বিজ্ঞাপন

৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষি

May 22, 2020 | 6:15 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘আমচাষিদের সরাসরি বীজ বা সার দিয়ে প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগ নেই তবে তাদের পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত আমচাষিরা ৪ শতাংশ সুদে কৃষি ঋণ পাবে।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২২ মে) ক্ষতিগ্রস্ত আম ও লিচু চাষিদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান সারাবাংলাকে এসব কথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, সিলেট ও ময়মনসিংহ বাদে দেশের ৪৩ জেলায় আম্পানের আঘাত লেগেছে। ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমির মধ্যে ৪৮ হাজার ৬২১ হেক্টর আমের বাগান আক্রান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ক্ষতির হিসাব ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৩৮৪ হেক্টর, যা শতকরায় ১০ ভাগ। তবে শুক্রবারের তথ্য বলছে, দেশের প্রায় অর্ধেক আম বাগান ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ১৮ হাজার ৩২০ হেক্টর লিচু বাগানের মধ্যে ১০ হাজার ২১২ হেক্টরের লিচু আক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ক্ষতির পরিমাণ বলা হচ্ছিল ৪৭৩ হেক্টর, শতকরায় ৫ ভাগ। তবে শুক্রবারের তথ্য বলছে অর্ধেকের বেশি লিচু বাগান আক্রান্ত হয়েছে।

কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান সারাবাংলাকে জানান, অর্ধেক আম নষ্ট হয়নি। সাতক্ষীরায় ৭০ শতাংশ আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট ১০ থেকে ১৫ শতাংশ, রাজশাহীতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ। পুরো রাজশাহীর গড় করলে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ হবে।

এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ থেকে ৬ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫ থেকে ৬ শতাংশ ও নওগাঁয় ৩ থেকে ৫ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। আর লিচুর ক্ষতির পরিমাণ ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি হবে না। আর দিনাজপুরের লিচু এখনও পরিপক্ক হয়নি তাই ক্ষতির পরিমাণও কম বলেও জানান সচিব।

দেশের প্রায় অর্ধেক আম বাগান আক্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করলে সচিব বলেন, ‘আক্রান্ত আর ক্ষতিগ্রস্ত এক বিষয় নয়। আক্রান্ত হচ্ছে পুরো এরিয়া। পুরো আক্রান্ত এলাকাই ক্ষতিগ্রস্ত নয়। অর্থাৎ ক্ষতির পরিমাণ এতো বেশি নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে আম কিনে ত্রাণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছি। কারণ সাতক্ষীরার আম এখন পরিপক্ক। সাতক্ষীরায় প্রাণের আচারের একটি ফ্যাক্টরি আছে। তাদেরও অনুরোধ করেছি সেখান থেকে আম কিনতে। সেখানে কৃষক এখন ভালো আম ১০ টাকা কেজি বা ৪০০ টাকা মণে বিক্রি করছে। আর কিছুটা খারাপ মানের আম ৫ টাকা কেজিতে ২০০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে।’

প্রণোদনার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমচাষিদের বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে প্রণোদনা দেওয়া যায় না। তারা চাইলে আমরা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এটি কৃষিঋণের মধ্যেই পড়বে। আগে ৪ শতাংশ সুদের মধ্যে ফসল অন্তর্ভুক্ত ছিল না, শুধুমাত্র মসলা জাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে এই ঋণ দেওয়া হতো।’ বাংলাদেশ ব্যাংককে আমরা অনুরোধ করেছি। সব তফসিলি ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণের আওতায় এই ঋণ পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন