বিজ্ঞাপন

কঠিন সময়ে মাশরাফি সাহস যোগাতেন: সৌম্য সরকার

May 22, 2020 | 10:31 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

‘কঠিন সময়ে তিনি পজিটিভ কথা বলেন। অফফর্মের সময় মাশরাফি ভাইয়ের বড় সমর্থন পাই। তিনি বলতেন, পারবি বিশ্বাস রাখ নিজের ওপর’। ডিজিটাল প্লাটফর্ম র‍্যাবিটহোলের আয়োজন 'ক্রিকাড্ডা'য় যুক্ত হয়ে এমনটাই বললেন জাতীয় দলের বামহাতি ওপেনার সৌম্য সরকার।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের ক্রিকেটহীন সময়ে ক্রীড়াসাংবাদিক তায়িব অনন্তের উপস্থাপনায় দেশের জনপ্রিয় র‌্যাবিটহোলবিডির প্লাটফর্মে আয়োজিত হচ্ছে ক্রিকেটারর্স গসিপ শো ‘গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স প্রেজেন্টস-ক্রিকাড্ডা উইথ অনন্ত’। দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের নিয়ে নিয়মিত চলছে এই আয়োজন।  ‘ক্রিকাড্ডা’য় যুক্ত হয়েছিলেন সৌম্য সরকার। সেখানেই এমনটা জানান তিনি। এছাড়া তার বাজে সময় শুরুর গল্পও শুনিয়েছেন সেখানে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সৌম্য সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজসিক কায়দায়। ২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য টপ অর্ডারের ব্যাকআপ ব্যাটসম্যান হিসেবে ইমরুল কায়েসকেই ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু অভিজ্ঞ ইমরুলকে টপকে হুট করে বিশ্বকাপ দলে ঢুকে পড়েন সৌম্য। বিশ্বকাপের ঠিক আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে অভিষেক এই বামহাতি ওপেনারের। লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের আগে একবার বাজিয়ে দেখা। সেদিন ৩০ বলে মাত্র ২০ রান করে আউট হলেও তৎকালীন কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মন জিতে নেনে সৌম্য।

বিজ্ঞাপন

২০ রানে করতেই চার মেরেছিলেন ৪টি, তার মধ্যে চোখ ধাঁধানো এক পেরিস্কোপ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং স্টাইল আর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনের সঙ্গে মানানসই শারীরিক উচ্চতা মিলিয়ে হাথুরুসিংহের মনে ধরেন সৌম্য, বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া সেভাবেই। তারপরের গল্পটা তো সবারই জানা।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপে ‘ভয়ডরহীন’ ক্রিকেট খেলে মুগ্ধ করেছিলেন সৌম্য। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠে বাংলাদেশ। সেই উচ্ছ্বাস পরে দেশের মাটিতেও করেছেন তরুণ ক্রিকেটার।

বিশ্বকাপের পর দেশের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন সৌম্য। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সৌম্যর মধুচন্দ্রিমা শেষ হয়েছে সেখানেই। তারপর টানা বাজে খেলেছেন, দল থেকে বাদ পড়েছেন বহুবার। ব্যাটিং পজিশনটাও আর নির্ধারিত নেই। ওপেনার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে কখনো মিডল অর্ডারে, কখনো মিডল লোয়ার অর্ডারেও ব্যাটিং করতে হয়েছে। এখনও দলে থিতু হতে পারেননি। এই বাজে সময় শুরুর গল্প শুনিয়েছেন সৌম্য।

ক্রিকাড্ডায় এক প্রশ্নের উত্তরে তরুণ সৌম্য বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে বেশ ভালোই খেলেছি। তারপর আসলে আমাদের খুব বেশি ওয়ানডে ম্যাচ ছিলো না। টি-টোয়েন্টি ছিল বেশি। আমি টি-টোয়েন্টিতে ভালো খেলতে পারিনি। আসলে ভালো খেলতে না পারলে খারাপ তো লাগেই। এখান থেকে যতটা দ্রুত বেরুনো যায় তত ভালো। ভালো খেললে প্রত্যাশা তৈরি হয়। অন্যদের যেমন তৈরি হয়, নিজেরও হয়। তবে সব সময় তো আর ভালো খেলা সম্ভব না। আপ অ্যান্ড ডাউন থাকবেই। তবে সব সময় চেষ্টা করে যাব ভালো খেলার। সমর্থকদের প্রত্যাশা যেন পূরণ করতে পারি সেই চেষ্টাই করব।’

কঠিন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক ট্রলের স্বীকার হতে হয়েছে সৌম্যকে। টানা অফ ফর্মে থাকা সৌম্যকে খেলিয়ে ফর্মে ফেরানোর চেষ্টা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট, সেই কারণেই হয়তো। সৌম্য বললেন, ওই সময়টাতে তৎকালিন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্ত্তজার বড় সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে সৌম্য বলেন, ‘উনি (মাশরাফি) সব সময় পজিটিভ কথা বলতেন। আমি সব সময় চেষ্টা করি টিমের জন্য খেলার, সেটা এক রান করে হলেও বেশি রান করে হলেও। বোলিং বা ফিল্ডিংয়েও। উনি সব সময় সাপোর্ট করতেন, বলতেন বিশ্বাস রাখ পারবি। সব সময় বুঝাতেন, অন্যরা কথা বলবেই। কিন্তু ওরা তো আর খেলছে না। আর মানুষ বলবেই, চেষ্টা করবি তাদের প্রত্যাশা মেটানোর জন্য। আর নিজের ওপর বিশ্বাস রাখবি। উনি আসলে অনেক কথাই বলতেন যেগুলো আসলে সাহস দেয়।’

জাতীয় দলের ক্রিকেটার, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সদস্য ও ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের নিয়ে এই আয়োজনটি প্রচারিত হয় রাত সাড়ে ১১ টায় র‍্যাবিটহোলবিডি ফেসবুক পেইজে (facebook.com/rabbitholebd) এবং র‍্যাবিটহোলবিডি স্পোর্টস ইউটিউব চ্যানেলে (Rabbitholebd Youtube Channel)।

সারাবাংলা/এসএইচএস/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন