বিজ্ঞাপন

ঢামেকের ল্যাবে করোনা নেগেটিভ, এমআইএস জানালো ‘পজেটিভ’

May 23, 2020 | 1:03 pm

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সাত থেকে আটদিন যাবত কাশি, গলা ব্যাথা, খাবারে স্বাদ না পাওয়ার মতো নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে বাসায় ছিলেন ঝর্ণা চৌধুরী (ছদ্মনাম)। ১৮ মে বিকেলে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। সেই রাতেই তার কোভিড-১৯ সংক্রমণ আছে কিনা তা জানার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পত্রে লেখা হয় তার নাম ঝর্ণা চৌধুরী, বয়স ২৫ ও জেন্ডার ফিমেইল। দুই রাত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরে নমুনা সংগ্রহের ফলাফল জানা যায়। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে জানানো হয় নেগেটিভ হিসেবে। সেই ফলাফলের কাগজ দিয়ে ঝর্ণা চৌধুরীকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় ২০ মে।

বিজ্ঞাপন

২১ মে ঝর্ণা চৌধুরীর মোবাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারের (এমআইএস) পক্ষ থেকে একটি এসএমএস পাঠানো হয়। সেখানে ঝর্ণা চৌধুরীর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানানো হয় তিনি কোভিড-১৯ পজেটিভ। তার বর্ণনায় লেখা হয় ঝর্ণা চৌধুরী, বয়স ১৩, জেন্ডার মেইল।

এই রিপোর্ট পাওয়ার পরে ঝর্ণা চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় ঢামেক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সেখান থেকে তার ফলাফল আবার নেগেটিভ বলেই নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে ঢামেক ল্যাব কর্তৃপক্ষ এমআইএস বিভাগে যোগাযোগ করলে পরীক্ষার ফলাফল আবার নেগেটিভ বলে এসএমএস পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

ঝর্ণা চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্য সারাবাংলাকে বলেন, এভাবে যদি নেগেটিভ রিপোর্টকে পজেটিভ বলা হয় ও পরে আবার নেগেটিভ বলা হয় তবে আমরা আসলে কোনটা বিশ্বাস করব? এক্ষেত্রে আমার স্বজন বর্তমানে বাসায় আছে ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু সারাবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের ল্যাবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি সেবাগ্রহীতাদের সম্পূর্ণ সেবা দেওয়ার জন্য। আমরা শুধু মাত্র তাই নাক থেকেই নমুনা সংগ্রহ করি না, একই সঙ্গে গলা থেকেও নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। আর তাই ফলাফল দেওয়ার বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন ভুল বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগাযোগ করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সঠিক ভাবে সকল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। উনারা সেই ভুল শুধরে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা আশা করব, এমন কোনো ঘটনয়া যেনো আর না ঘটে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. হাবিবুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘হয়তোবা ডাটা এন্ট্রিতে মিসটেক হওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরাও কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুত সমাধান করে ফেলতে পারবো। এটা টেকনিক্যাল বা ইনস্ট্রুমেন্টাল কোনো ত্রুটি হয়ত হয়েছে। তা না হলে এমন হওয়ার কথা না। এমন কিছু অভিযোগ আমিও পেয়েছি। আপাতত আমি বলছি মেসেজগুলো স্থগিত রেখে ইনস্ট্রুমেন্টাল এরর যদি থাকে এগুলো আবার কনফার্ম করে দেখে তার পরে মেসেজ দেওয়ার জন্য।’

এর আগে, নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেরিতে পাওয়া বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষে নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক (এমআইএসস) সমীর কান্তি সরকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নমুনা পরীক্ষা খুব দ্রুতই করে ফেলেছি। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফলাফল সফটওয়ারে এন্ট্রি দিতে হয়। তারপরেই সাধারণত মেইলে ও মোবাইলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই এসএমএস বা মেইল যাওয়ার জন্য কাউকে ডাটা এন্ট্রি দিতে হয়। আমাদের ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের খুবই শর্টেজ। যে হারে আমাদের কাজ হয় তাতে একেকটা সেন্টারে দুই থেকে তিনজন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর থাকা উচিত। সে জায়গায় আমরা একজনও দিতে পারিনি। আমাদের যারা ডাটা এন্ট্রি দেয় সেখানেও যথাযথ জনবল নেই।’

কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল কমিটি ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশনের সভাপতির দায়িত্বে আছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, ‘এমন ঘটনা আসলেই দুর্ভাগ্যজনক। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিচ্ছি। খুব দ্রুতই যাতে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়েও নিশ্চিত করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ২০ মে দুপুরে কোভিড-১৯ বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, নমুনা পরীক্ষা পর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস শাখা থেকে সেই মোবাইল নম্বরে এসএমএস করে নিয়মিতভাবে পাঠানো হচ্ছে। এসএমএসটি গ্রামীণফোন গ্রাহকরা ‘এমআইএসডিজিএইচএস’(MISDGHS) শিরোনামে এবং অন্যান্য অপারেটর ব্যবহারকারীরা ০১৭২৯০২৪৬১২ নম্বর থেকে পাচ্ছেন।

কোভিড-১৯ টেকনিক্যাল কমিটি ল্যাবরেটরি ইনভেস্টিগেশনের সভাপতির দায়িত্বে আছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, এসএমএস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, বয়স এবং ঠিকানা নমুনা সংগ্রহের সময় যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। ল্যাবরেটরিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএ শাখা থেকে বর্ণিত উপায়ে নিয়মিতভাবে প্রতিটি পরীক্ষার তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। এ ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।

তিনি বলেন, এসএমএসটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য স্থানে অফিসিয়াল রিপোর্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এসএমএসটি স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো অফিসিয়াল এসএমএস হিসেবে গণ্য হবে বলেও জানান অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এ বিষয়ে ২০ মে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ‘মোবাইল ফোন নাম্বারে এসএমএস আকারে কোভিড-১৯ পরীক্ষার (পিসিআর) রিপোর্ট প্রেরণ’ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

সারাবাংলা/এসবি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন