বিজ্ঞাপন

করোনাকালে পরিবারের নারীদের পিএমএস নিয়েও ভাবুন

May 1, 2020 | 10:30 am

করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘরে আছি আমরা। অনেককেই আবার ঘর থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। পরিবারের সবাই ঘরে থাকার ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কিন্তু নারী সদস্যরা। খুব কম পরিবারেই পুরুষ সদস্যরা ঘরের কাজে হাত দিচ্ছেন বা শিশুর দায়িত্ব নিচ্ছেন। সাধারণভাবে আমাদের দেশে সংসার সামলানোর পুরো দায়টা নারীর উপর।

বিজ্ঞাপন

অধিকাংশ পরিবারে এখন গৃহকর্মী না থাকায় পরিবারের নারী সদস্যের উপরই যেন সব চাপ। আবার এদিকে রোজা আসায় কাজের চাপ বেড়েছে বেশি। মা, বোন, স্ত্রী কিংবা ভাবীর হাতে তৈরি মজার সব খাবার না হলে যেন অনেকের মনই ভরে না। তার কতটা কষ্ট হচ্ছেন সেটি আপনাকে ভাবাচ্ছে না কারণ আপনি ভাবছেন তিনি এসব সামলাতে অত্যন্ত দক্ষ। কিন্তু অন্যরা আড্ডা অথবা বিনোদনে সময় কাটালেও গৃহকর্তীর যেন স্বস্তি নাই। নাই একবিন্দু বিশ্রামের সময়। স্বাভাবিক সময়ে তো বটেই নারীর দুরবস্থা দ্বিগুণ হয় মাসের একটি বিশেষ সময়ে। তাই আসুন জেনে নেই কখন আপনার বা আপনাদের একটুখানি সহানুভূতিশীল ব্যবহার ও কাজ তার জন্য হয়ে উঠতে পারে স্বস্তির।

পিএমএস সাধারণত পিরিয়ড শুরুর ৫ থেকে ১১ দিন আগে শুরু হয় আর পিরিয়ড শুরু হলে চলেও যায় বলে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দেইনা। PMS বা (Premenstrual Syndrome) কে বাংলায় বলা যেতে পারে রজঃকালপূর্ব লক্ষনসমূহ। কেইস রিপোর্ট অনুযায়ী শতকরা নব্বই জনেরও বেশি নারীরা এতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

বিজ্ঞাপন

গবেষকগণ দাবী করেন যে এস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এর বৃদ্ধি, ওভারির স্টেরয়েড হরমোন, সেরোটোনিন ইত্যাদি হলো PMS এর নিয়ামক। অর্থাৎ, আমি বা আপনি যদি ভেবে নেই নেহাৎ মানসিকভাবে দুর্বল বলেই আপনার মা বা বোন বা স্ত্রী মাসের কয়েকটা দিন খিটখিটে, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা মুড সুইং এর প্রকাশ দেখাচ্ছেন, তবে তা নিতান্তই অমূলক। তার হরমোনের মাত্রা বাড়া বা কমা তার স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেই বস্তুত এমনটি হতে পারে। মনে হতেই পারে মানসিকভাবে একটু অস্বস্তি এমন আর বড় কি ব্যাপার! যদিও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও সহজপ্রাপ্যতার সাথে নিজস্ব সচেতনতাবোধ থেকে অনেকেই হয়তো জানি, তবুও আরেকবার জেনে নেই যে শুধু মানসিক নয় শারীরিক অসুস্থতাও বোধ করতে পারেন অনেক নারী। যেমন, পেট ফাঁপা, পেট ব্যাথা, ব্রণ, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, অবসাদগ্রস্ততা, ঘুমহীনতা, আলো বা শব্দে শারীরিক অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

এতোখানি কি আমরা ভেবেছিলাম কেউই? যিনি আগে থেকেই করোনাকালীন সময়ে তার স্বামী, সন্তান, পরিবার, নিয়ে ভাবছেন এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েই রয়েছেন, তিনি যে এতোসব সমস্যাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিনকার সবকিছুকে সামলে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেসব তো ভাবতে হবে আমাদেরকেই।

এছাড়াও যার আগে থেকেই রক্তশূন্যতা বা এনেমিয়া, এন্ড্রোমেট্রিওসিস, থাইরয়েডের সমস্যা, রিউম্যাটিক ডিজিস, আই.বি.এস. এবং বিষন্নতা রয়েছে তারা কিন্তু PMS এর সময়ে আরো বেশি অসুস্থ বোধ করতে পারে। তাই এসময়ে পরিবারের নারী সদস্যের সঙ্গে একটু ভালোবেসে কোমল আচরণ করুন। জিজ্ঞেস করুন তার কোন সহায়তা বা বিশ্রামের প্রয়োজন আছে কিনা, বা নির্দিষ্ট কিছু খেতে মন চাইছে কিনা।

ঘরে এনে রাখতে পারেন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, দুধ বা দুধের তৈরি কোনো খাবার। আর যিনি রোজা রাখছনে তিনি যেন সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর খাবার খান সেটিও খেয়াল করুন। আপনার এটুকু খেয়াল তাকে মানসিক প্রশান্তি দেবে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ট্যাবলেট, ভিটামিন বি-৬ ট্যাবলেট, ব্যাথানাশক ওষুধ ইত্যাদি যেন তিনি তার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে খেতে পারেন সে বিষয়ে রাখতে পারেন একটু খেয়াল।

একটু খেয়াল করে মা বা স্ত্রী বা বোনের এই সময়ের সেহরিতে তাদের হাতের কাজে একটু সহায়তা করে বিশ্রাম দিতে পারলে এই রমজানে ভালোবাসা বাড়বে বৈ কমবে না একটা ফোঁটাও করোনাকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, মন খুলে গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই। যে পুরুষটি ঘরের কাজে সাহায্য করছেন বা সন্তানের দেখাশোনা করছেন তিনি সেই সঙ্গে এটিও খেয়াল রাখুন মাসের একটি বিশেষ সময়ে পরিবারের নারীদের দিনগুলো যেন শান্তি আর স্বস্তিতে কাটে।

সারাবাংলা/আরএফ/টিসি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন