বিজ্ঞাপন

সিট খালি নেই, ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি স্থগিত

May 14, 2020 | 5:20 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বেড খালি না থাকার কারণে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। গতকাল বুধবার থেকেই এই অবস্থা চলছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ রোগী শুন্য। সেখানে যেই আসছে, যাচাইবাছাই না করেই পাঠিয়ে দেওয়া অন্য হাসপাতালে। কাউন্টারের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, একটি কাগজ, যেখানে লেখা রয়েছে ‘আমরা অতি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের কোন সিট ফাঁকা নেই। দয়া করে কুর্মিটোলা/মুগদা হাসপাতালে যান।’

করোনা ইউনিটের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক জানান, গতকাল থেকে সিট ফাঁকা নেই। এইজন্য লেখাটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনেক রোগী ভর্তি করাতে না পেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। ঢাকা জেলার ধামরাই থেকে রহমত আলীকে (৭০) নিয়ে এসেছেন তার ছেলে রাশেদুল ইসলাম। করোনা ইউনিটে গিয়ে জানতে পারে এখানে সিট খালি নেই, ভর্তি আপাতত বন্ধ। তারপরও বাবাকে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে সে। পরে নিরুপায় হয়ে বাবাকে নিয়ে ফের বাসায় ফিরে যান তিনি।

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে মিজানুর রহমান তার মা সামিনা বেগম (৬০) চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। ফিরে যেতে হয়েছে তাদেরও। মিজানুর রহমান বলেন, ‘মা অনেক আগে থেকেই অসুস্থ। এর আগে মাকে নিয়ে মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানেও ভর্তি করতে পারেনি। ঢামেকেও ভর্তি হতে পারলাম না। আল্লাহর নামে নিয়ে গেলাম মাকে বাসায়। জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে।’

বিজ্ঞাপন

সিট খালি নেই, ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি স্থগিত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘কোভিড-১৯ রোগীদের কিছু নিয়ম-কানুন মেনে ভর্তি করা হয়। যেমন ধরুন আগে বার্ন ইউনিটে দগ্ধ রোগীরা গাদাগাদি করে থাকতো, এখন তো সেরকম করা যাবে না। চার থেকে পাঁচ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কোভিড আক্রান্ত রোগিদের রাখা হচ্ছে। হাসপাতালে করোনা ইউনিটে কোন রোগীকে ফ্লোরে রাখা হয় না। বেড ফাঁকা হলে আবারও রোগী ভর্তি করা হয় সেই বেডে।’

বিজ্ঞাপন

ঝুলিয়ে রাখা নোটিশের বিষয়ে তিনি জানান, হয়তো বা সকালের দিকে রোগী পরিপূর্ণতার কারণে ভর্তি কিছু সময় বন্ধ হয়ে থাকতে পারে তবে এখন ভর্তি কার্যক্রম চালু আছে। হাসপাতালে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে, এটা খুলে ফেলা হয়েছে। এটা কারা লিখেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, আগামী শনিবার চালু করা হচ্ছে ঢামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট-২। নতুন ভবনকে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে আনুমানিক ৫০০ রোগী ভর্তি হতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএসআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন