বিজ্ঞাপন

ত্রাণ দিতে গিয়ে আ.লীগ কর্মীদের মারামারি, শত প্যাকেট লুটের অভিযোগ

April 16, 2020 | 11:42 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজারে ত্রাণ দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি হয়েছে। এসময় লালখান বাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলালের কর্মীদের কাছ থেকে ১০০ প্যাকেট ত্রাণ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারামারিতে ১৩ বছরের এক কিশোরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ২টার দিকে নগরীর লালখান বাজারের মতিঝর্ণা মাছবাজার এলাকায় বেলালের অনুসারীদের সঙ্গে বর্তমান কাউন্সিলর এফ কবির আহমেদ মানিকের অনুসারীদের মধ্যে এই মারামারি হয়েছে।

বেলালের অভিযোগ, তার কর্মীরা সাড়ে ৫০০ প্যাকেট ত্রাণ নিয়ে মতিঝর্ণার মাছবাজার এলাকায় বিতরণের জন্য যান। সাড়ে ৪০০ প্যাকেট বিতরণের পর বাকি ১০০ প্যাকেট নিয়ে তারা ঢুকেছিলেন ৬ নম্বর গলিতে। সেখানে কাউন্সিলর মানিকের অনুসারী জাহিদুর রহমান, কাদের ও তৈয়বের নেতৃত্বে তার কর্মীদের ওপর হামলা হয়। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ১০০ প্যাকেট ত্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়। জাহিদুর রহমান চট্টগ্রামের আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি বলে জানান বেলাল।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কাউন্সিলর এফ কবির আহমেদ মানিকের বক্তব্য জানতে পারেনি সারাবাংলা।

তবে স্থানীয় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রনব চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘ত্রাণ দেওয়ার সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইট ছোঁড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। ১৩ বছরের এক কিশোর ইটের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।’

বিজ্ঞাপন

ওসি বলেন, ‘কাউন্সিলর প্রার্থী বেলাল সামাজিক দূরত্ব না মেনে শ’খানেক কর্মীকে ত্রাণ বিতরণের জন্য পাঠান। থানাকে অবহিত করার নির্দেশনা থাকলেও সেটা করেননি। ত্রাণ দিতে গিয়ে কেউ আইন ভঙ্গ করবে সেটাও কাম্য নয়।’

এদিকে আহত ১৩ বছরের কিশোর ইসমাইল হোসেন সোহানের বাবা আনোয়ার হোসেন ও মা মরিয়ম বেগম থানায় মামলা দায়েরের জন্য গেছেন। মরিয়ম বেগম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি বাজারে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় দেখি, বাসার সামনে মারামারি হচ্ছে। মারামারি থামার পর দেখি, আমার ছেলেকে রিকশায় তুলে কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। তার মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মাথায় আটটা সেলাই হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আবুল হাসনাত মো. বেলাল সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার কর্মীরা কারও ওপর আঘাত করেনি। তাদের ওপর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, বাসায়-বাসায় ত্রাণ পৌঁছাতে হবে। কোনো মারামারিতে জড়ানো যাবে না। মানিক সাহেবের লোকজন বরং আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের ৫-৬ জন আহত হয়েছেন।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গত ২৯ মার্চ স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে লালখান বাজার ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল হাসনাত মো. বেলাল। তিনি প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বর্তমান কাউন্সিলর এফ কবির আহমেদ মানিক।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন