বিজ্ঞাপন

সরকারের ‘একলা চলো’ নীতির কারণে জনগণ ঝুঁকিতে: ফখরুল

April 25, 2020 | 4:26 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের ‘একলা চলো’ নীতির কারণেই জনগণ করোনাভাইরাসের প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন। দলের ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় যে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল, সেই উদ্যোগ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এক কথায় তারা পুরোপুরিভাবে ব্যর্থতার পরিচায় দিয়েছে। তাদের ‘একলা চলো’ নীতির কারণেই জনগণ প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

‘দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, সত্য কথাটি আমরা জানতে পারছি না। যে কথাগুলো সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কতটুকু মিল আছে সে সম্পর্কে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের উদাসীনতা, অবহেলা লক্ষ্য করেছি। তারা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। আমরা জানি কী কাজে ব্যস্ত ছিল। তারা এটাকে প্রথম দিকে গুরুত্ব দেয়নি। যখন ঘাড়ের ওপর এসে পড়েছে তখন এটাকে সামাল দেওয়ার মতো শক্তি তাদের ছিল না।’

বিজ্ঞাপন

সরকারের ‘একলা চলো’ নীতির কারণে জনগণ ঝুঁকিতে: ফখরুল

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘করোনাভাইরাসে প্রমাণ হয়েছে, তাদের শাসনব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। সাধারণ রোগী— যাদের ক্যান্সার হয়েছে, টিবি আছে বা যাদের অ্যাপেন্ডিসাইট রয়েছে তারা কোনো চিকিৎসা পায় না।’

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দলের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রামণ শুরু হওয়ার আগেই জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা লিফলেট বিলি করেছি, মাস্ক বিতরণ করেছি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ড্যাব চিকিৎসক-স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পিপিই দিয়েছে, হটলাইন চালু করেছে রোগীর পরামর্শ দেওয়ার জন্য। আমরা ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’

‘যেদিন আমরা প্যাকেজ ঘোষণা করি ওইদিন সরকারি দলের কয়েকজন নেতা আমাদেরকে যাচ্ছে-তাই তিরস্কার করেছে। অথচ তার পরের দিনই প্রধানমন্ত্রী ৭৩ হাজার কোটি টাকার একটা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পরে অবশ্য এটাকে ৯৫ হাজার কোটি টাকা করেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন তার মধ্যে ৭৭ হাজার কোটি প্রণোদনা ব্যাংক ঋণ। মাত্র ১৬ হাজার কোটি টাকা সরকারের বাজেট ও সরকারি কোষাগার থেকে যাচ্ছে। এসব আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। এর জবাবও সরকার দিচ্ছে না’— বলেন মির্জা ফখরুল।

বিজ্ঞাপন

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী আমাদের গালিগালাজ করেছেন এবং বলেছেন যে, আমরা নাকি শুধুমাত্র কথাই বলছি, কোনো কাজ করছি না। বিরোধীদল হিসেবে ১২/১৩ বছর ধরে নির্যাতিত হওয়ার পরও আমরা যা করেছি, সেটা তাদের দল থেকে অনেক বেশি। এরই মধ্যে আমরা ৭ লাখ পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছিয়ে দিয়েছি। প্রতিদিনই আমাদের এই সংখ্যা বাড়ছে এবং এটা আরও বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন এখন রাজনৈতিক বির্তকের সময় নয়, এখন রাজনৈতিক প্র্রতিহিংসার সময় নয়। অহংকার এবং আত্মম্ভরিতা বাদ দিয়ে আসুন সমগ্র জাতিকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করি, ঐক্যবদ্ধ করে সমগ্র জাতিকে করোনাভাইসের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করি।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যখন উৎপীড়ক হয়ে যায়, রাষ্ট্র যখন নিজেই গুম-খুন করে কিংবা ক্রসফায়ার করে তখন মানুষ গিয়ে কোথায় দাঁড়াবে? দুর্ভাগ্য আমাদের যে, আমরা এই ধরনের একটা সরকারের কবলে পড়েছি, যাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তারা নির্বাচিত কোনো সরকার নয়। তারা শুধু শক্তির জোরে, বন্দুক-বুলেটের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। জনগণের প্রতি কোনো রকমের দায়িত্ব তাদের নেই।’

ছাত্রদলের নিহত তিন পরিবার যথাক্রমে নুর আলম, নুরুজ্জামান ও মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর পরিবারের হাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব। আরও সহাস্রাধিক নেতাকর্মীর পরিবারের কাছে এই উপহার পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ উদ্দিন নসু, ইশরাক হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আতিকুর রহমান রুমন, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, নাজমুল হাসান, চেয়ারপারসনের প্রেসউইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন