। এগুলোর মধ্যে যেগুলো একাধিকবার ব্যবহার করা যায়, অনেক চিকিৎসক এখনো সেগুলো ডিজইনফেক্ট করার কোনো গাইডলাইনও পাননি।

পিপিই’র নামে দেশীয় পোশাক  কারখানা দিয়ে যে আত্মশ্লাঘায় ভোগার ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি আসলেই মারাত্মক আত্মঘাতী ছিল। পিপিই ডাক্তারদের জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী শুধু নয়, সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর একটি। ইতালিতে গার্বেজ ব্যাগ পিপিই হিসেবে ব্যবহার করে আক্রান্ত হয়েছিলেন ডিউটিতে থাকা ৪৩ শতাংশ ডাক্তার। ৬০-এর বেশি বয়স, এমন ডাক্তার শুধু লোম্বার্ডিতেই মারা গেছেন ৪৭৮ জন (এই পরিসংখ্যানও দুই সপ্তাহের পুরনো)। কাজেই পদ্মাসেতুর মতো ‘দেশীয় প্রযুক্তিতে পিপিই বানাচ্ছি’— পোশাক কারখানার মালিকদের এমন একটি আত্মঘাতী ক্যাম্পেইন সরকার এন্ডোর্স করায় আরেকটু হলেই বিশাল বড় দুর্ঘটনা ঘটত। এখনো ব্যাপারটি শঙ্কামুক্ত নয়। তবে এই বিষয়ে টনক নড়েছে। প্রোপার হাসপাতাল গ্রেড পিপিই আসতে শুরু করেছে। আমরা আশায় থাকলাম।

এই পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় এই মুহূর্তে যেই প্রস্ততি, তা অন্তত একটা ফুল ব্লোন কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। এখনো শতভাগ গতিতে আর পূর্ণ সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ হলেও আগামী তিন মাসেও তার পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বাস্তব চিন্তা করলে নেই বললেই চলে। বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের মশা-মাছি না যাওয়া কনভেনশন সেন্টারগুলো সরকারকে হাসপাতাল বানাতে দিয়ে বিশাল মিডিয়া মাইলেজ নেওয়া মানেই সংকট কেটে গেছে, তা নয়। সেটা জায়গা সমস্যার সমাধান করে শুধু। কিন্তু সেখানে ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান নিয়োগ থেকে শুরু করে শয্যা স্থাপনা, আইসিইউ সেটআপ, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা— সবই সরকারকেই করতে হবে। একটা মেকশিফট হাসপাতাল চালানোর অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। কাজেই টাইমলাইন নিয়ে মন্তব্যও করা যাচ্ছে না।

আর ডাক্তারদের কাজে যোগদান না করার ব্যাপারে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে ক্ষোভ এসেছে। চাকরির শর্ত অনুযায়ী সেবা না দেওয়ায় কিছু ডাক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই মুখোমুখি সাংঘর্ষিক অবস্থাটাই সবচেয়ে ভয়াবহ। এমনকি ভাইরাসের চেয়েও। সরকার আর ডাক্তার দুই দল নয়। একই দলের ভিন্ন পজিশনে খেলা প্লেয়ার। এদের এইভাবে মুখোমুখি হওয়া ঠিক হয়নি। রাষ্ট্রের তথ্য সংগ্রহে ত্রুটি থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা নিয়ে ফোকাসের বাইরে গিয়ে নিজের মূল দায়িত্ব ফেলে মিডিয়া আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ইগোভিত্তিক লড়াইয়ে যাওয়াটার সময় মনে হয় এটা না। অবশ্যই বেশিরভাগ ডাক্তারই এমন করছেন না। কারণ তাদের টক শো’তে যাওয়ার সময়ই নেই। আবার এটাও সত্য, প্রশাসনিক বা সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা মানেই দুর্নীতিবাজ বা অদক্ষ না। সবচেয়ে বড় কথা, এক দলে থেকে এই বাহাসে সময় কাটানোর মতো সময় আমাদের হাতে একেবারেই নেই।

তবে হ্যাঁ, এটা ঠিক যে কোভিড-১৯-এর লড়াইয়ের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যে কাজ হচ্ছে, স্থায়ী অবকাঠামো বা অন্যান্য উপরিকাঠামো— এসব কিছুই আমাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে। এরপর মহামারি বা বিশ্বমারি অবস্থায় আমরা কোয়ারাইনটাইন, আইসোলেশন আর হাসপাতাল বা আইসিইউসহ অন্য সবকিছুতে অনেক প্রস্তুত থাকব। এমনকি মহামারি ছাড়া সাধারণ অবস্থাতেও আমাদের রোগীর যে চাপ, সেটা আমরা এখনকার চেয়ে অনেক ভালো সামলতে পারব। ডেঙ্গুতে যেমন পেরেছি, বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ে যেমন পেরেছি, ঠিক সেরকম।

কাজেই সক্ষমতা বিচারে আমাদের আসলে ভাইরাসের বিস্তার রোধই একমাত্র পন্থা। আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ আসলে নেই এই লড়াইয়ে জেতার। সেজন্য যতদিন লাগে, ততদিন লকডাউন করা ছাড়া এই মুহূর্তে কোনো বিজ্ঞানসম্মত উপায়ও নেই। এটি করতে গিয়ে চরম হুমকির মুখে পড়বে অর্থনীতি। বেকারত্ব আর চরম দারিদ্র্য— দু’টোই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের দিকে নিশ্চিত হাঁটা দেবে। সামাজিক অবক্ষয়, হতাশা আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিও হতেই পারে। সামাজিক ভারসাম্য খুব সহসাই কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী সময়ে ফেরত যাবে না।

তাহলে কী হবে প্রকৃতপক্ষে? লকডাউন করে যতটা সম্ভব সংক্রমণ নির্মূল, নাকি অর্থনৈতিক ঝুঁকির অস্থির সম্ভাবনায় প্রবেশ? জিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের উত্তরই হলো সরকারের লড়াইয়ের তৃতীয় ফ্রন্ট। এই নিয়ে পরের পর্বে আবার লিখব আশা করছি।

আপাতত এটাই মনে রাখি— হোয়েন দ্য গোয়িং গেটস টাফ, দ্য টাফ গেটস গোয়িং...... অনলি দ্য টাফ!

লেখক: ম্যানেজিং এডিটর, সারাবাংলা ডটনেট

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন