বিজ্ঞাপন

ব্যাংক কর্মীদের প্রণোদনা না দিলে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

May 18, 2020 | 1:22 pm

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকারের সাধারণ ছুটিকালীন স্বশরীরে উপস্থিত থাকার পরেও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রণোদনা ভাতা না দিলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করলে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনকালে প্রণোদনা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করার শামিল বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের সাধারণ ছুটিকালীন সর্বনিম্ন ১০ দিন অফিস করলে এক মাসের মূল বেতনের সমান অর্থ পাবে। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারী ১০দিনের বেশি অফিসে উপস্থিত থাকলে আনুপাতিকহারে স্ব স্ব ব্যাংক থেকে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। এ সার্কুলার অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যাংক যদি এ নির্দেশনা অমান্য করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে অথবা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব পরিদর্শনে তা প্রমাণিত হয়। তাহলে যে সব ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা ভাতা দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিবিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যেখানে বলা হয়, সরকারের সাধারণ ছুটিকালীন ১০দিন স্বশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত থাকলে ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারীরা অতিরিক্ত একমাসের মূল বেতন পাবেন। আর কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারী ১০ দিনের বেশি স্বশরীরে উপস্থিত থাকলে আনুপাতিকহারে স্ব স্ব ব্যাংক থেকে যাতায়াত ভাতা পাবেন। স্থায়ী ও অস্থায়ী সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাবেন। এই অর্থের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনা দিলেও অধিকাংশ বেসরকারিখাতের ব্যাংক এ নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল), সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এসআইবিএল, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), ঢাকা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক।

এ সব ব্যাংকের বেশকয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা অফিস করলেও মাসিক বেতনের বাইরে আমাদের বাড়তি কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। কবে করবে কিংবা আদৌ করবে কি না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে কিছু বলছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করলেও আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। এ ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

অন্যদিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের কারণে আগে থেকেই ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকটে ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে সে সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে গত ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোতে ঋণ ও আমানতের সুদের হার নয়, ছয় শতাংশ কার্যকর হয়েছে। এতে করে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকট আরও বেড়েছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের কারণে এপ্রিল ও মে মাসের ব্যাংক ঋণের সুদ অদায় স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করে ব্যাংকগুলোর আয় কমে গেছে।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে আগামী ৩১ মে মে পর্যন্ত সময়ে বিল পরিশোধ না করলেও সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের চক্রবৃদ্ধি সুদ নেওয়া যাবে না। আবার ব্যাংকে আমানত রাখার পরিমাণ কমে গেছে। বিপরীতে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পরিমাণও বেড়ে গেছে। এ সব কারণে ব্যাংকগুলো অনেকটা তারল্য সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারী মাসে ১০ দিন উপস্থিত হওয়ার জন্য নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বাড়তি এক মাসের মূল বেতন দেওয়া দুরূহ। শুধু তাই নয়, ব্যাংকের গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা থেকে আনা নেওয়া করার পরেও ১০ দিনের বেশি অফিস করলে বাড়তি যাতায়াত ভাতা দেওয়া হলে ব্যাংকগুলো আরও চাপে পড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এখনও লকডাউন চলছে, এটি শেষ হলে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রণোদনা ভাতা দেওয়া হবে। এখন হিসাব-নিকাশ চলছে কে কত টাকা পাবেন, কতদিন স্বশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘হিসাব-নিকাশ শেষে লকডাউনের পর প্রণোদনা ভাতা একসঙ্গে দিয়ে দেওয়া হবে।’

অন্যদিকে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম সারোয়ার মোবাইলে যোগাযেগ করা হলে এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না।’

সারাবাংলা/জিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন