বিজ্ঞাপন

ব্যাংকগুলোকে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দিতে বছর মেয়াদি রেপো চালু

May 13, 2020 | 9:18 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ১ বছর (৩৬০ দিন) মেয়াদি বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিধিবদ্ধ জমা হারের (এসএলআর) অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জামানত রেখে তহবিল নিতে পারবে। আর এই তহবিল সরকার ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যবহার করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

বিজ্ঞাপন

যে সুদহারে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেয়, সেটিকেই রেপো রেট বা নীতি সুদহার বলা হয়। বর্তমানে এই রেপো রেট ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিদ্যমান এই সুদহারকে ভিত্তি ধরে বিশেষ রেপোর সুদের হার ও পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় দেশের অর্থনীতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এই প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে মুদ্রাবাজারে তারল্য বাবস্থাপনা আরও বেশি সুষ্ঠু করতে ৩৬০ দিন মেয়াদি বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) প্রচলন করা হলো।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ওভারনাইট বা একদিন, ৭ দিন, ১৪ দিন ও ২৮ দিন মেয়াদি রেপো রয়েছে। বিদ্যমান এসব রেপোর ক্ষেত্রে ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রি করে টাকা ধার নিতে পারে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বর্তমানে বিশেষ রেপোর আওতায় ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখেও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিল নিতে পারবে ব্যাংকগুলো। আর বছর মেয়াদি রেপোও এই প্রথম চালু হলো দেশে। এই রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যে তহবিল সংগ্রহ করবে, তা প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ আকারে ব্যবসায়ীদের চলতি মূলধন হিসেবে বিতরণ করার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান রেপো হারকে ভিত্তি ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রনীতি ও মুদ্রা বাজারের তারল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিশেষ রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুদের হার ও পরিমাণ নির্ধারণ করবে অকশন কমিটি। এ বিষয়ে তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।

রেপো সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠনের ধারণ করা এসএলআরের অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ সাপেক্ষে জামানতযুক্ত রেপো লেনদেন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের অভিহিত মূল্যের ওপর যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ও ৫ শতাংশ মার্জিন প্রয়োগ করে অভিহিত মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ রেপো হিসেবে দেওয়া হবে। এরকম রেপোর বিপরীতে বন্ধকি সম্পূর্ণ সিকিউরিটিজ দায়মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এই সিকিউরিটিজ অন্য কোনো ক্ষেত্রের জন্য জামানত বা সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

বিজ্ঞাপন

আরও বলা হয়েছে, এভাবে গৃহীত অর্থ দিয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হবে। রেপোর মাধ্যমে গৃহীত অর্থ বংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অনুমোদন ছাড়া সরকারি সিকিউরিটজ ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে বিনিয়োগ করা যাবে না।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

Tags: , , , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন