বিজ্ঞাপন

করোনাকালে অনলাইনে ঈদের কেনাকাটা

May 21, 2020 | 11:00 am

তিথি চক্রবর্তী

রোজার আগে থেকেই ঈদের পরিকল্পনা— কেনাকাটা, নাড়ির টানে গ্রামে ফেরা, নানা মহলে ইফতার পার্টি আরও কত কী! ঈদ যত কাছাকাছি আসে আনন্দও তত বেড়ে যায়। পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়াও নামই তো ‘ঈদ’।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু আমরা থমকে গেলাম, থমকে গেল পুরো বিশ্ব। ভয়ঙ্কর এক ভাইরাসের সঙ্গে লড়ছি আমরা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন দেশে দেশে চলছে লকডাউন। এমন একটি পরিস্থিতিতে কাটাতে হবে এবারের ঈদ। জীবনযাত্রার এমন পরিবর্তনে
যখন সুস্থ থাকাই বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার, তখন ঈদ ‘উদযাপন’ করার মতো অবস্থায় নেই কেউই। এবারের ঈদ উদযাপন তাই ছোট পরিসরে, একেবারেই ঘরোয়াভাবে।

করোনাকালে নিজের ও পরিবারের সুস্থতা নিশ্চিত করতে আমাদের দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। সবাই ঘরেই থাকছেন। তাই হরহামেশা বাজারে যাওয়ার সুযোগও মিলছে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটি মাথায় রেখে অনলাইনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার প্রবণতা এখন বেশি। খাবারদাবার, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস, ওষুধ, বাচ্চাদের খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র অনলাইনেই অর্ডার করছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন

অনলাইন দোকান ‘পিওর বাংলাদেশ’ এর উদ্যোক্তা শাহিনা রহমানের ব্যবসা মূলত খাদ্যসমগ্রীর। মুড়ি, ঢেঁকি ছাটা মশলা, তেল, ঘিসহ রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয় এমন অনেক পণ্য অনলাইনে বিক্রি করেন তিনি।

শাহিনা জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বেশ কিছুদিন অনলাইনে বিক্রি একেবারেই বন্ধ ছিল। কিন্তু রোজা শুরু হওয়ার আগে তার নিয়মিত ক্রেতারা আবার পণ্য নিতে শুরু করেছেন। তবে এখন সরবরাহকারি বা ডেলিভারি ম্যান কম থাকায় অর্ডার পৌছাতে কিছুটা দেরি হয়। তারপরও খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা কম না।

‘আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিবহন খরচ দিয়ে পণ্যগুলো গ্রাম থেকে প্রক্রিয়াজাত করে নিয়ে আসেন। ফলে লাভ তেমন থাকে না’- বললেন শাহিনা রহমান। এবারের ঈদ যেহেতু একেবারেই ভিন্নরকম এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে পালন করতে হচ্ছে ফলে পোশাক, জুতা কিংবা গয়না কেনার প্রতি তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না অনেকেই। বড়জোর বাচ্চার জন্য অনলাইনে পোশাক কিনছেন।

‘শখের নাটাই’ অনলাইন প্রতিষ্ঠানটি নবজাতক থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জামাকাপড় বিক্রি করে। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা আসমা আলম জানান, চলতি মাসের ৫ ও ৬ তারিখ মাত্র দুইদিনে প্রচুর অর্ডার পেয়েছেন। ঈদের আগে এইসব অর্ডার পৌছে দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে আপাতত অর্ডার বন্ধ করতে হয়েছে।

শাম্মি রহমান অনলাইনে কেনাকাটায় তেমন অভ্যস্ত ছিলেন না। এর প্রধান কারণ আস্থা পেতেন না। তবে করোনাকালে অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী ও সংসারের টুকিটাকি অনলাইনেই কিনছেন। তিনি বলেন, ‘অর্ডার দেরিতে পৌছায়। অনেকসময় ৫/৭ দিনও লেগে যায়। তবে বাজারে যাওয়ার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে এটাই ভালো লাগছে। একটু আগেভাগে অর্ডার করলেই হয়ে গেল।’

নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মলগুলো এখন বন্ধ। তবে বিশেষ কায়দায় খুলেছে আড়ং। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনাও হচ্ছে। কর্মী ও ক্রেতাদের সুরক্ষা মানা হচ্ছে কীভাবে- জানতে চেয়েছিলাম আড়ংয়ের প্রধান শাখার একজন কর্মকর্তার কাছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ‘বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে রেখে সেখান থেকে প্রতি ঘন্টায় একসঙ্গে ২০ জনকে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে। ১ ঘন্টা শেষ হলেও অনেকে বের চান না। তখন বারবার ঘোষণা দিয়ে তাদের বের করে দিতে হয়।’ তবে এবারের ঈদে অনলাইন কেনাকাটাই হচ্ছে বেশি- জানালেন এই কর্মকর্তা।

করোনা পরিস্থিতিতে দোকানে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা করা উচিত কিনা জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা জরুরী করোনা প্রতিরোধ টিমের সদস্য ডা. টিটন কুমার ঘোষ বলেন, ‘এখন যতটা সম্ভব ঘরে থাকা দরকার। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে বাইরে না যাওয়াই ভালো। পোশাক, জুতা বা অন্য বিলাসি জিনিস এখন কেনা খুব জরুরী না।’

স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কীভাবে অনলাইনে কেনাকাটা করা সম্ভব জানতে চাইলে এই চিকিৎসক জানান, অনলাইনে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে ডেলিভারি ম্যানের কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব রেখে পণ্যটি নিতে হবে। পণ্যটি বাসায় ঢোকানোর আগে দরজার বাইরে জীবাণুণাশক স্প্রে করে দিতে হবে। এরপর ওপরের প্যাকেট ঢাকনাযুক্ত ঝুড়িতে ফেলতে হবে এবং সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

‘টাকা অনলাইনে পরিশোধ করলে সবচেয়ে ভালো হয়। তা যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা মানতে হবে। যেমন: ডেলিভারি ম্যানের সঙ্গে টাকা লেনদেন করার পর সেই হাত দিয়ে চোখ, মুখ, নাক স্পর্শ করা যাবে না। সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। পণ্যটি বাসায় আনার পর অন্তত ৮ ঘন্টা কোন একটি জায়গায় রেখে দিতে হবে’— বললেন ডা. টিটন কুমার ঘোষ।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবচেয়ে জরুরী হলো সাবধান থাকা। নিজের ও পরিবারের সুস্থতা নিশ্চিত করা। মনোবল ধরে রাখা। নিশ্চয়ই এই আঁধার কেটে যাবে। ঈদের আনন্দও আমাদের জীবনকে ভরিয়ে তুলবে, নতুন বার্তা নিয়ে হাজির হবে।

সারাবাংলা/টিসি/এসবিডিই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন