বিজ্ঞাপন

টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসে বিশ্বকে সংযুক্ত করার প্রত্যয়

May 17, 2020 | 11:50 am

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আজ ১৭ মে। বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। ‘কানেক্ট ২০৩০: আইসিটি ফর দ্য সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস (এসডিজি)’ বা ‘সংযুক্তি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে এই প্রতিপাদ্য বেছে নেওয়ার কারণে সবার মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব রেখেও সংযোগ স্থাপন। এ কারণেই এ বছর দিবসটিতে কোনো আয়োজন  না থাকলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাফ কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে ১৯৬৯ সালের ১৭ মে থেকে প্রতিবছর বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস পালিত হয়ে আসছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিপুল সম্ভাবনা এবং একে সমাজ ও অর্থনীতির কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সবাইকে সচেতন করাই দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য।

১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন বা আইটিইউয়ের সদস্যপদ লাভ করে। পরবর্তী সময়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সাল থেকে ১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এক বিবৃতি বলেন, এসডিজি’র মূল উদ্দেশ্য প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ জীবন ও পরিবেশ সুনিশ্চিত করা। সব স্তরের মানুষের কাছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছে দিতে সংযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত এই সংযুক্তির মূল চালিকাশক্তি। বর্তমান বিশ্বে আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও ডিজিটাল ব্যবধান কমিয়ে আনতে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য। এসডিজি’র ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। একইসঙ্গে মানুষকে সংযুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী লকডাউনে আবাসিক ইন্টারনেটের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের হোম ডেলিভারি, কোভিড-১৯ ও সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা, ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম, ভিডিও কনফারেন্স, অনলাইন প্রশিক্ষণ, দূরশিক্ষণ কার্যক্রম, ভিডিও স্ট্রিমিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাখাত ও আবাসিক ব্যবহারকারীদের জন্য পারস্পরিক সংযুক্তি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাতে ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেড়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং অধীন দফতর ও সংস্থাগুলো সফলভাবে এ চাহিদা পূরণ করছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরগুলোতে যেকোনো মহামারি প্রতিরোধে সংযোগ চাহিদা আরও বাড়বে। প্রচলিত প্রযুক্তির পরিবর্তে উচ্চগতির ফাইবারভিত্তিক কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে টেলিমেডিসিন সেবা, দূরশিক্ষণ, অনলাইন প্রশিক্ষণ, মহামারি আক্রান্ত এলাকা নির্ধারণ, সামাজিক সুরক্ষা প্রাপ্তির তালিকা তৈরি প্রভৃতি খাতে ‍কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগডাটার প্রয়োগ বাড়বে। বর্ধিত সব চাহিদা পূরণ করতে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ফাইভজি নেটওয়ার্ক এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যেই এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন