বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ

June 3, 2020 | 10:28 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বেসরকারি বিশ্ববদ্যিালয়ের এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বিয়ে, আটকে রেখে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২ জুন) খিলগাঁও থানায় মোর্শেদ শাহরিয়ার নামে নরসিংদীর ওই ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। থানার একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) বিষয়টি অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে মামলা রেকর্ড করা হবে।’

এদিকে, ওই শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে ওই ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক মোর্শেদ শাহরিয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১৭ সালে তার সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করে এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মোর্শেদ ওই শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট কারে করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তার গ্রামের বাড়ির কাছে একটি হোটেলে নামিয়ে দেয়। এক সপ্তাহ পর কৌশলে তাকে সিলেটে নিয়ে যায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সঙ্গে মেলামেশা করে এবং বিভিন্নস্থানে নিয়ে রাত যাপন করে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বললে হাতে পায়ে ধরে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়।

বিজ্ঞাপন

এরপর, ২৩ মার্চ তাকে একটি কাজী অফিসে ৫ হাজার টাকা দেনমোহর উল্লেখ করে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। তাকে ডিভোর্স না দিলে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করবে বলেও হুমকি দেয়। ৩১ মে মোর্শেদ ওই শিক্ষার্থীর ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে এবং তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করে। মেলামেশার সেই দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। তাকে ডিভোর্স না দিলে ওইসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই অবস্থায় শিক্ষার্থী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়।

অন্যদিকে ওই শিক্ষার্থী সারাবাংলাকে বলেন, মোর্শেদ আগেও ছয়টি বিয়ে করেছে। ওইসব তথ্য গোপন রেখে তার সঙ্গে সম্পর্ক করে। তাকে ও তার পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এছাড়াও, নরসিংদীর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও মোর্শেদের ছয়টি বিয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি, ওই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোর্শেদ শাহরিয়ার বলেন, সে তার বৈধ স্ত্রী। সুবিধা হাসিলের জন্য এসব অপ্রপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দুটি বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার তৃতীয় স্ত্রী। এই বিয়ের ক্ষেত্রে আগের স্ত্রীদের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মোর্শেদ বলেন, অনুমতি নিয়েছেন। তাকে অনুমতির কপি দিতে বলা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সারাবাংলা/ইউজে/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন