বিজ্ঞাপন

পোশাক কারখানায় বে-আইনি লে-অফ ও ছাঁটাই বন্ধের আহ্বান

May 1, 2020 | 4:47 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মহান মে দিবসের সমাবেশ ও র‌্যালি করেছে গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর মিরপুরে এই সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে পোশাক কারখানায় বে আইনি লে-অফ, ছাঁটাই ও বরখাস্ত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে গ্রীণ বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, সহ-সভাপতি মিসেস সুইটি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মাখরুকা আক্তার, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যা বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক, দপ্তর সম্পাদক রাবেয়া ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য সুফিয়া বেগম ও বেসিক ইউনিয়ন নেতা আব্দুর রউফ, তাহেরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে সারাবিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারিতে গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারির কারণে পোশাক শিল্প ও এর শ্রমিকরা হুমকির মধ্যে পড়েছে। দেশব্যাপী লকডাউনের এ সময়ে শ্রমিকদের ৪০ শতাংশ মজুরি কাটার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও অমানবিক। প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থে করোনাভাইরাসের এ মহামারির সময়ে শ্রমিকদের চাকুরি থেকে ছাঁটাই বা কর্মচ্যুত, লে-অফ করতে মালিকদের নিষেধ করলেও গার্মেন্টস মালিকরা এই আদেশ অগ্রাহ্য করে অমানবিকভাবে সারাদেশে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের ছাঁটাই, কর্মচ্যুত ও লে-অফ করেছেন। প্রতিদিন কোনো না কোনো কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই/কর্মচ্যুত করছে এবং দিন দিন লে-অফ কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবন জীবিকায় ভয়াবহ দুর্যোগ সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে অধিকাংশ কারখানা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি না মেনেই খোলা রাখা হয়েছে। এতে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

সংগঠনের পক্ষে আটটি দাবি করা হয়, মহামারির সময়ে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের লে-অফ, ছাঁটাই, বরখাস্ত, চাকরি অবসান ও কারখানা বন্ধকরা যাবে না। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৪(৮), ১২, ১৩, ১৬, ২০, ২২ ও ২৬ প্রয়োগ স্থগিত করতে হবে। যে সমস্ত কারখানা এরইমধ্যে লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে, বে-আইনি লে-অফ প্রত্যাহার করতে হবে।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংকটকালীন সকল শ্রমিকদের স্ব বেতনে ছুটি, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। ১৫ মে’ ২০২০ এর মধ্যে শ্রমিকদের পূর্ণ মজুরিসহ ঈদ বোনাস দিতে হবে। করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব মালিক ও সরকারকে নিতে হবে। করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকদের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন