বিজ্ঞাপন

চরাঞ্চলে পানির নিচে পাকা বোরো ধান, শঙ্কায় কৃষক

May 31, 2020 | 11:47 am

জাহিদুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের উঠতি বোরো ধান। এ অবস্থায় কয়েকশ হেক্টর জমির আধা-পাকা ধান পানিতে তলিয়ে থাকায় তা ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। দ্রুত পানি নেমে না গেলে তলিয়ে থাকা এসব ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্র‏হ্মপুত্র ও দুধকুমর নদের অববাহিকার প্রায় দুই শতাধিক চরে বোরোর আবাদ করেছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। এসব এলাকায় দেরিতে ২৯ জাতের বোরো ধান চাষ করায় তা এখনো ঘরে তুলতে পারেননি বেশিরভাগ কৃষক। এবারে আগাম বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপেজেলার পোড়ার চর, মাঝিয়ালির চর, বড়ুয়া, রলাকাটা, ভগবতীপুর, পারবতীপুর, ঝুনকার চর, নাগেশ্বরীর নারায়রনপুর, কালার চর, অষ্টআশির চর; উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা, জাহাজের আলগা, দুই খাওয়া, আইরমারীসহ রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার দুই শতাধিক চরসহ নিম্নাঞ্চলগুলোতে আবাদ করা বোরো ধানের বেশিরভাগই পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ অবস্থায় কৃষকরা কিছু ধান ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পারবতীপুর চরের খোকা মন্ডল জানান, চরের ৫ বিঘা জমিতে ২৯ জাতের বোরো ধান চাষ করেছি। হঠাৎ করেই নদীতে পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১ বিঘা জমির ধান সামান্য জেগে আছে। সেই ১ বিঘা জমির ধান লোকজন নিয়ে কাটছি। বাকিগুলো এখনো পানির নিচে পড়ে আছে।

সদরের ভগবতীপুর চরের আয়নাল হক জানান, ধার-দেনা করে আবাদ করা এ ধান দিয়েই তাদের সারাবছর চলে। কিন্তু এবার প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে তারা অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। ‘ধান না তুলতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে,’— বলেন এই কৃষক।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শাহা জামাল জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ পাশের ইউনিয়নের চরাঞ্চলে যত জমিতে ২৯ জাতের বোরো ধান আবাদ করা হয়েছিল, তার সবই পানির নিচে তলিয়ে আছে। কয়েকদিন ধরে এসব ধান পানির নিচে থাকায় তা নষ্ট হতে বসেছে। ধান নষ্ট হলে তা কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আইযুব আলী সরকার জানান, চরাঞ্চলগুলোর কৃষকরা যে বোরো আবাদ করেছেন, পানি আসার আগে তার অর্ধেকও ঘরে তুলতে পারেননি। এখন দ্রুত পানি নেমে না গেলে তলিয়ে থাকা ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কৃষকদের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কৃষকরা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা বললেও সে তথ্য অস্বীকার করছেন যাত্রাপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল হক। তিনি বলেন, এ হিসাব আমি আপনাকে দিতে বাধ্য নই।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান প্রধানও পানিতে তলিয়ে থাকা ধান বা জমির হিসাব দিতে পারেননি। তবে তিনি পানিতে ধান তলিয়ে থাকার তথ্য অস্বীকারও করেননি। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের যেসব জমিতে ধান দেরিতে লাগানো হয়েছে, শুধু সেসব ধান ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আমরা কাজ করছি।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন