বিজ্ঞাপন

পুলিশের গাড়িতে হাসপাতালে গিয়ে করোনা আক্রান্ত নারীর সন্তান প্রসব

May 11, 2020 | 10:26 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ৬ মে বংশাল থানার কসাইটুলি এলাকার বাসিন্দা জাহিদুরের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা কামরুন্নাহারের জ্বর ও গলাব্যাথা শুরু হয়। তবে এদিন কোনো হাসপাতাই তার ভর্তি নিচ্ছিল না। তখন বিষয়টি বংশাল থানা পুলিশকে জানান জাহিদুর। পুলিশ এসে দ্রুত ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে আসে। ৭ মে ঢামেক থেকে জানানো হয়, কামরুন্নাহের নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) সকালে ওই নারীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে না পেরে তার স্বামী আবারও বংশাল থানায় ফোন করেন। চলে আসে পুলিশের গাড়ি। পরে তাদের সহায়তায় সেই গাড়িতে করেই ঢামেকে নিয়ে যাওয়া হয় কামরুন্নাহারকে। সেখানকার বার্ন ইউনিটের করোনা আইসোলেশনে সকালের দিকে তিনি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে নবজাতক সুস্থ আছে।

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকির বলেন, ‘তাদের ফোন পেয়ে বাসায় গিয়ে স্বামী ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর জন্য পিপিই, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক পরিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পুলিশের গাড়িতে তুলি। এরপর ওই নারীকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।’

বিজ্ঞাপন

শাহীন ফকির বলেন, ‘এর গত ৬ মে অন্তঃসত্ত্বা এিই নারীর জ্বর ও গলাব্যাথা শুরু হয়। কোনো হাসপাতাল যখন তাকে ভর্তি নিচ্ছিল না তখন বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান তার স্বামী জাহিদুর রহমান। এরপরই দ্রুত ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া ওই সময় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনাও দেওয়া হয়। পরে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে, স্বাস্থ্যাবিধি মেনে থানার গাড়িতে করে তাদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি।’

ওসি জানান, গত ৭ মে ঢামেক থেকে জাহিদুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানায় কামরুন্নাহার কোভিড-১৯ আক্রান্ত। পরে ওই গর্ভবতী মহিলার সার্বক্ষণিকভাবে সুস্থতার জন্য যোগাযোগ করি। আজ সকালে জাহিদুর রহমান ফোনে জানায়, তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠেছে। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানেই তিনি পুত্র সন্তান প্রসব করেন।

বিজ্ঞাপন

বংশাল থানা পুলিশের এমন ভূমিকা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৌরব বাড়িয়ে দিয়েছে। উৎসাহ-উদ্দীপনা পেলে আরও ব্যাপক হারে ঝুঁকিপূর্ণ মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান ওসি শহিন ফকির।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঢামেকের করোনা ইউনিট এই প্রথম কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্ম দিল। মা ও সন্তান উভয়ই ভালো আছে।’

বিজ্ঞাপন

পরিচালক আর বলেন, ‘জন্মের পরে মায়ের সংস্পর্শে এসে নবজাতক যে করোনায় আক্রান্ত হবে না, এটা বলা যাবে না। এই ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। যদি প্রয়োজন হয় নবজাতকেরও করোনা পরীক্ষা করা হবে।’

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন