বিজ্ঞাপন

গেল ৪ বছরে দেশের ফুটবলে কী দিয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন?

May 4, 2020 | 6:24 pm

জাহিদ-ই-হাসান, স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: ফররুখ আহমেদের কবিতা পাঞ্জেরী’র ছড়াগুলো যেন চিৎকার করে বলছে দেশের ফুটবলের চিত্র! ‘এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে? সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে’। কার্যত দেশের ফুটবলের আকাশে মেঘে ভরা। গত ১২ বছরেও সেভাবে জেগে উঠতে দেখা যায়নি দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ অভিভাবকের আসনে থাকা কাজী সালাউদ্দিনকে।

বিজ্ঞাপন

‘দীঘল রাতের শ্রান্ত সফর শেষে’ প্রশ্ন আসে কী অর্জন যোগ হলো খাতায়। উত্তর আসে ‘অসীম কুয়াশা জাগে শুন্যতা ঘেরি’। গেল চার বছরে তৃণমূলের উন্নয়ন থেকে জাতীয় দলের সাফল্যের খাতায় ‘অস্ফুট হয়ে ক্রমে ডুবে যায় জীবনের জয়ভেরী’।

গেল চার বছরে প্রায় ১০০ কোটির ওপরে খরচ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। প্রশাসনিক ব্যয়ই যেখানে হয়েছে প্রায় ৪০ কোটির মতন। দেশের ফুটবলের চিত্রটা বদলে হয়েছে ‘শুধু গাফলতে, শুধু খেয়ালের ভুলে, দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে।’ এই চার বছরে তৃণমূলের উন্নয়ন কার্যত ঠেলা গাড়ির মতো চলছে। পাইপলাইনে ফুটবলারদের অভাব যেমন আছে তেমনি পরিচর্যার অভাবটা স্পষ্ট হয়েছে। আর্থিক নানা অভিযোগের মধ্যে আছে দুদকের নজরদারী। আর জাতীয় দলের ঘরে ওই গণিতের ‘শূন্য’।

বিজ্ঞাপন

২০০৮ সালে প্রথমবার বড় আশা জাগিয়ে বাফুফের নির্বাচনে সভাপতি হয়ে আসলেন কাজী সালাউদ্দিন। দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকার হাতে ফুটবল এসে সমর্থকরা ভেবেছিল-‘পথহারা এই দরিয়া-সোঁতায় ঘুরে’ এসেই জানান দিলেন, ‘আগে ঢাকার ফুটবলটা ঠিক করি। তারপর ঢাকার বাইরে হাত দেব।’ গেল চারবছর তো আছে এক যুগেও দেশের প্রায় অর্ধেকজুড়েই লিগ হয় না। জেলায় জেলায় লিগ বন্ধ। ‘ঢাকা ফুটবল ফেডারেশনে’ পরিণত হওয়া এই অভিভাবকের মর্মকথা যেন- ‘চ’লেছি কোথায়? কোন সীমাহীন দূরে?’

দুই মেয়াদে এক এসএ গেমসে স্বর্ণের পর সেভাবে জাতীয় দলের সাফল্য নেই বললেই চলে। তবে আবারও সংবাদের শিরোনামে সালাউদ্দিন। না কোন সাফল্য দিয়ে নয়! এবার যেন দিবালোকের স্বপ্নের কথা জানান দিলেন তৃতীয় মেয়াদে এসে, ‘২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ’। যেন ‘মোদের খেলায় ধুলায় লুটায়ে পড়ি’। লুটায়ে পড়ে দেশের ফুটবলটা ঠেকেছিল র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৯৭’তে। এশিয়া অঞ্চলের ৪৬ দেশের মধ্যে ৪২তম যেন বলছে ‘কেঁদেছে তাদের দুর্ভাগ্যের বিস্বাদ শর্বরী।’

তবে অর্জন নেই বললে একেবারে একপাক্ষিক বলা হবে। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে ইতিহাসের প্রথমবার নকআউট পর্বে গিয়েছিল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এর পরপরই সালাউদ্দিন বলে উঠেছিলেন ‘৫০ বছরের সেরা দল এটা’। বাস্তবতা বলে ভিন্ন। গত চার সাফ ফুটবলে গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপেও মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে নিম্নমানের দলগুলো টুর্নামেন্টে খেলিয়ে। তারপরেও সেই ট্রফিটা বা সাফল্য জুটেনি বাফুফের! নারী ফুটবলে জাতীয় দল বলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই! শুধু বয়সভিত্তিক দল নিয়েই আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে ফেডারেশন।

এখন সাংবাদিকদের যেন এড়িয়ে যেতে শুরু করেন বাফুফে বস। প্রশ্নবানে জর্জরিত হওয়ার আগেই তিনি বলেন, ‘আমি তো মাঠে খেলে দিতে পারব না। আমার কাজ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।’ এতো সুযোগ (!) দিয়েও গ্যালারিতে লোক আনতে পারছে না ফেডারেশন। তৃণমূলে হাহাকার দৃশ্য, পাইওনিয়ার লিগে অভিযোগ-সমালোচনার ঝড়, এখনও পর্যন্ত একটা জিম বানাতে ব্যর্থ ফেডারেশন, নারী ফুটবল লিগ নিয়ে সাত বছর ধরে টালবাহানা, আর্থিক অভিযোগ, দুদকের নজরদারি। সাফল্যের থেকে যেন এসব নিয়েই সারাবছর সংবাদের শিরোনাম হতে হয়েছে ফেডারেশনকে।

এতো সমালোচনার মধ্যেই আরেকবার নির্বাচন করার ঘোষণা দেন সালাউদ্দিন। চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হওয়ার পথটাও এবার বেশ মসৃণ! দেশের ফুটবলের এমন অবস্থা যখন চোখে প্রশ্নবানে জর্জরিত তখন কবির শব্দে বলতে হয়- ‘জাগো অগণন ক্ষুধিত মুখের নীরব ভ্রুকুটি হেরি; দেখ চেয়ে দেখ সূর্য ওঠার কত দেরী, কত দেরী।’

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন