বিজ্ঞাপন

লকডাউনে বেড়েছে গৃহসহিংসতা, প্রথমবার নির্যাতিত হয়েছেন অনেক নারী

May 6, 2020 | 3:29 pm

রোকেয়া সরণি করেসপন্ডেন্ট

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে বেড়েছে নারী নির্যাতন। শুধু এপ্রিল মাসেই দেশেজুড়ে ৪ হাজারের বেশি নারী শিকার হয়েছেন গৃহ সহিংসতার। অনেকে আবার প্রথমবারের মতো গৃহ সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে উঠে এসেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জরিপে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় ১৭ হাজার নারীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে তারা এই জরিপটি পরিচালনা করে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ২৪৯ জন নারী যৌন নির্যাতন, মারধোর ও অবমাননাকর আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ১ হাজার ৬৭২ জন নারী লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।

বুধবার (৬ মে) ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুমের মাধ্যমে এই প্রেস কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গৃহে আবদ্ধ থাকার কারণে নারীরা তাদের পরিস্থিতি বলতে পারছেন না। আবার অনেককে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও করোনার কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা মিলছে না। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা সাহায্য করলেও অনেকসময় স্বামীদের অনুরোধে মীমাংসা করে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

জরিপের তথ্য অনুযায়ী স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন, মানসিক নির্যাতনের শিকার ২ হাজার আট জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৩০৮ জন নারী।

এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪ জন, হত্যা করা হয়েছে এক জনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে। গৃহ সহিংসতার শিকার এসব নারীরা করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আইনগত সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

শাহীন আনাম বলেন, করোনাভাইরাস জনিত লকডাউন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা কেমন আছে তা জানতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) তার কর্ম কলাকার নারী ও শিশুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। এমজেএফের দুটি প্রকল্পের ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭ জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২ টি গ্রাম ও চারটি সিটি করপোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এপ্রিল মাসে সংঘটিত সহিংসতা ও নির্যাতনের এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছে।

করোনা পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও অনান্য সহিংসতা প্রতিরোধ ও সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে ইউকেএইডের সহায়তায় নারী ও শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা (সিকিউরিটি এন্ড রাইটস অব উম্যান এন্ড গার্লস) এবং সুইডিশ সিডার সহায়তায় জেন্ডার ভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধ (কমবেটিং জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স) এবং এমজেএফ কর্তৃক পরিচালিত উক্ত কর্মসূচিদ্বয়ের আওতায় জরিপটি সম্পন্ন হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এমজেএফ সংবাদ সম্মেলনে কিছু সুপারিশ উত্থাপন করে। সেগুলো হল, যে হেল্পলাইনগুলো নারীদের সহিংসতা বন্ধে সহায়তা করে থাকে যেমন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে- ১০৯ ও পুলিশের সহায়তা জন্য-৯৯৯, সেগুলো আরও কার্যকর করা, যেন সহিংসতার শিকার নারীরা ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সহায়তা পেয়ে যায়।

অনেক নারীকে সহিংসতার কারণে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হচ্ছে বা বের করে দেওয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সেই নারীর আশ্রয় প্রয়োজন। তাই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীরা যাতে আশ্রয় পেতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ। কোভিড-১৯ এর কারণে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে বা ফোন করে আশ্রয় পাচ্ছে না।

অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং করোনা পরিস্থিতিতেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান রাখাার জন্য ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ দ্রুত মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, লকডাউন পরিস্থিতিতে যে নারী আগে কখনোই পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়নি সেও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী লকডাউন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, চীন, মালয়শিয়া, ভারত, আর্জেন্টিনা এবং তিউনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে প্রতি তিনজনে একজন নারী সহিংসতার শিকার হতো, সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কোনো রাষ্ট্রে প্রতি তিনজনে দুজন নারী সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

এমজেএফ পুরো এপ্রিল মাসে সহিংসতার শিকার ২২০২ জন নারী ও শিশুকে কাউন্সেলিং, আইনগত সহায়তা ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়েছে। ২০০০ জন নারী ও শিশুকে যারা নিয়মিতভাবে সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের ফলোআপ করেছে, যেন সে আবার সহিংসতার শিকার না হয়। সহযোগী সংগঠনের সহায়তায় ১৪১টি বাল্যবিবাহ নিরোধ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/আরএফ/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন