বিজ্ঞাপন

আম্পানই শেষ নয়, আসছে ‘নিসর্গ’ আর ‘গতি’

May 20, 2020 | 4:45 pm

সন্দীপন বসু

সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ এখন দোরগোড়ায়। আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আর কয়েক ঘণ্টা মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। এ কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৬ বছর  আগে ২০০৪ সালে ‘আম্পান’ নামের এই সুপার সাইক্লোনটির নাম দিয়েছিল থাইল্যান্ড। থাই ভাষায় ‘আম্পান’ শব্দের অর্থ আকাশ। কিন্তু এই ‘আকাশ’ই বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের কাছে আজ হয়ে উঠেছে ত্রাসের অন্য নাম!

আম্পান আপডেট

বিজ্ঞাপন

অবশ্য ২০০৪ সালের আগে ঝড়ের নামকরণের প্রচলন ছিল না। সে সময় কোনো বড় ঝড় হলে ওই ঝড়ের সময়ে সংগঠিত নানা ঘটনা থেকে ঝড়ের নাম ঠিক করা হতো। যেমন ওই ঝড়ে যে এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ওই এলাকার নামানুসারে রাখা হতো ঝড়ের নাম। এছাড়া ঝড়ে কোনও জাহাজ ডুবে গেলে সেই জাহাজের নামও হয়ে যেতো ঝড়ের নাম।

কিন্তু আবহাওয়াবিদদের অনেকদিন থেকেই দাবি ছিল নামকরণের পক্ষে। কারণ এতে ঝড় সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হয় আর একই সমুদ্রে একাধিক ঝড় থাকলে চিহ্নিত করতেও সুবিধা হয়। এছাড়া ঝড় চলে গেলে ওই ঝড়ের কোনো তথ্য বা ঘটনার কথা জানাতে বিপত্তিতে পড়তে হয় না।

আম্পান: লাইভ আপডেট

এরপর ২০০০ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিওএমও) ঝড়ের নামকরণের পক্ষে মত দেয়। অবশ্য এর আগেও যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়া এলাকায় ঝড়ের নামকরণ করা হত। ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হলেও আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় হারিকেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বলা হয় টাইফুন।

ইকনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দা প্যাসিফিক (এএসসিএপি) ২০০৪ সালে প্রথম ঝড়ের নামকরণ করা শুরু করে। আর এই নামকরণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে দ্য ন্যশনাল ওশানিক এন্ড এটমোস্ফিয়ার এডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)। আর এখন এখন সারা পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে থাকে। আর এই পুরো বিষয়টি তদারকি করে ডব্লিওএমও’র আঞ্চলিক কমিটি।

কোনো ঝড়ের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় নূন্যতম ৩৯ মাইল হয়, তাহলে তাকে একটি নাম দেওয়া হয়।  কারো অনুভূতিতে আঘাত করে না এমন রাজনীতি, লিঙ্গ, ধর্ম ও সংস্কৃতি নিরপেক্ষ নাম ঠিক করে ডব্লিওএমও’র সদস্য দেশগুলো।

প্রচলিত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে যে মহাসাগর ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলি তার নামকরণ করে। সেই হিসেবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা শুরু করে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরে অবশ্য ২০১৮ সালে ওই আটটি দেশের সঙ্গে যোগ করা হয় আরও ৭টি দেশকে। এখন মোট ১৫টি দেশ মিলে পর্যায়ক্রমে এই অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করে।

ডব্লিওএমও’র ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী আম্পানের পর আসা ঝড়টির নাম হবে ‘নিসর্গ’। এই নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। তার পরের ঝড়টির নাম হবে ‘গতি’ (ভারত)। আর তার পরের ঝড়টির নাম হবে ‘নিভার’ (ইরান)। এর পরের ঝড়গুলোর নাম পর্যায়ক্রমে হবে, ‘বুরেভি’ (মালদ্বীপ), ‘তৌকতাই’ (মিয়ানমার), ‘ইয়াস’ (ওমান)।

দ্য ন্যশনাল ওশানিক এন্ড এটমোস্ফিয়ার এডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত মহাসাগরের আরব সাগর অংশে ইতোমধ্যেই আরেকটি ঘূর্ণিঝড় দানা বাঁধছে। চলতি বছরে আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা এই অঞ্চলে তিনটি ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা করছেন।

সারাবাংলা/এসবিডিই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন