বিজ্ঞাপন

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়েছে ছিনতাই

May 20, 2020 | 8:29 pm

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চলমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর ফাঁকা সড়কে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অস্ত্র ব্যবহার করে উদ্দেশ্য পূরণ করছে ছিনতাইকারীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজধানীতে সড়কগুলোয় পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকায় ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

বিজ্ঞাপন

তবে পুলিশের দাবি, রাজধানীতে পুলিশ সরব অবস্থান রয়েছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরকম ছিনতাইয়ের মতো দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। তবে অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধ পরিকর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারাবাংলা ডটনেটের গাড়িচালক আজগর আলী সেগুনবাগিচায় অফিসের গাড়ি রেখে বাইসাইকেলযোগে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাংলামোটর থেকে সোনারগাঁও মোড় সড়কে একদল ছিনতাইকারী আজগরের সাইকেল থামায়। ছিনতাইকারীরা এ সময় মানিব্যাগ বের করে টাকা, মোবাইল ফোন ও বাইসাইকেলটি নিয়ে চলে যায়। ছিনতাইকারীরা আজগরকে এ সময় ছুরিকাঘাতও করে।

বিজ্ঞাপন

আজগর আলী বলেন, ‘সাইকেল ও মোবাইল ফোনটা ফেরত চাইলে ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে। এ সময় সড়কে লোকজন ছিলেন না। আশেপাশে পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়নি। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে কলাবাগানে সারারাবাংলা ডটনেটের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) স্যারের বাসায় যাই। এরপর সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাই। ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা তিনটি সেলাই ও অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়ার পর রাত ৩ টার দিকে ছেড়ে দেন। এ সময় হাসপাতালে পুলিশের টিম এসে আমাকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘রাতেই আজগরের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে জেনে পুলিশ মাঠে নেমেছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের অন্য একটি টিম ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার ও ছিনতাইকারীদের ধরতে মাঠে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। একটু সময় লাগলেও ছিনতাইকারীদের পাকড়াও করা হবে এবং মালামাল উদ্ধার হবে।’

এদিকে শুধু বাংলামোটর এলাকাতেই নয়, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর খিলখেত, যাত্রাবাড়ী ও কোতয়ালী এলাকাতেও।

গত ১৯ মে খিলক্ষেত থেকে ৬৫ হাজার টাকাসহ এক নারীর ব্যাগ ছিনতাই করে পালানোর সময় ভিকটিমের সহায়তায় ছিনতাইকারীদের প্রাইভেটকারসহ বনানী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি খিলক্ষেত থানায় মামলা হয়েছে।

গত ১০ মে দুপুরে যাত্রাবাড়ী জনপদ মোড়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ৫৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় একদল ছিনতাইকারী। এ সময় ছিনতাইকারীরা অস্ত্র বের করে ফাঁকা গুলিও চালায়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

বুধবার (২০ মে) সাইফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘দিনের বেলায় একজনকে মদনুষকে পিটিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে গেলো আর পুলিশ কিছুই বের করতে পারবে না তা কি করে হয়। করোনার পর রাস্তায় পুলিশকে দেখাই যায় না। সড়কে পুলিশ কম থাকায় এই ধরনের ছিনতাই হচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো না গেলে ছিনতাই আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

অন্যদিকে গত ৮ মে রাজধানীর কোতয়ালী থানাধীন ইসলামপুর এলাকায় ব্যাংকে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা ধরলে আর্ত চিৎকারে লোকজন এবং পাশেই চলা ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে ছিনতাইকারীদের ধরে ফেলে। রক্ষা পায় ব্যবসায়ীর টাকা।

হঠাৎ কেন এতো বেশি ছিনতাই হচ্ছে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃঞ্চপদ রায় সারাবাংলাকে বলেন, ‘দুই একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে সজাগও রয়েছে পুলিশ। হয়ত আরও বেশি ঘটার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু পুলিশ দৃশ্যমান থাকায় তা হচ্ছে না। ছিনতাইকারীদের ধরতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।’

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন