বিজ্ঞাপন

‘ভাইরাসকে ঝাঁক বেঁধে আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার’

May 29, 2020 | 4:51 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাসকে সরকার বিনা বাধায় ঝাঁক বেঁধে আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে লুকোচুরি খেলছে। একদিকে এই সংক্রমণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান দিচ্ছে না, অন্যদিকে এই ভাইরাসকে বিনা বাধায় ঝাঁক বেধে আক্রমণের সুযোগ করে দিচ্ছে।’

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

জনগণের ভাবনাকে  আমলে না নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের সিদ্ধান্ত জনগণের অনুকূলে হবে না, এটাই স্বাভাবিক। টিকে থাকার স্বার্থে জনগণের জীবনবিনাশী সিদ্ধান্ত নিতে কুণ্ঠাবোধ করছে না তারা। তার প্রমাণ ছুটি প্রত্যাহার করে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ।’

রিজভী বলেন, ‘যেভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছে, সরকারের উচিত ছিল প্রতিটি জেলা-উপজেলায় করোনাভাইরাস টেস্ট ফ্যাসিলিটিজ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি না করে অফিস-আদালত, গণপরিবহন চালু করা যেন মৃত্যুর মিছিলকেই আলিঙ্গন করা। মানুষের জীবন বাঁচাতে যখন লকডাউন, আইসোলেশন ও ঘরবন্দি থাকার কথা, তখন মৃত্যুদূত করোনাকে আমন্ত্রণ জানাতে জানালা-দরজা খুলে দিয়েছে সরকার।’

‘জীবনকে তুচ্ছ করে মানুষকে কর্মে লাগাতে চায় সরকার’— এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশ-বিদেশের বিশেজ্ঞদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে সরকারের একগুঁয়েমিতে খুলে দেওয়া হচ্ছে সবকিছু। চারিদিকে নিরন্ন মানুষের হাহাকার, বিপন্ন মানুষের আর্তনাদ এবং চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষ গুমরে গুমরে কাঁদছে।’

রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের আমলে দুর্নীতিতে সবকিছু খেয়ে ফেলেছে। স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই বাংলাদেশে। বাংলাদেশে তুরস্কের একজন নাগরিক পরিবারসহ করোনায় আক্রান্ত হলে তাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে তুরস্ক সরকার নিজ দেশে নিয়ে গেছে। এখানে ওই তুরস্ক নাগরিক করোনা টেস্ট পর্যন্ত করাতে পারেনি। সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে সবাই সিএমএইচের দিকে ছুটছে। যাদের সামর্থ্য নেই তাদের লাশ পড়ে থাকছে রাস্তাঘাটে।’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেই বেশি উৎসাহি। প্রতিদিন বিএনপি’র কোনো না কোনো নেতাকে গুম অথবা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে যেন কেউ মত প্রকাশ করতে না পারে, এজন্য চলছে গুম, হয়রানি ও জেল জুলুম। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক পড়েছে। গত দুই মাসে সাংবাদিকসহ সোস্যাল মিডিয়ার পাঁচ শতাধিক অ্যাকটিভিস্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মানুষের জবান স্তব্ধ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে সেল গঠন করা হয়েছে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস শুধু বিরোধী দল মতকে দমন করতে আসেনি, বরং সরকার যেভাবে ঢিলেঢালাভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাইছে তাতে সবারই ভয়ের কারণ আছে। সোস্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিপক্ষে কে লাইক কিংবা শেয়ার দিলো, এগুলোর পেছনে সময় ব্যয় না করে কীভাবে করোনাভাইরাস মোকাবিলা করা যয়, সেই উদ্যোগ গ্রহণ করুন।’

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন