বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের নামে সন্ত্রাস চলছে: ট্রাম্প

June 3, 2020 | 3:38 pm

ছাবেদ সাথী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

নিউইয়র্ক: মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তৈরি হওয়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের 'অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী' বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (২ জুন) এ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের আচরন এখন আর শান্তিপূর্ণ নেই। এই অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছে এবং এটি মানবতার জন্য অবমাননাকর ও মারাত্মক অপরাধ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যারা এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদেরকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে কারাভোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের শহর মিনিয়াপোলিসে পুলিশ হেফাজতে নির্মমভাবে খুন হন কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড। প্রকাশ্য শহরের রাস্তায় ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে ফ্লয়েডকে হত্যা করেন ৪৪ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার ডেরেক চৌভিন।

তারপর থেকেই, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে ২০ হাজার ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহিংসতা মোকাবেলায় কমপক্ষে ২৮টি রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ওয়াশিংটনেও সেখানকার ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২ জুন) কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের দ্বিমতের কারণে বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েন সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভ চলাকালে পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পর থেকেই পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে আরও উত্তেজনা বেড়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, সোমবার (১ জুন) শেষ রাতের দিকে নিউইয়র্কে বিক্ষোভকারীরা সুপারস্টোরের জানালা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি স্ট্রিপ মলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এছাড়াও, মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্ট লুইসে চার পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন এবং লাস ভেগাসে গুলিবিদ্ধ এক পুলিশকর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্যদিকে, নিউইয়র্কের ডেমোক্রেট দলীয় গভর্নর অ্যান্ড্রিউ কৌমোর সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, লুটপাটকারী, ডাকাত, র‍্যাডিকেল বাম এবং অন্যান্য নিম্নশ্রেণির কাছে হেরে গেছে নিউইয়র্ক। গভর্নর সেনাবাহিনী মোতায়েনে আমার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিউ ইয়র্ককে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।

যদিও, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে বামপন্থীদের নেপথ্যে থাকার দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

এ ব্যাপারে কৌমো বলেছেন, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় তিনিও ক্ষুব্ধ। শহরের মেয়র ও পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। মেয়র বিল ডে ব্ল্যাসিও সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি বলে তিনি মনে করেন।

পাশাপাশি, সেনা মোতায়েনে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে কৌমো বলেন, নিউ ইয়র্কের জমায়েত মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ না থাকা বাহিনী যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ বাহিনী দ্য ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ লেঙ্গিয়েল বলেছেন, বিভিন্ন শহরে সহিংসতা কমে আসতে শুরু করেছে। যদিও বিক্ষোভ আগের মতোই আছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে কোনও সেনা সদস্য আহত হয়নি।

ওই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, ২৯ অঙ্গরাজ্যে ১৮ হাজার সেনাসদস্য স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করছে। এবং প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে এই সংখ্যা বাড়ছে।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন