বিজ্ঞাপন

কীভাবে কাটাবেন করোনাসংক্রমিত এ ঈদুল ফিতর?

May 24, 2020 | 12:46 pm

মিরাজ রহমান

ঈদের নামাজ কোথায় পড়বো— ঘরে নাকি মসজিদে? নতুন পোশাক না পড়লে ঈদ হবে তো? সদকাতুল ফিতর কত টাকা— ৭০ নাকি ২২০০ টাকা? নামাজ শেষে হাত মেলানো ও কোলাকুলি না করলে কোনো সমস্যা নেই তো? আর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার কী হবে?

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এই সময়ে ঈদুল ফিতর কীভাবে কাটাবেন, সে প্রশ্ন অনেকেরই। এ প্রবন্ধে হয়তো অনেকেই খুঁজে পাবেন তারই উত্তর, করোনাসংক্রমিত এ ঈদুল ফিতর কাটানোর বিষয়ে বিস্তারিত- ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। সামাজিক ধর্ম। একজন মানুষের সকালবেলা ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর থেকে আবার ঘুমাতে পাওয়া পর্যন্ত— এমনকি ঘুমে থাকা সময়টিও তার কীভাবে কাটবে এবং কোন পদ্ধতিটি তার জন্য কল্যাণকর হবে তাও বাতলে দিয়েছে ইসলাম।

নামাজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। অবশ্য পালনীয় ইবাদাত। মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি। প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। কিন্তু আপনি যদি অপারগ হন, যদি সমস্যাগ্রস্থ থাকেন— মসজিদে না গিয়েও বাসায় নামাজ আদায় করতে পারবেন। এমনকি যদি দাঁড়িয়ে পড়তে না পারেন তাহলে বসে; বসতে না পারলে শুয়ে; তাও যদি সম্ভব না হয়— তাহলে ইশারায় নামাজ আদায় করারও বিধান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি না পারো তবে বসে নামাজ পড়ো, যদি তা-ও না পারো তবে ইশারা করে নামাজ আদায় করো। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ১০৫০) এছাড়া সফরকালীন কষ্টের কথা বিবেচনায় রেখে এ সময়কার চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলো দুই রাকাত আদায়ের বিধান রয়েছে ইসলামে। ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে ইসলাম এমনটাই কল্যাণকামী। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান পালনের অনুমতি প্রদানব্যবস্থাই ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের মহত্ত্ব।

ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে আনন্দ। বছরে দুইবার এই আনন্দ এসে হাজির হয়। সাধ ও সাধ্যের সবটুকু দিয়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করেন মুসলিমরা। ঈদ কেবল নিছক একটি উৎসব নয়। নয় কোনো মনরাঙানো বিনোদনমূলক আয়োজন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেওয়া সদকাতুল ফিতরের বিধান থেকে শুরু করে ঈদের নামাজসহ এ দিনের গোটা আয়োজনই বিভিন্ন
সামাজিকতায় পরিপূর্ণ। মুসলমানদের প্রতিটির নেক কর্মই ইবাদাত। এমনকি নেক নিয়তও আমল হিসেবে গণ্য। খুশি বিলানো ও আনন্দ অর্জন এবং ইবাদাত বন্দেগি ও সাওয়াব কামানোর বার্তা নিয়ে মুসলিম পরিবার প্রতি বছর ঈদ আসে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এবারের ঈদ পালিত হচ্ছে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। করোনাভাইরাসের মরণঘাতি তাণ্ডবে গোটা পৃথিবী যখন লন্ডভন্ড ঠিক এমন এক করুণ ক্ষণে ঈদের বাঁকা চাঁদ উঠছে বাংলার আকাশে। কেবল এই লাল সবুজ ভূখণ্ডটি নয়; গোটা পৃথিবীর মহাশক্তিধর দেশসহ থমকে আছে প্রায় সব মুসলিমপ্রধান দেশও। বন্ধ হয়ে আছে উমরাহ পালন। বাতিল হতে পারে এবারের হজব্রতও।

করোনার আঘাতে বাধাগ্রস্থ হয়েছে পবিত্র রমজান মাসের তারাবিহর নামাজ, সম্মিলিত ইফতার আয়োজন, কিয়ামুল লাইলসহ ইতিকাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল পালনও। ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ক্রান্তিলগ্নে এখন যে প্রশ্নটি প্রত্যেক মুসলিমের মনে বাসা বেঁধে আছে, সেটা হলো— কীভাবে কাটাবো এবারে ঈদুল ফিতর? ঈদুল ফিতরের নামাজসহ বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনগুলো কীভাবে উদযাপন করবো?

বিজ্ঞাপন

ঈদুল ফিতর নামটা নিলেই সর্বপ্রথম নতুন পোশাক আচ্ছাদিত একটি অবয়ব মনের ক্যানভাসে এসে হাজির হয়। প্রায় সব মুসলিমই নতুন জামা পড়ে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া চেষ্টা করেন। কিন্তু এবার হয়তো সেটা হচ্ছে না বেশিরভাগেরই! এটা কি খুব বেশি আফসোসের বিষয়? নতুন জামা পরে ঈদের নামাজে না গেলে ঈদ কী হবেই না?

ঈদের দিন সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম ও পবিত্র পোশাক পরিধান করা রাসুলের (সা.) সুন্নাত। সুন্নাত আদায়ের জন্য নতুন পোশাক জরুরী নয়। সুতরাং পরিস্থিতি যেহেতু এবার অনুকূলে নেই। নতুন কাপড় ক্রয় করা যেহেতু সম্ভব নয়। সুতরাং সবার সাধ্য অনুযায়ী উত্তম ও পবিত্র পোশাক পরলেই হবে।

বিজ্ঞাপন

ঈদসংশ্লিষ্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— সদকাতুল ফিতর আদায় করা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এ বছর সর্বোচ্চ ২২০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৭০ টাকা সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি বা পাঁচটি পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায়ের প্রমাণ ও বিধান রয়েছে ইসলামে। সেই হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতি বছর সবচেয়ে কম দামী পণ্য ও বেশি দামী পণ্যের হিসেব করে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকে। সদকাতুল ফিতর দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো— নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব বেশি মূল্যের খাদ্য বা পণ্য দ্বারা বা সেই খাদ্য বা পণ্যের মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা। কারণ সদকাতুল ফিতর আদায়ের মূল লক্ষ্যই হলো— গরিবদের প্রয়োজন পূরণ করা ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। করোনাকালের এই ঈদে আমরা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু বেশি দামী পণ্যের হিসেব গ্রহণ করে সদকাতুল ফিতর আদায় করার চেষ্টা করাই হবে প্রকৃত মুসলমানের কর্তব্য।

এবার আসি ঈদের নামাজ এ বছর কীভাবে আদায় করতে হবে; সে প্রসঙ্গে। কোনো কোনো ইমামের মতে ঈদের নামাজ ওয়াজিব। কোনো ইমাম সুন্নাত বলেছেন। কারো মতে ঈদের নামাজ আদায় করা ফরজ। সাধারণ সময়ে ঈদগাহে বা মসজিদ সংলগ্ন খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন; সামাজিক ও শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখা
জরুরি— তাই এবার ঈদের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ভিন্নতা অনুসরণ করতে হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে নিজের ঘরে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করাকে উত্তম বলেছেন সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি ও গবেষণা কাউন্সিলের প্রধান শেখ আবদুল আজিজ আল শায়খ। একই আহবান জানিয়ে ফতোয়া প্রদান করেছে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া বোর্ডও। ফতোয়াটিতে তারা বলেছেন, জুমার
নামাজের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, ঈদের নামাজের জন্য ঠিক সেই শর্তগুলোই প্রযোজ্য।

পার্থক্য হলো— জুমার নামাজের খুতবা পাঠ ওয়াজিব এবং তার নামাজের আগে হয়, আর ঈদের নামাজের খুতবা পাঠ করা সুন্নত এবং তা নামাজের পরে দিতে হয়। বাসায় ঈদের নামাজ আদায় বৈধতার উদাহরণ হিসেবে রাসুল (সা.) এর সাহাবী হজরত আনাস
বিন মালিকের একটি ঘটনাকে পেশ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) এর প্রিয় সাহাবী আনাস বিন মালিক (রা.) ইরাকের বসরার নিকটবর্তী স্থান জাভিয়াতে বসবাস করতেন। এক বছর কাছাকাছি কোথাও ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবারের সদস্য ও তার সহযোগী আবদুল্লাহ ইবনে আবী ওতবারকে নিয়ে তিনি ঘরে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন।

এছাড়া সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঈদুল ফিতরে ঈদের নামাজ ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে কাতারে দাঁড়ানোর ব্যবস্থাপনায় সামাজিক ও শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মসজিদে আসা ও প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করাসহ বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করাই সুন্নাত। রাসুল (সা.) সাধারণত এমনটাই আমল করেছেন। তবে বৃষ্টির কারণে একবার রাসুল (সা.) মসজিদে ঈদের নামাজ পড়েছিলেন বলে হাদিসের গ্রন্থে বর্ণনা পাওয়া যায়। সুতরাং যৌক্তিক কারণবশত মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে।

বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন যেভাবে— ঘরে ঈদের নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নামাজের নিয়মে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরসহ দুই রাকাত নামাজ আদায় করবেন। নামাজের পদ্ধতি হলো— প্রথম রাকাআতের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলে হাত বাঁধতে হরে। এরপর ছানা পড়তে হবে। এরপর অতিরিক্ত ৩টি তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতে হবে। কোনো কোনো মাজহাবে এখানে ৩ তাকবিরের স্থানে ৬ তাকবির প্রদানের বর্ণনা রয়েছে। প্রত্যেক তাকবিরে হাত উঠিয়ে তৃতীয় তাকবির দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধতে হবে। এরপর উচ্চস্বরে সুরা ফাতেহা পড়তে হবে এবং অন্য যে কোনো সুরা মিলাতে হবে। এরপর রুকু সিজদাহ করার মাধ্যমে স্বাভাবিক নামাজের মতো প্রথম রাকাআত আদায় শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয় রাকাআতে উঠে দাঁড়িয়ে প্রথমেই সুরা ফাতেহা পড়ে তার সাথে অন্য সুরা মিলাতে হবে। সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩টি বা কোনো মাজহাবের বর্ণনা অনুযায়ী ৫টি তাকবির দিতে হবে। এরপর ৪র্থ বা ৬ষ্ঠ তাকবির দিয়ে রুকুতে যেতে হবে। অতিরিক্ত তাকবিরের সংখ্যা ৩ এবং ৫/৬ হওয়ার উভয় মতই বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে খুতবা পাঠ করতে হবে না বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞগণ। ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞগণ আরো বলেছেন, যথাসম্ভব উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ পড়া উত্তম। তাই যার যতটুকু সম্ভব বাড়ির আঙিনায় কিংবা বাসার যে কোনো উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করার চেষ্টা করতে হবে।

বাসায় বা ঘরে কখন ঈদের নামাজ আদায় করা উত্তম? হজরত জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সূর্য যখন দুই বর্শা পরিমাণ উপরে উঠতো রাসুল (সা.) আমাদেরকে নিয়ে তখন ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় করতেন এবং সূর্য যখন এক বর্শা পরিমাণ উপরে উঠত তখন ঈদুল আয্হার নামাজ আদায় করতেন। (ফিকহুস সুন্নাহ : ১/৩১৯) এর অর্থ হলো— সূর্যোদয়ের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় পর ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার উপযুক্ত সময়। তবে তা জোহরের নামাজের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

শুভেচ্ছা বিনিময় করাও একটি ভালো কাজ। ঈদ উপলক্ষে মুসলিম সম্প্রদায় একে অন্যের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন। রাসুল (সা.) থেকে সরাসরি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে সাহাবা আজমাইনরা ঈদের দিন পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। হজরত জুবাইর ইবনে নুফাইর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরা ঈদের দিন একে অপরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।’ অর্থ হলো— আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।

করোনাভাইরাসের কারণে এবার যেহেতু অনেকের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা হচ্ছে না সুতরাং আমরা এবার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের বার্তা হিসেবে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বাক্যটি অর্থসহ সবাইকে পাঠাতে পারি। ঈদের দিন আমরা সবাই নতুন পোশাক পড়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে যাই এবং মজার খাবার গ্রহণ করি। ইসলাম প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকারকে খুব গুরুত্ব দিয়েছে। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সেই সর্বোত্তম প্রতিবেশী; যে তার স্বীয় প্রতিবেশীর দৃষ্টিতে ভালো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ৬৫৬৬) । আর আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী; সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে।’ (বুখারি শরীফ, হাদিস নং : ৬১৩৮) ।

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট নিরসনে ঈদ উদযাপন সীমিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকুন। তাহলে করণীয় কী? করণীয় হলো— কারো বাসায় না গিয়ে ফোনে ফোনে বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবার খোঁজ-খবর নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যহত রাখা। পরিস্থিতি ভালো হলে সবারে সঙ্গে আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

ঈদের নামাজ শেষে হাত মেলানো এবং কোলাকুলি করা মুসলিম সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। ঈদের দিন নামাজ শেষে সব মুসলমানই এটা করে থাকেন কিন্তু এবারের বিশ্ব বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে এই ঐতিহ্যটি পরিহার করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। কারণ হাত মেলানো বা কোলাকুলি করার দ্বারা করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

ঈদের নামাজান্তে হাত মিলানো বা কোলাকুলি করা কোনো ফরজ ওয়াজিব বা সুন্নাত বিধান নয়; ঐতিহ্য মাত্র। সুতরাং এ ঐতিহ্য ত্যাগ করার মাঝে কোনো ক্ষতি নেই।

লেখক : সম্পাদক, ইসলাম প্রতিদিন

সারাবাংলা/এসবিডিই

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন