বিজ্ঞাপন

মেয়র তাপসের অ্যাকশন, চাকরি যাওয়ার ভয় ডিএসসিসিতে

June 3, 2020 | 11:57 am

সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপর দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অনিয়ম বরদাশত করা হবে না হুঁশিয়ারি দিয়েই তিনজন কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুত করেছিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তার এমন উদ্যোগকে 'মেয়র তাপসের অ্যাকশন' হিসেবে দেখছেন নগরবাসী। পাশাপাশি এ উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা দক্ষিণের নতুন মেয়র তাপসের এমন পদক্ষেপের পর সংস্থাটির ভেতরে-বাইরে চলছে একটাই গুঞ্জন, নেক্সট কে? শুধু গুঞ্জন নয়, মেয়র তাপসের এমন অ্যাকশনের পর সংস্থাটিতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে কাজ করছেন। কখন যে কাকে চাকুরিচ্যুত করা হয় এমন আতঙ্কে রয়েছেন কেউ কেউ।

ডিএসসিসির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যারা এরইমধ্যে দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন এবং কাজে অবহেলা করেছেন, এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকটা আতঙ্ক নিয়েই কাজ করছেন তাদের কেউ কেউ।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিয়ে ডিএসসিসির মেয়র নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। এর সাড়ে তিন মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে ১৬ মে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেয়র তাপস। এদিন বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তাপস বলেছিলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।

পর দিন ১৭ মে সকালে ডিএসসিসির সকল স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মেয়র তাপস। বৈঠকে কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, অনিয়মে অভিযুক্ত যেই হোক না কেন কোনো ছাড় পাবে না। তার এমন হুঁশিয়ারির কয়েকঘণ্টা পর ওই দিন বিকেলেই জনস্বার্থে চাকুরিচ্যুত করা হয় সংস্থাটির দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্বপালনকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (বাজার সার্কেল) ইউসুফ আলী সরদারকে। এমন ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে সংস্থার ভেতর-বাইরে। এরপর ২০ মে আরও একজন রাজস্ব বিভাগের ‘বাজার সার্কেল-৩’-এর কর্মকর্তা আতাহার আলী খানকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এরপর শুরু হয় নানা গুঞ্জন। সেই সঙ্গে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় কর্মকর্তাদের মাঝে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির দুজন উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সারাবাংলাকে জানান, এতোদিন সংস্থার কর্মকর্তারা শুধু দেখে এসেছিলেন যে, অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন হয়। তারপর সে কমিটি রিপোর্ট দেয়। আর রিপোর্ট দিতে দিতে তারা আবার পারও পেয়ে যান। অথবা সাময়িক বরখাস্ত হন। কিন্তু নতুন মেয়র দায়িত্ব নিয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশনে' গিয়ে চাকরিচ্যুত করেছেন তিনজনকে। এমন একটা পরিস্থিতিতে যারা দুর্নীতিবাজ তাদের মধ্যে আতঙ্ক ভর করবে এটাই তো স্বাভাবিক।

জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে মেয়র তাপসের অ্যাকশনে কিছুটা ভাটা পড়লেও আবারও চমক আসতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এখনও চাকরি খোয়ানোর শঙ্কায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এরইমধ্যে ভাণ্ডার, প্রকৌশল ও পরিবহন খাতের কয়েকজন কর্মকর্তার বিষয়ে মেয়র তাপস খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহ মো. এমদাদুল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘কারও কারও বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এটা ঠিক। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় বলা সম্ভব নয়। শুধু এটুকু বলতে পারি, অনিয়ম কিংবা গাফলতি পেলে কেউ ছাড় পাবে না।’

মেয়র তাপসের এমন অ্যাকশনকে সাধুবাদ জানিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব সারাবাংলাকে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই মেয়র তাপস সাহেব যেটি করেছেন সেটিকে সাধুবাদ জানাই। তবে শুধুমাত্র তিনজনকে চাকুরিচ্যুত করে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা যেমন সম্ভব নয় তেমনি এমন ধারা অব্যাহত না থাকলে সুফল মিলবে না। যদি না এটির দীর্ঘমেয়াদি ফল না মেলে। কারণ আমরা দেখেছি প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর কীভাবে জ্বলে উঠেছিলেন এবং পরবর্তীতে জনগণের আস্থা অর্জনে কী করেছিলেন। তেমনটি করে দেখাতে হবে মেয়র তাপসকে।’

এ বিষয়ে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সারাবাংলা/এসএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন