বিজ্ঞাপন

ফের জমজমাট বুকিং অফিস, নদীতে নামতে প্রস্তুত লঞ্চ

May 31, 2020 | 12:45 am

জসিম উদ্দিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বরিশাল: করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অলস বসে রয়েছে ছোটবড় সব লঞ্চ। বুকিং কাউন্টার থেকে শুরু করে সবখানেই নিরবতা। শেষ পর্যন্ত সরকারি ঘোষণায় সে নিরবতা কেটেছে। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ও বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের বিলাসবহুল থেকে শুরু করে সব লঞ্চই এখন ‘সীমিত পরিসরে’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাতে করে বুকিং অফিসগুলো খুলেছে দুই মাসেরও বেশি সময় পরে। যাত্রীরা সংগ্রহ করছেন অগ্রিম টিকিট। যেন ফিরছে চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকেই বরিশাল নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউয়ের সুন্দরবনসহ অন্যান্য লঞ্চের টিকিট কাউন্টার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সহসভাপতি আলহাজ্ব সাইদুর রহমান রিন্টু নিজেই উপস্থিত থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম তদারকি করছেন। এসময় টিকিট নিতে আসা যাত্রীদেরও জীবাণুনাশক স্প্রেসহ স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে দিতে দেখা যায় সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন

সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সরকারের নির্দেশনা পাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে লঞ্চগুলো উপযুক্ত করা হয়েছে। ধারণক্ষতার বাইরে কোনো যাত্রী নেওয়া হবে না। আর স্থলপথে ভাড়া বাড়ানো হলেও আমরা ভাড়া অপরিবর্তিত রেখেছি। লঞ্চগুলো ১০ দিন চলাচলের পর অবস্থা বুঝে ভাড়ার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে অগ্রিম টিকিট নিতে আসা যাত্রীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বাড়িতে রয়েছেন। ঢাকায় অনেক কাজ জমে গেছে। তাছাড়া সরকারের ঘোষণার পর অফিসও খুলছে, তাদের অফিসেও যোগ দিতে হবে। তাই তারা ঢাকায় ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে লঞ্চগুলোতে যাত্রীরা যেন সামাজিক দূরত্ব মেনে অবস্থানের সুযোগ পান, সেটি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানান তারা।

ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চগুলোকে নদী নামতে প্রস্তুত করার তোড়জোড় চলছে। প্রতিটি লঞ্চেই চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। কেবল ধোয়া-মোছাই নয়, লঞ্চগুলোতে জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা হচ্ছে।

বরিশাল নদী বন্দরের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার (৩১ মে) থেকে ঢাকাগামী বিলাসবহুল ও অভ্যন্তরীণ লঞ্চগুলো চলাচল করবে। প্রতিটি যাত্রীকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া লঞ্চ কর্তৃপক্ষকেও তাদের লঞ্চ সবসময় জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তা না করতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজমল হুদা মিঠু জানান, তারা সবাই সতর্ক রয়েছেন। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া আছে। আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নৌপুলিশ সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন