বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরার ৪৩ কিমি বাঁধে ঝুঁকি, আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না মানুষ

May 19, 2020 | 7:30 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সাতক্ষীরা: এমনিতে বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। তার উপর ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে উপকূলের জেলার মানুষগুলো। তেমনি একটি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। এই জেলার প্রায় ৪৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এদিকে আম্ফান উপকূলের কাছাকাছি এলেও করোনার ভয়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যেতে চাচ্ছে না মানুষ।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আর এই দুর্যোগকালীন পরিস্থির আগ মুহূর্তে শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকার বেশকয়েকটি স্থানে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সাতক্ষীরা পনি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ও পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, সাতক্ষীরার দুটি বিভাগের মধ্যে ৮০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে পাউবো বিভাগ-১ এর মধ্যে রয়েছে ৩৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ কিলোমিটার। পাউবো বিভাগ-২ এর অধীনে রয়েছে ৪২২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এর মধ্যে ঝুকিপূর্ণ ১৮ কিলোমিটার।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরার ৪৩ কিমি বাঁধে ঝুঁকি, আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না মানুষ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের খাজরা বাজার পয়েন্ট, গদাইপুর; আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া, বিছট; শ্রীউলা ইউনিয়নের হিজলা, মাড়িয়ালা, কাকড়াবুনিয়া, প্রতাপনগরের ঘোলা, নাকনা, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, আশাশুনি সদর ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া দয়ারঘাট, জেলেখালীসহ বেশ কয়েকটি স্থান।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী, পাশ্বেমারী, খলসেবুনিয়া, চাঁদনীমুখা, বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের পোড়াকাটলা, টুঙ্গিপাড়া, হুলো, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের চুনকুড়ি, কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঝাপালী ঘোলা, ত্রিমোহনী আটুলিয়া, রমজাননগর ইউনিয়নের গোলাখালী, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বাইনতলা, কামালকাটি, সুভদ্রকাটিসহ বেশকয়েকটি এলাকার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

এসব বাঁধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। তবে ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের যে গতিবেগ বলা হচ্ছে, তাতে নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হতে পারে। সেই অবস্থা হলে অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরার ৪৩ কিমি বাঁধে ঝুঁকি, আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না মানুষ

সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা আবুল বাসেত জানান, আম্ফান মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৪৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও ১ হাজার ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যাতে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবানের ব্যবহার নিশ্চত করা যায় সে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ স্বেচ্ছায় আসতে চাচ্ছে না। সেখানে মানুষদের আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খুবই কম সংখ্যাক মানুষ এসেছে বলে জানান ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বাসেত।

সারাবাংলা/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন