বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান

April 30, 2020 | 5:26 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংগঠনটির সভাপতি হাবীবউল্লাহ বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলমের সই করা এক যুক্ত বিবৃতিতে এই আহবান জানানো হয়।

বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, ‘শ্রমিক শ্রেণির রক্তঝরা সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মহিমায় মহিমান্বিত সংগ্রামের প্রতীক হচ্ছে মহান মে দিবস। শ্রেণি বিভক্ত সমাজে রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়েই শ্রমিক শ্রেণিকে অধিকার আদায় করে নিতে হয়।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১ মে) ১৩৫তম মহান মে দিবস তথা আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস। এ উপলক্ষে সংগঠনটি মে দিবস সকাল ১০টায় যার যার অবস্থান থেকে কেন্দ্র থেকে পাঠানো ঘোষণা পাঠ করার আহ্বান জানিয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি বিশ্বজুড়েই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ও আমাদের দেশে সংক্রমণের চতুর্থ পর্যায় তথা সামাজিক সংক্রমণে রয়েছে। এমতাবস্থায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিবেচনায় নিয়ে মে দিবসে অতীতের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে মহান মে দিবস, যেভাবে শ্রমিকের অধিকার আদায়

শ্রমিক শ্রেণির ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন যূথবদ্ধ ও সংগঠিত রূপের মাধ্যমে ১৮৮৬ সালের ১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে সমাবেশ করে। সেই সমাবেশে বুর্জোয়া সরকারের পুলিশ ও গুণ্ডাবাহিনীর নির্মম দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ১ মে শ্রমিক ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট চলাকালে পুলিশ ও বুর্জোয়া দালালদের অতর্কিত হামলায় নিহত হন ছয় শ্রমিক। এবং শত শত শ্রমিক আহত হন। এর প্রতিবাদে ৪ মে হে মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভা চলাকালীন পুলিশের পৈশাচিক গুলিবর্ষণে নিহত হন আরও সাত শ্রমিক এবং হতাহত হন অনেকে। ৮ ঘণ্টা শ্রম দিবসের এই ঐতিহাসিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে পুলিশ গ্রেফতার করে অগাস্ট স্পাইজ, সিমফেল্ডেন, মাইকেল, জর্জ এঞ্জেল, এডলফ ফিশার, লুই নিংগ এবং অস্কার নিবে- এই সাত শ্রমিক নেতাকে। বুর্জোয়াশ্রেণি ও তাদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকার ফাঁসির আদেশ দেয় শ্রমিক শ্রেণির নির্ভীক, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বীর নেতা অগাস্ট স্পাইজ, পারসন, ফিশার, জর্জ এঞ্জেলকে। এই সব বীর শ্রমিক নেতারা সেদিন সৃষ্টি করেন আত্মত্যাগও বিপ্লবী দৃঢ়তার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ ঘণ্টা শ্রম, ৮ ঘণ্টা বিনোদন ও ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের সময়সীমা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে মহান মে দিবস।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন