বিজ্ঞাপন

করোনা মোকাবিলায় ওআইসিকে একগুচ্ছ প্রস্তাব বাংলাদেশের

April 22, 2020 | 7:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) এই মুহূর্তে অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম তৈরি, অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, একাধিক সংস্থা থেকে নেওয়া স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঋণ মওকুফসহ সহজ শর্তে নতুন করে ঋণ পাওয়ার বন্দোবস্ত করাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

করোনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের নির্বাহী কমিটির এক বিশেষ বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। বুধবার (২২ এপ্রিল) অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ‘করোনাভাইসের প্রভাবে বিশ্বের সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলো এই দুর্যোগে অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওআইসির মধ্যে অনেক স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র রয়েছে, যাদের অনেক অভিবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কর্মরত। ওআইসির যে দেশগুলো অন্য দেশে কাজের জন্য শ্রমিক পাঠায়, তারা এই দুর্যোগে দেশে ও বিদেশে দুই ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ওআইসি অভিবাসন ক্ষেত্রের চলমান পরিস্থিতিকে ইতিবাচক করতে উদ্যোগ নিতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানান হয়, স্বাগত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এই মহামারি মোকাবিলায় ইসলামের চিরায়ত আদর্শ ও মুসলিম ভ্রাতিত্ববোধ থেকে উৎসারিত সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যহত রাখার আহ্বান জানান।

চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং সরঞ্জাম নিয়ে যেসব গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদের করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একত্রিত করে এই মুহূর্তে অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম তৈরি করার কাজে লাগাতে ওআইসি সচিবালয় এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশ আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞাপন

অভিবাসী শ্রমিক, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ওআইসিভুক্ত দেশে যেসব মুসলিম শ্রমিক কাজ করে, তাদের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে মন্ত্রী তাদের চাকরি বজায় থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অনুরোধ করেন, যেন বেকারত্বের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কমানো ও সামাজিক সমতা বজায় রাখা যায়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বেচ্ছায় অনুদান মাধ্যমে একটি করোনা মোকাবিলা তহবিল গঠনের প্রস্তাবও সভায় বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া হয়।

এই মহামারির প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত মুসলিম অভিবাসীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা এবং তাদের চাকরি রক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে নিয়ে কাজ করার জন্য ওআইসি সচিবালয়কে বাংলাদেশ পরামর্শ দেয়। দরকারি সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে এই মহামারির সময়ে বিশ্বব্যাপী যেসব মুসলিম শরণার্থী রয়েছে, তাদের দেখভালের বিষয়টি নিশ্চয়তার জন্য বাংলাদেশ সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে বিরোধপূর্ণ এলাকায় বিবদমান প্রতিপক্ষদের অস্ত্র বিরতির মাধ্যমে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে আহ্বান জানায় ওআইসি নির্বাহী কমিটি। সংশ্লিষ্ট যুদ্ধাহত দেশগুলোতে খাদ্য সহায়তা দিতে মানবাধিকারকর্মীদের অনুরোধ জানানো হয়। কোভিড-১৯ মহামারি ও এর পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলার জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক সংস্থাকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ঋণ মওকুফসহ সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার বন্দোবস্ত করার বিষয়টি ভেবে দেখতে অনুরোধ করে নির্বাহী কমিটি।

ওআইসির ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক কোভিড-১৯-এর মোকাবিলায় সম্প্রতি ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয়। এছাড়া ওআইসি আরেকটি সংস্থা ইসলামিক সলিডারিটি ফান্ড সদস্য রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত সদস্য দেশগুলোর স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়াতে একটি আলাদা হিসাব খুলেছে। এ উদ্দেশে ওআইসি সচিবালয়ের আওতায় একটি সমন্বয় প্রক্রিয়া তৈরির জন্য সভায় আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ, তুরস্ক, সৌদি আরব, গাম্বিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং নাইজার— এই ছয়টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে ওআইসি’র বর্তমান নির্বাহী কমিটি গঠিত। এই ছয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা উপযুক্ত প্রতিনিধি ও ওআইসি মহাসচিবের অংশগ্রহণে নির্বাহী কমিটির এই বিশেষ  বৈঠকটি সৌদি আরবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন