বিজ্ঞাপন

করোনাকালেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে বাজেটে

May 12, 2020 | 10:23 am

গোলাম সমাদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে থাকছে বড় ধরনের ঘাটতি। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) অভিঘাতের কারণে আগামী বছরেও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তা সত্ত্বেও ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাকি রাজস্ব আসবে এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আয় ধরা হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ শতাংশ। এনবিআর বর্হিভূত রাজস্ব আয় ধরা হয় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। আর কর বর্হিভূত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে সংশোধিত বাজেটে এনবিআর‘র রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে সেটিও অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-১৯ থেকে মার্চ-২০) এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গত মার্চে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত এই ঘাটতি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের কারণে বড় ক্ষতির অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগামী অর্থবছরের জন্য ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এটাকে অবাস্তব ও কাল্পনিক বলে অভিহিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, বর্তমানে লকডাউনে সারাদেশ সব কিছু বন্ধ। উৎপাদন নেই, পণ্য চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোম্পানিগুলোর আয় নেই বললেই চলে। ফলে ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায়ও তলানিতে। আগামীতে এই অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে। দেশের অর্থনীতি-ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতায় সরকারের আয় বা রাজস্বে আরও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় আগামী বাজেট হওয়ার উচিত রাজস্ব আয় নয়, বরং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার বা পুনর্গঠনের  বাজেট।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জ্বা আজিজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, বড় ধরনের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত  বলে মনে করি না। আমাদের বাজেটের একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে বাস্তবতা বিবর্জিত উচ্চাভিলাষী বাজেট তৈরি করি। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে সবসময় বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যায। সংশোধিত বাজেটে কিছু লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়। তারপরও তা অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে এই ধরনের  বাজেট কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল থাকে না। তাই যৌক্তিক পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সারাবাংলাকে বলেন, এনবিআরের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং বাস্তবভিত্তিক হিসাব-নিকাশ না করে রাজস্ব আদায়ের একটি লক্ষ্য ঠিক করে এনবিআরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিলই নেই। ফলে এনবিআরও এটি অর্জন করতে পারে না। আবার তাদের জবাবদিহিতার মধ্যেও আনা যায় না। কারণ তাদের বক্তব্য, এই লক্ষ্যমাত্রা তো তারা ঠিক করেনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমাদের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে বাস্তবতা বিবেচনা করে। করোনার কারণে মানুষের আয় নেই বললেই চলে। মানুষের আয় না থাকলে সে ট্যাক্স দেবে কিভাবে?

আবদুল মজিদ আরও বলেন, প্রতিবছর বড় আকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। আর এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়। এই অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন