বিজ্ঞাপন

করোনাতেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫.২০ শতাংশ, প্রাক্কলন মন্ত্রণালয়ের

June 2, 2020 | 12:30 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাব হিসেবে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ধ্বস নামার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। করোনার প্রাদুর্ভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে অর্থনীতিবিদদেরও। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করছে, অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ২০ শতাংশে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। বাজেটে চলতি অর্থবছরে জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। সে তুলনায় ৫ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমই। যদিও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ছাড়া বাকি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রাক্কলনে প্রবৃদ্ধি আরও অনেক কম দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্টও বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই প্রাক্কলনও বাস্তবসম্মত নয়। আদতে প্রবৃদ্ধি হবে আরও কম।

‘মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকনোমিক ফ্রেমওয়ার্কের’ হালনাগাদ প্রতিবেদনে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিবছর এই হালনাগাদের মাধ্যমে চলমান অর্থবছরের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি তুলে ধরা হয়। এ বছর গত ১২ মে এই ফ্রেমওয়ার্কটি হালনাগাদ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছর ধরে চলতি অর্থবছরের বাজেটে টাকার অঙ্কে প্রবৃদ্ধির আকারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৯শ কোটি টাকা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সেই লক্ষ্য থেকে সরে কিছুটা এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাক্কলন অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধির আকার দাঁড়াতে পারে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ করোনার প্রভাবে প্রবৃদ্ধির টাকার অঙ্কে  কমে যেতে পারে প্রায় ৮০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল দুই হাজার ১৭৩ ডলার। করোনার কারণে সেটি কমে দাঁড়াতে পারে দুই হাজার ৭৮ দশমিক ৭০ ডলারে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, করোনার ধাক্কায় জিডিপির অর্জন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো সংস্থাগুলো বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের চেয়েও অনেক কম হতে পারে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের ৫ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনটিই অর্জিত হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিয়ে হিসাব করা জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলনকেও অবশ্য ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকনোমিস্ট ড.জাহিদ হোসেন। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, করোনার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা, তাতে এত প্রবৃদ্ধি হওয়া সম্ভব নয়। করোনার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে ‘নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি’ প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি ১ থেকে ২ শতাংশও অর্জিত হয়, সেটিকেও অনেক ভালো অর্জন বলা যাবে। সেই জায়গায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রাক্কলন বিশ্বাসযোগ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

কেন বিশ্বাসযোগ্য নয়— এর পেছনে যুক্তি দেখিয়ে ড. জাহিদ বলেন, প্রবৃদ্ধি তো এমনি এমনি হয় না। এটি নির্ভর করে রফতানি, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োয়ের ওপর। কিন্তু করোনার কারণে রফতানি, রেমিট্যান্সের অবস্থা ভালো নয়। ব্যক্তি বিনিয়োগসহ সব ধরনের বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে কৃষি উৎপাদন কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে এই নয় যে শুধু কৃষি দিয়েই এত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। তাছাড়া কৃষি বলতে তো শুধু ধান নয়, পোল্ট্রি-মৎস্য, প্রাণিসম্পদও যুক্ত আছে। করোনার কারণে সেগুলোর বাজার ব্যবস্থাপরাতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে আমি বলব, ৫ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন উচ্চাভিলাষী।

প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যা বলছে

বিজ্ঞাপন

করোনভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রাক্কলন করে আসছিল। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক গত ১২ এপ্রিল ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানায়, করোনা পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আইএমএফ আবার পূর্বাভাস দিয়েছে, এর পরিমাণ নেমে আসতে পারে ২ শতাংশে। গত ১৪ এপ্রিল রাতে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ২০২০, দ্য গ্রেট লকডাউন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

তবে আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অবশ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে এত কম দেখছে না। তাদের মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৩ এপ্রিল প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন