বিজ্ঞাপন

করোনায় আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে হবে: চমেক

May 30, 2020 | 10:28 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষক-চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার পর এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা, সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ নিয়েও মোট পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩০ মে) চমেক অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান এই নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা নিয়ে শিক্ষক-চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে চমেক অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, নির্দেশনায় ভাষাগত কিছু ত্রুটির কারণে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিয়েছে। শিগগিরই সেটা সংশোধন করা হবে।

চমেক অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিফতরের খণ্ড খণ্ডভাবে আসা কয়েকটি নির্দেশনা নিয়ে আজ (শনিবার) আমরা কলেজে বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে মিটিং করি। সেখানে সর্বসম্মতভাবে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু আমার অগোচরে সেই সিদ্ধান্ত রূঢ় ভাষায় লিখে নির্দেশনা আকারে প্রচার করা হয়েছে। যে ভাষায় লেখা হয়েছে, সেটা সমীচীন হয়নি। আমি কালই (রোববার) সেটা সংশোধন করে পুনরায় সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচার করব।’

বিজ্ঞাপন

পাঁচ দফা নির্দেশনার মধ্যে প্রথম দফায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কোভিড-১৯ পজিটিভ হবেন, তারা কেবল ১০ দিনের আইসোলেশনে বা হাসপাতালে থাকার সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে চমেকের অধ্যক্ষ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে, যারা কোভিড-১৯ পজিটিভ হবেন, তারা প্রথমে ১০ দিনের আইসোলেশনে বা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে গেলে তারা অবশ্যই চিকিৎসায় ফিরবেন। তবে কেবল সুস্থ হলেই ফিরবেন।’

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসবেন, তাদের কোনো ধরনের আইসোলেশনে যেতে হবে না। কেউ গিয়ে থাকলে কর্মস্থলে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য হবেন।

চমেকের অধ্যক্ষ বলেন, ‘মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে, কোভিড-১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা মানেই কিন্তু আক্রান্ত হওয়া নয়। সংস্পর্শে এলেই যদি আইসোলেশনে চলে যান, তাহলে চিকিৎসা চলবে কিভাবে?’

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় দফা ও চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ রোগীর সঙ্গে অবস্থানের কারণে কোনো শিক্ষক-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাসা লকডাউন হলেও তাকে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। নিয়মিত অফিস সময় অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, কোনো সুরক্ষা সামগ্রী অত্র কার্যালয় থেকে সরবরাহের সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

অধ্যক্ষ শামীম বলেন, ‘বাসা লকডাউন হলেও জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের বের হতে দেওয়ার বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত আছে। এটা নিয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই। আর সুরক্ষা সামগ্রীর বিষয়টি এভাবে লেখা উচিত হয়নি। সুরক্ষা সামগ্রী তো কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আসে না। হাসপাতালের পরিচালকের কাছে আসে। আমার কাছে অনেকে সুরক্ষা সামগ্রী দাবি করেন। আমার তো দেওয়ার সুযোগ নেই। কলেজ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়ার সুযোগ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সেটা সরবরাহ করবে।’

চমেকের মেডিসিন বিভাগের এক শিক্ষক এসব নির্দেশনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটা ডাক্তারদের হাত-পা বেঁধে মাঠে নামিয়ে দেওয়ার মতো নির্দেশনা। ডাক্তারদের সুরক্ষার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা উচিত।’

চমেকের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ শামীম হাসান সারাবাংলাকে বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ একটি চক্র আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি রাতদিন পরিশ্রম করি। আমার চাকরির বয়স আছে আর মাত্র দুই বছর। মিটিংয়ে নেওয়া কিছু রুটিন সিদ্ধান্তকে রূঢ় ভাষায় লিখে এবং সেটা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা চলছে।’

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন