বিজ্ঞাপন

আল আইন ০১৯— সেকেন্ডেই জানাবে করোনা পরীক্ষার ফল!

May 23, 2020 | 4:52 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'কোয়ান্টালিজ ইমেজিং ল্যাব' নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তের এক নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করেছে বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি— লেজারভিত্তিক এ যন্ত্রটি সেকেন্ডের মধ্যেই করোনা পরীক্ষার ফলাফল জানাবে। যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে 'আল আইন ০১৯'। যন্ত্রটি করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে একটি 'গেমচ্যাঞ্জার' উদ্ভাবন বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর খালিজ টাইমস, আরব নিউজ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কোয়ান্টলিজ ইমেজিং ল্যাব একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে জানায়— ৬ হাজার রক্তের নমুনার ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। এসব নমুনা আরব আমিরাত সরকার সরবরাহ করেছে। নমুনা পরীক্ষায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ফলাফল পাওয়া গেছে। তবে ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে পজিটিভ না হয়েও পজিটিভ ফলাফল। যা অন্যান্য র‍্যাপিড করোনা টেস্টিং কিটের তুলনায় নগণ্য। র‍্যাপিড নমুনা পরীক্ষার এ যন্ত্রটি ভাইরাস বহনকারীকে অন্যদর জন্য হুমকি হওয়ার আগেই শনাক্ত করবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি তৈরি এ যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে 'আল আইন ০১৯'। এতে 'লেজার-বেজড ডিফ্রেক্টিভ ফেজ ইন্টেরফেরোমেট্রি (ডিপিআই)' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই রক্তের নমুনায় ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। উল্লেখ্য, কোয়ান্টালিজ ইমেজিং ল্যাব আবু ধাবির স্টক মার্কেটে নিবন্ধিত কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং গ্রুপের একটি চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

গত ১৯ মে নতুন এ প্রযুক্তির প্রথম ঘোষণা করে কোয়ান্টালিজ। কোয়ান্টালিজ আশাপ্রকাশ করেছে কয়েক মাসের মধ্যেই এ যন্ত্রটি ব্যাপক হারে তৈরি করা সম্ভব হবে। ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং গ্রুপের পরিচালক পিটার আব্রাহাম বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যেই  সংযুক্ত আরব আমিরাতে যন্ত্রটির প্রস্তুতকারক খুঁজে পেয়েছি। এছাড়া আমরা এ প্রযুক্তিটি সারা বিশ্বেও ছড়িয়ে দিতে চাই।

শনাক্তকরণ প্রযুক্তিটির জন্য বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং গ্রুপ। পিটার আব্রাহাম আশা করছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন এ প্রযুক্তিটি অনুমোদন পাবে। তিনি বলেন, এটি অনুমোদিত না হওয়ার কোন কারণই দেখিনা। এ যন্ত্রটির মাধ্যমে পরীক্ষার খরচ ১০০ দিরহামের মধ্যেই রাখা সম্ভব হবে। এটির কোন ক্ষতিকারক দিক নেই এবং নাসারন্ধ্রের শ্লেষ্মা নিয়ে পরীক্ষা করতে যে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে এটিতে তা লাগে না। উল্লেখ্য, আরব আমিরাতের মূদ্রা ১০০ দিরহাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ টাকা।

যন্ত্রটি যেভাবে কাজ করে

ডায়াবেটিস পরীক্ষার মতই রোগীর হাতের আঙুল থেকে ল্যানসেটের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। পরে এ নমুনা রক্ত পরীক্ষার জন্য কাচের স্লাইডে রাখা হয়। কাচের স্লাইডটি একটি যন্ত্রে রাখা হয় যেখানে লেজার রশ্মি নমুনা রক্তের উপর প্রয়োগ করা হয়। লেজার রশ্মি  রক্তকোষের একটি প্যাটার্ন তৈরি করে। এ প্যাটার্নের সুক্ষ্ম ছবি সংগ্রহ করে একটি ক্যামেরা। এ ছবিটি থেকে রক্তের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর রক্তকোষ শনাক্ত করা হয়। সুস্থ ব্যক্তিদের রক্ত কোষগুলো লেজার রশ্মির নিচে গোলাকার অবস্থায় ক্যামেরায় ধরা পড়ে। কিন্তু অসুস্থ রক্ত কোষগুলো ধরে পড়ে বিক্ষিপ্ত আকারে। রক্তকোষের এ চিত্রটি এমন একটি অ্যালগোরিদম দিয়ে পরীক্ষা করা হয় যা অন্যান্য হাজার হাজার রক্তকোষের সঙ্গে নমুনা রক্তকোষের আকারের তুলনা করে। এর মাধ্যমেই ধরা পড়ে- রক্তকোষ সুস্থ কি না।

কোয়ান্টলিজের গবেষণা প্রধান ডা. প্রমোদ কুমার বলেন, পরীক্ষাটি সুস্থ ও অসুস্থ রক্তকোষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সহজেই বলে দিতে পারে।'

তিনি বলেন, সামান্য কিছু প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই যন্ত্রটি দ্বারা করোনা টেস্ট করা সম্ভব। এমনকি এটি বাসাবাড়িতেও ব্যবহার করা সম্ভব। আমরা মনে করি এটি করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে 'গেমচ্যাঞ্জার' হতে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন