বিজ্ঞাপন

লিবিয়ার কাছে ২৬ বাংলাদেশি হত্যার বিচার চেয়েছি: মন্ত্রী

May 29, 2020 | 4:35 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মানব পাচারকারী চক্রের হাতে ২৬ বাংলাদেশির হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনায় লিবিয়ার কাছে বাংলাদেশ বিচার চেয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরো ঘটনার তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার, দোষীদের যথাযথ শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৯ মে) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এক ভিডিও বার্তায় জানান, ওই ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর বাইরে একজন বাংলাদেশি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছেন এবং সুস্থ আছেন। ১১ জন এই ঘটনায় আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছয় জন এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

আরও পড়ুন- লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে এক পাচারকারীর স্বজনরা

বিজ্ঞাপন

ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে দূতাবাস লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরো ঘটনার তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার, দোষীদের যথাযথ শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুততম সময়ে আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানবপাচারে জড়িতদের বিবরণ এবং লিবিয়ান সরকার কর্তৃক এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

লিবিয়ার ওই ঘটনার বিবর জানিয়ে শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, গত ২৮ মে লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহ’তে (ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে) কমপক্ষে ২৬ (ছাব্বিশ) জন বাংলাদেশিকে লিবিয়ান মিলিশিয়ারা গুলি করে হত্যা করে তথ্য পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে দূতাবাস থেকে অনুসন্ধানে জানা যায়, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী অপহরণ করা বাংলাদেশিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আনুমানিক ২৬ (ছাব্বিশ) জন বাংলাদেশি ঘটনাস্থলে নিহত হন।

বার্তায় বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি জানান, তিনি একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন। তিনি দূতাবাসকে আরও জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা এসব বাংলাদেশিকে ত্রিপোলিতে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ (আটত্রিশ) জন বাংলাদেশী মিজদাহ শহরের কাছে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনীর একদল দুষ্কৃতকারীর হাতে জিম্মি হন। মুক্তিপণ আদায় করতে জিম্মিকারী অমানবিক নির্যাতন চালালে একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিদের হাতে মূল অপহরণকারী লিবিয়ান মারা যান। এর প্রতিশোধ নিতে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে, যাতে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন এবং আরও ১১জন বাংলাদেশি হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়, এ খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা মিজদাহ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া, মরদেহগুলো মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। আহতদের পরে দূতাবাসের সহায়তায় উন্নততর চিকিৎসার জন্য ত্রিপোলিতে অবস্থিত বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে। গুরুতর আহত তিন জনের শরীর থেকে গুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং আইওএম লিবিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। মিশনের কর্মকর্তারা আহতদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন।

বার্তায় বলা হয়, মিজদাহ শহরে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং এ অঞ্চলটি এখন দু’টি শক্তিশালী পক্ষের যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে। কিছুদিন আগে ত্রিপোলিভিত্তিক এবং জাতিসংঘ সমর্থিত জিএনএ সরকার এই অঞ্চলটি দখল করে নিলেও জেনারেল হাফতারের নেতৃত্বাধীন পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সরকারি বাহিনী দু’দিন আগেও শহরটিতে বোমাবর্ষণ করেছে। ত্রিপোলি ভিত্তিক সরকারের এ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। বর্তমানে এমনকি ত্রিপোলি শহরেও বিরোধীপক্ষ মাঝেমাঝে বোমাবর্ষণ করে থাকে। দু’টি শক্তিশালী পক্ষ যুদ্ধরত থাকায় সেখানকার জীবনযাত্রা স্বাভাবিক নয়। এ কারণে অধিকাংশ দেশ তাদের দূতাবাস তিউনিসিয়াতে স্থানান্তর করলেও বাংলাদেশসহ মাত্র তিনটি দেশ তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ প্রতিকূল অবস্থাতেও বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন