বিজ্ঞাপন

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ইতালি যাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

May 5, 2020 | 5:32 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিনা অনুমতিতে ইতালি যাওয়ায় ও সেখানে অবস্থান করায় মাদারীপুরের শিরখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এছাড়া সরকারি ত্রাণ নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নের ছয় ইউপি সদস্যকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।

একটি প্রজ্ঞাপন থেকে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিনা অনুমতিতে ইতালি গেছেন এবং সেখানে অবস্থান করছেন। এ জন্য তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া আরেক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রুবেল ইজারাদার ওরফে বাবুল মেম্বার, নড়াইল জেলার সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিম মোল্লা, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেজাউল করিম খান সোহাগ, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবুর রহমান এবং ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাহিদা বেগম রূপা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাগেরহাট জেলার পেড়িখালী ইউপি সদস্য রুবেল ইজারাদার ওরফে বাবুল মেম্বার করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় সরকারি দায়িত্ব পালনরত ডাক্তারদের দায়িত্বপালনে বাধা প্রদান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। এছাড়া বরখাস্তকৃত অন্য সদস্যরা সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎসহ ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এবং কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপন দুটিতে বলা হয়, উল্লিখিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করে। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

একই সময় আলাদা আলাদা কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদের চূড়ান্তভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব পত্র পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে এ নিয়ে মোট ৪৯ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এদের মধ্যে ১৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ২৯ জন ইউপি সদস্য, একজন জেলা পরিষদ সদস্য ও একজন পৌরসভার কাউন্সিলর রয়েছেন।

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন