বিজ্ঞাপন

ডেলিগেট যাচাই-বাছাই কমিটির বাতিল দাবি রুহুল আমিনের

May 31, 2020 | 12:08 am

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: করোনায় পিছিয়েছে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচন-২০২০। গেল ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এই নির্বাচন। করোনার ভয়াল থাবায় সেটা সম্ভবপর হয়নি। লকডাউন তোলার ঘোষণার আগেই বাফুফে নির্বাচন নিয়ে তোরজোর শুরু করে দিয়েছে। জুনের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের পরিকল্পনা আনা বাফুফের এই উদ্যোগের সমালোচনা এসেছে ফুটবলাঙ্গন থেকে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নজরে এনে আজ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিডিএফএ) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাবস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফসিএ) সভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন।

বাফুফে নির্বাচন সামনে রেখে ডেলিগেট যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, সেই কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। নিরপেক্ষ লোকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের আহবান জানিয়েছেন রুহুল আমিন। সেটা করা না হলে প্রয়োজনে আইনের দ্বারস্থ হবেন বলে হুশিয়ারি তার। একই সঙ্গে সরকারের সমস্ত নিয়ম-কানুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সকলের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা হলে বিডিডিএফএ এবং বিএফসিএ এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সাফল্যমন্ডিত করতে বাফুফেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তরফদার রুহুল আমিন।

বাফুফের যাচাই-বাছাই কমিটি প্রসঙ্গে রুহুল আমিন বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে একটা যাচাই-বাছাই কমিটি করা হয়েছে এবং যাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা কিন্তু বাফুফের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিরই সদস্য। সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাকি দুজন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। যাচাই-বাছাই কমিটি যদি নিজেদের লোক দিয়ে করানো হয়, তাহলে যাচাই-বাছাই কমিটির কোনো স্বাধীনতা থাকলো কি? এটি হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা। যারা বাফুফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না অথবা বাফুফের নির্বাচনে অংশ নিবে না এই ধরনের লোক।’

বিজ্ঞাপন

এই যাচাই-বাছাই কমিটি অনতিবিলম্বে ভেঙে দিয়ে স্বাধীন লোকদের দিয়ে কমিটি করা উচিত। বলে জানিয়েছেন তরফদার।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এক টেলিভিশন চ্যানেলে বাফুফের সহ-সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কথার জবাবে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘ওনি (তাবিথ আউয়াল) কোন হিসাবে বলেছেন, কার গাইডেন্সে বলেছেন এটা কিন্তু দেখার বিষয়। হঠাৎ ওনি চ্যানেলে এসে বলবেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন করে ফেলবেন। অনলাইন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এ ধরনের উদ্ভূট কথাবার্তা, চিন্তা-ভাবনা ওনি কেন বললেন, কার কথায় বললেন এটা কিন্তু ওনাকে জবাবদিহি করতে হবে।’

অনলাইন ভোট ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রক্সি ভোটের কোনো সুযোগ নাই; অনলাইন ভোটিংয়ের কোনো সুযোগ নাই। অনলাইন ভোটিং যদি করতেই হয় ফিফা অনুমতি লাগবে। এজিএম করে গঠনতন্ত্রে এটা সংযোজন করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে রুহুল আমিন আরো যোগ করেন, ‘তড়িঘড়ি করে যা-তা নির্বাচন করে এই কমিটি আবারো কিভাবে ক্ষমতায় বসবেন সেই চিন্তায় আছে। আমি আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাই আপনারা এমন কিছু করবেন না। এমনিতেই আপনারা যথেষ্ট বিতর্কিত।’

নির্বাচন নিয়ে আবারও বিতর্কের জন্ম না দিতে বাফুফে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি নির্বাচন করতে চান, সবাই নির্বাচনের জন্য প্রস্তত হয়ে আছি। আপনারা সঠিক সময়ে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করুন। আমরা সকলে স্বাগত জানাব। আপনারা মনগড়া নির্বাচন করতে চাইলে আমরা বিডিডিএফএ এবং বিএফসিএ কিন্তু বসে থাকব না। আমরা আইনগত যেখানে যা আছে আমরা সেটাই করব।’

সরকারের নির্দেশনা মেনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা উচিত বলে মনে করেন তরফদার, ‘লকডাউন শিথিল হলেও এখন বলা আছে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত গণজমায়েত করা যাবে না। সমাবেশ করা যাবে না। দূরত্ব বজায় রেখে চলার নির্দেশ দেয়া আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেখানে যা করার দরকার আপনারা করেন, আমরা আপনাদেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। এই নির্বাচনকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য।

বিজ্ঞাপন

এই প্রসঙ্গে রুহুল আমিন আরো যোগ করেন, ‘সীমিত আকারে সব কিছু খুলে দেয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা যাবে কিনা সেটা বাফুফের এখতিয়ার। আমরা বলছি সঠিক পন্থায় সব কিছু করতে হবে। আশাকরি ফুটবল ফেডারেশন সব কিছু বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে করতে হবে। নির্বাচনে আমরা সবাই একত্রিত হতে পারব কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা একত্রিত হয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারব যে কমিটি আছে তারাই কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক! এজন্য কমিটি আরো কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলেও আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’

করোনাকালে বাফুফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তরফদার রুহুল আমিন। যেখানে বিডিডিএফএ-বিএফসিএ দুই সংগঠন এই মহামারীকালে প্রায় সাড়ে চারশ’ থেকে পাঁচশত দুস্থ অভাবী কোচদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, দুস্থ খেলোয়াড়দের তালিকা তৈরি করেছে। শিগগিরই তাদেরকেও সহায়তা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

যে কাজটি বাফুফে করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিডিডিএফএ এবং বিএফসিএ’র নেতা রুহুল আমিন। ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের প্রশংসাও ঝরেছে রুহুল আমিনের কণ্ঠে। দুস্থ খেলোয়াড়দের সহায়তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর তহবিলে বিশাল অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ড প্রধান। সেই জন্য পাপনকে ধন্যবাদ দিয়েছেন রুহুল আমিন। এই ধরনের কাজ বাফুফেরও করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য রুহুল আমিনের।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন