বিজ্ঞাপন

ভুল করে পাওয়া সরকারি সহায়তার টাকা ফিরিয়ে দিলেন ছাত্রলীগ নেতা

June 4, 2020 | 12:28 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতিতে দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তার ২৫০০ টাকা চলে গিয়েছিল একজন ছাত্রলীগ নেতার ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে। পরে সরকারের উচ্চ মহলের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সুবিধাভোগীকে খুঁজে বের করেছেন তিনি। তার হাতে তুলে দিয়েছেন অর্থ সহায়তার সেই টাকা।

বিজ্ঞাপন

অনন্য এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সেই ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দোয়ারাবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখার আহ্বায়ক তিনি।

জানা গেছে, গত ২৫ মে সরকারের মানবিক সহায়তার আড়াই হাজার টাকা তার ’নগদ’ অ্যাকাউন্টে চলে যায়। নিজে তালিকাভুক্ত না হলেও মোবাইল নম্বরের একটি ডিজিট ভুল হওয়ার কারণেই ওই টাকা তার অ্যাকাউন্টে চলে যায়। তবে টাকা পাওয়ার পর থেকেই প্রকৃত সুবিধাভোগীকে খুঁজতে থাকেন দেলোয়ার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি দেলোয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ইমেইল ঠিকানা নিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকেও।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ড. কায়কাউস ইমেইল পেয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যাটি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং সরকারের এই মানবিক সহায়তার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত আনেন। পরে প্রকৃত পাওনাদার লাকি আক্তারকে খুঁজে বের করে তার কাছে টাকা পৌঁছে দেন।

দেলোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ঈদের আগে ২৫ মে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আমার নম্বরে ওই টাকা চলে আসে। আমার তো এই টাকা পাওয়ার কথা ছিল না। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকাটা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে আছেন, ছুটির পর আমার বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

দেলোয়ার বলেন, ইউএনও পরে ফোন করে জানান, তিনি বিষয়টি দেখছেন। পরে আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে মেইল করে বিষয়টি জানাই। পরে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঘণ্টাখানেক পর জানান, সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠাতে হবে। সে অনুযায়ী আমি টাকাটা পাঠিয়ে দেই।

এদিকে, দেলোয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর পর ওই টাকা কার পাওয়া কথা ছিল, তাকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহযোগিতা নিয়ে প্রকৃত পাওনাদার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা লাকি আক্তারকে খুঁজে বের করা হয়।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছিল। বলা হয়, ভুলে দেলোয়ার হোসেন নামে একজনের কাছে টাকাটা চলে গেছে। তিনি সঠিক ব্যক্তি নন। টাকাটা লাকি আক্তার নামে একজনের পাওয়ার কথা ছিল। মোবাইল নম্বরের একটি ডিজিট ভুল হওয়ার কারণে ওই টাকা দেলোয়ার হোসেনের কাছে চলে যায়। দেলোয়ার টাকাটা ফেরত দিতে চাইলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করি। পরে লাকি আক্তারকে খুঁজে বের করে তাকে টাকা পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজ হারিয়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়া ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। মানবিক এই সহায়তা কার্যক্রমে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা খরচ হয়। মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবা নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে এই টাকা সুবিধাভোগীদের হিসাবে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন